এক দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, দু-এক টাকা কর ছাড় দিয়ে কোনও লাভ হয় না। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই মঙ্গলবার নবান্নে দাঁড়িয়ে পেট্রল ও ডিজেলের উপর থেকে আপাতত লিটার প্রতি এক টাকা করে কর-ছাড়ের কথা ঘোষণা করলেন তিনি। আজ, বুধবার সকাল ৬টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে বলে তেল সংস্থাগুলি জানিয়েছে। বিরোধীদের কটাক্ষ, পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান-সহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন ও চাপের মুখে পড়েই এভাবে ‘মুখরক্ষা’র চেষ্টা করেছে রাজ্য সরকার।

তেলের দাম কমানোর কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা কোনও কর বাড়াইনি। সেসও বাড়াইনি। যে সব রাজ্যে ভোট আছে তারা এক টাকা থেকে দেড় টাকা করে দাম কমাচ্ছে। আমরা কিছু সময়ের জন্য এক টাকা ছাড় দিলাম।’’ সূত্রের খবর, মূল বিক্রয়কর থেকে এই এক টাকা ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

এ দিন রাত পর্যন্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি না হলেও মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই তেল সংস্থাগুলি বুধবার থেকে এক টাকা কমিয়ে পেট্রল ও ডিজেলের দাম ধার্য করে দিয়েছে। সকাল ছ’টা থেকে নতুন দামে তেল মিলবে বলে তেল সংস্থার সূত্রে খবর। যেমন কলকাতায় ইন্ডিয়ান অয়েলের পাম্পে লিটার প্রতি পেট্রলের দাম হবে ৮২টাকা ৭৪পয়সা, ডিজেলের ৭৪টাকা ৮২পয়সা।

গত কয়েক মাস ধরেই পেট্রল-ডিজেলের চড়া দাম নিয়ে দেশ জুড়ে বিতর্ক চলছে। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার দেশ জোড়া বন‌্ধ ডেকেছিল কংগ্রেস-সহ বিরোধী অনেক দল। এর মধ্যে কেরল, রাজস্থান ও অন্ধ্রপ্রদেশও বিক্রয়কর কমিয়েছে।

সরকারি সূত্রের খবর, পেট্রল ও ডিজেলের মূল দামের উপর প্রথমে কেন্দ্রীয় শুল্ক চাপে। তারপর এ রাজ্যে পেট্রল ২৫% ও ডিজেলের উপরে ১৭% হারে বিক্রয়কর চাপে। এর সঙ্গে সেস ও ডিলারদের কমিশন ধরে মোট দাম ঠিক হয়। অর্থাৎ, বিশ্ব বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তেলের মূল দাম বাড়লে রাজ্যের বিক্রয়কর বাবদ মোট আয়ও বাড়ে। রাজ্যগুলি কেন্দ্রের কাছে শুল্ক হ্রাসের দাবি তুললে কেন্দ্র সেই বাড়তি আয়ের যুক্তিতেই রাজ্যগুলিকে কর কমানোর জন্য পাল্টা দাবি জানায়।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্র নিজেদের রেকর্ড ঠিক রাখতে মানুষকে বিপদে ফেলে দাম বাড়াচ্ছে। ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পেট্রলের দাম বেড়েছে ১৬ টাকা ৪৮ পয়সা। আর ডিজেলে বেড়েছে ২৪ টাকা ৪৬ পয়সা।

বিরোধীরা অবশ্য এর পিছনে রাজ্যের ‘রাজনীতি’ দেখছে। বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তীর কথায়, ‘‘দুর্গাপুজোর জন্য সরকারি কোষাগার থেকে ২৮ কোটি টাকা দিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন। তাই কি এখন পিঠ বাঁচানোর জন্য তেলের দামে এক টাকা ছাড়?’’ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের বক্তব্য, ‘‘বন্‌ধের চাপেই এই সিদ্ধান্ত।’’ বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানও বলেন, ‘‘দেরি করে একটা রসিকতা করা হল মানুষের সঙ্গে! ’’ বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিংহের প্রতিক্রিয়া, ‘পুজোয় টাকা বিলোনোর জন্য লোকের নিন্দার মুখে তেলে এক টাকা ছাড় দিলেন!’’