‘পরিবর্তিত পরিস্থিতি’তে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে বসিরহাটকে দ্রুত নতুন জেলা হিসেবে তৈরির কথা ভাবছে নবান্ন। এই প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর টেবিলে জমা পড়েছে। তবে কবে, কী ভাবে, তা ঘোষণা হবে এবং নতুন জেলা হিসেবে বসিরহাট আত্মপ্রকাশ করবে, সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই।

নবান্নের এক পদস্থ কর্তার কথায়, ‘‘উত্তর ২৪ পরগনা বিরাট বড় জেলা। সম্প্রতি বাদুড়িয়া-বসিরহাটে সংঘর্ষের পরে বোঝা যাচ্ছে, পৃথক জেলা হলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সুবিধা মিলবে।’’ নবান্নের একাংশের কর্তারা জানাচ্ছেন, বছর দুয়েক আগে সুন্দরবনের সঙ্গে বসিরহাটকেও নতুন জেলা করার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্টের সবুজ সঙ্কেত না মেলায় সেই প্রস্তাব কার্যত চাপা পড়ে যায়। গত কয়েক দিনের ঘটনার পরে বসিরহাটকে নতুন জেলা হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা ফের নড়েচড়ে বসেছেন ।

প্রাথমিক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বসিরহাট পুরোদস্তুর জেলা হলে তাতে দু’টি মহকুমা থাকবে। বসিরহাট (সদর) এবং মিনাখাঁ। জেলায় দশটি ব্লক থাকবে— দেগঙ্গা, বাদুড়িয়া, বসিরহাট-১, বসিরহাট-২, হাড়োয়া, হাসনাবাদ, মিনাখাঁ, হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি-১ এবং সন্দেশখালি-২। রাজ্য পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘নতুন জেলা হলে যে ক’টি থানা রয়েছে, সেগুলিই থাকবে। এখনই থানা বাড়ানোর কোনও ভাবনা নেই।’’ ওই কর্তার কথায়, ‘‘নতুন জেলা হলে প্রশাসনিক ভাবে অনেক সুবিধে মিলবে। বারাসত থেকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের চেয়ে বসিরহাট থেকে তা করা অনেক বেশি সুবিধাজনক।’’

সুন্দরবনকে নতুন জেলা ঘোষণার পরে তার মধ্যেই বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ এবং সন্দেশখালির কিছু অংশকে আনার ভাবনা ছিল। কিন্তু বসিরহাট পূর্ণাঙ্গ জেলা হলে ওই তিনটি ব্লকের পুরোটাই এই জেলায় রাখার কথা ভাবা হচ্ছে।

বছরখানেক আগে বসিরহাটকে পৃথক জেলা করার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার কিছু দিন পরে বসিরহাটকে স্বাস্থ্যজেলা হিসেবে ঘোষণাও করা হয়। কিন্তু ভাটা পড়ে যায় পৃথক পূর্ণাঙ্গ জেলা তৈরির কর্মকাণ্ডে। সম্প্রতি বাদুড়িয়া, বসিরহাটে হিংসাত্মক ঘটনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ যে ভাবে ব্যর্থ হয়েছে, তাতে ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী। বসিরহাট নতুন জেলা হলে ভবিষ্যতে এমন সমস্যা অনেকটাই সামাল দেওয়া যাবে বলে মনে করছেন রাজ্য পুলিশের কর্তারা।