বৃহস্পতিবারই ঘোষণা করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য সরকার। প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের পে ব্যান্ড টু থেকে থ্রি-তে নিয়ে যাওয়া হল। অপ্রশিক্ষিতদের পে ব্যান্ড পরিবর্তন না হলেও বাড়ানো হল গ্রেড পে। সরকারের সিদ্ধান্তে খুশি প্রাথমিক শিক্ষকেরা। পাশাপাশি, বেতনবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠনও। বেতনবৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তির পরই অনশন তুলে নিলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা।

নজরুল মঞ্চে তৃণমূলের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের এক অনুষ্ঠানে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছিলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড পে বাড়িয়ে অন্তত ৩২০০ টাকা করা হবে। সেটা যাতে ৩৬০০ টাকা করা যায়, সে প্রস্তাবও তিনি অর্থ মন্ত্রকে পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। শুক্রবার অর্থ দফতর থেকে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। তাতে দেখা যাচ্ছে, এক ধাক্কায় বেতন অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে।

সেই বৃদ্ধি কী রকম? প্রাথমিক শিক্ষকেরা ছিলেন পে ব্যান্ড টু-তে। তাতে ২১০০ টাকা, ২৩০০ টাকা, ২৬০০ টাকা, ২৯০০ টাকা এবং ৩১০০ টাকা— এই পাঁচ রকমের গ্রেড পে ছিল। এর মধ্যে প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের উত্তরণ ঘটানো হল পে ব্যান্ড থ্রি-তে। পে ব্যান্ড থ্রি-তে আবার চার রকমের গ্রেড পে রয়েছে। ৩২০০ টাকা, ৩৬০০ টাকা, ৩৯০০ টাকা এবং ৪১০০টাকা। প্রশিক্ষিত প্রাথমিক শিক্ষকরা এত দিন ২৬০০ টাকার গ্রেড পে-তে ছিলেন। পে ব্যান্ড থ্রি হওয়ায় তাঁরাই এ বার থেকে ৩৬০০ টাকার গ্রেড পে পাবেন। প্রধান শিক্ষক হলে পাবেন ৩৯০০ টাকার গ্রেড পে। আর চাকরির মেয়াদ অন্তত ১৮ বছর হয়েছে এবং বর্তমানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত এমন শিক্ষকরা বেতন পাবেন ৪১০০ টাকার পে ব্যান্ডে।

অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে অবশ্য পে ব্যান্ডে বদল হয়নি। তবে বেতন বেড়েছে গ্রেড পে-র হিসেবে। এই শ্রেণির শিক্ষকরা এত দিন ২৩০০ টাকার গ্রেড পে-তে বেতন পেতেন। তাঁদের এই গ্রেড পে বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৯০০ টাকা।

আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় হারেই ডিএ, স্যাটের রায় মানবে তো সরকার? জয়োল্লাসেও শঙ্কার মেঘ সব কর্মী সংগঠনে

আরও পড়ুন: চিঠির লড়াই! অপর্ণাদের স্বঘোষিত অভিভাবক বলে তোপ, পাল্টা খোলা চিঠি ৬১ বিশিষ্ট জনের

বৃহস্পতিবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘোষণার পর অনশনরত প্রাথমিক শিক্ষকেরা আন্দোলনের রাস্তা থেকে সরে আসতে রাজি ছিলেন না। তবে শুক্রবার বিজ্ঞপ্তি জারির পর তাঁরা অনেকটাই নমনীয়। আন্দোলনকারী সংগঠন ‘উস্তি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর কোর কমিটির সদস্য অনুপ সাহু বলেন, ‘‘অনশন তুলে নেওয়া হচ্ছে। কারণ আমাদের যে ১৪  জন সহকর্মীকে প্রতিহিংসামূলক বদলি করা হয়েছিল, তাঁদের নিজেদের এলাকায় ফেরানোর দাবি মেনে নিয়েছে সরকার। বেতনবৃদ্ধির ঘোষণায় সারা দেশের শিক্ষকদের হারে বেতন না হলেও অনশনকারীদের শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখেই আপাতত এই বেতন বৃদ্ধিতেই অনশন প্রত্যাহার করছি।’’

সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইমারি ট্রেনড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পিন্টু পাড়ুই বলেন, ‘‘এই বেতনবৃদ্ধিকে আপাতত আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু পিটিটিআই সার্টিফিকেট থাকা সত্ত্বেও যাঁরা চাকরি পাননি, তাঁদের অবিলম্বে চাকরি দেওয়ার দাবি থেকে আমরা সরে আসছি না।’’