ট্রেন বন্ধ। বৃহস্পতিবার বাস সবে চালু হতে শুরু করেছে। উড়ানই প্রধান ভরসা।

এই অবস্থায় বিমান সংস্থাগুলি বাগডোগরায় আটকে পড়া যাত্রীদের কাছ থেকে প্রচুর ভাড়া নিচ্ছে বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে এ দিনই বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের সচিব আর এন চৌবেকে চিঠি দিয়ে নালিশ জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যসচিব মলয় দে তাঁর চিঠিতে বন্যা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, জাতীয় সড়কের অবস্থা খারাপ। রেললাইন ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত। উড়ানই প্রধান ভরসা। কিন্তু অবস্থার সুযোগ নিয়ে যথেচ্ছ ভাড়া হাঁকছে বিমান সংস্থাগুলি।

রাজ্যের তরফে বিমান মন্ত্রকের সচিবকে অনুরোধ করে ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, কলকাতা-বাগডোগরা রুটে যাতে অতিরিক্ত উড়ান চালানো হয় এবং ভাড়া যাতে কম নেওয়া হয়, তার জন্য তিনি যেন সব বিমান সংস্থাকে অনুরোধ করেন।

উল্লেখযোগ্য ভাবে, এ দিন সন্ধ্যার পরেই নেটে বাগডোগরা-কলকাতা রুটের টিকিটের দাম কমে যায়। বিকেলে যে-টিকিটের দাম প্রায় ১৪ হাজার টাকা ছিল, সন্ধ্যার পরে তা কমে হয় ৮২০০ টাকা।

রাজ্যের চিঠি দিল্লিতে পৌঁছনোর আগেই অবশ্য স্পাইসজেট জানিয়ে দিয়েছিল, শনি-রবিবার কলকাতা-বাগডোগরা রুটে তারা একটি করে অতিরিক্ত বিমান চালাবে। ৭০ আসনের এই বম্বাডিয়ার কিউ ৪০০ বিমান কলকাতা থেকে ভোরে ছেড়ে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে বাগডোগরায় পৌঁছবে। বাগডোগরা থেকে ছাড়বে সাড়ে ৭টায়। এই বিমানের টিকিট স্পাইসের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন: বাসে বাড়ির পথে রেলের আটক যাত্রীরা

বৃষ্টি থামলেও রেল যোগাযোগ বিপর্যস্ত। তাই প্রতিদিন প্রচুর মানুষ বাগডোগরা বিমানবন্দরে গিয়ে উড়ানের খবর নিচ্ছেন। তাঁদের সকলেরই কলকাতায় ফেরার কথা। ট্রেনের টিকিট ছিল অনেকেরই। সেই ট্রেন বাতিল হয়ে গিয়েছে। বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে তাঁরা আতান্তরে পড়ে কোনও ভাবে কলকাতায় ফিরতে চাইছেন তাঁরা। অনেকেই অবশ্য আকাশছোঁয়া টিকিটের দাম শুনে পিছিয়ে আসছিলেন। বুধবারেই শিলিগুড়ির মেয়র তথা বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্যকে ১১ হাজার টাকার টিকিট কেটে কলকাতায় জরুরি কাজে যেতে হয়েছিল। এ দিন শিলিগুড়িতে ফিরেই রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুকে চিঠি দিয়ে রেল পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার আবেদন জানান তিনি। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, বিমানের টিকিটের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে।

রবিবারের পর থেকে ক্রমাগত বাড়ছিল বিমান টিকিটের দাম। শেষ মুহূর্তে যাঁরা বাগডোগরায় টিকিট কাটতে চাইছেন, তাঁদের কাছে প্রতিটি টিকিটের জন্য ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছিল। বাগডোগরা বিমানবন্দর সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার জেট এয়ারওয়েজের একটি টিকিট ২৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেটি অবশ্য বিজনেস শ্রেণির টিকিট। সরাসরি বাগডোগরা-কলকাতা উড়ানের টিকিট না-পেয়ে বেশ কয়েক জন ২০-২২ হাজার টাকা খরচ করে দিল্লি ঘুরে কলকাতায় ফিরছেন।

সন্ধ্যার পরে নেট ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, আজ, শুক্রবার থেকে টিকিটের দাম অনেকটাই কমে যাচ্ছে। ইন্ডিগো জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাদের টিকিটের দাম ৮৫০০ টাকার মধ্যে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। বাগডোগরা বিমানবন্দরের অধিকর্তা রাকেশ সহায় এ দিন জানান, বৃহস্পতিবার বাগডোগরা থেকে ৩০৬১ জন উড়ে গিয়েছেন। গত কয়েক দিনে গড়ে ২৮০০-র বেশি যাত্রী হয়েছে। এত যাত্রী সামলাতে, মূলত বিমানবন্দরের শৌচালয় পরিষ্কার রাখতে অতিরিক্ত কর্মীদের কাজে লাগানো হচ্ছে।