লক্ষ্য না থাকলে উদ্দেশ্যপূরণ হয় না। আর তাই লক্ষ্য স্থির করে ভোটার তথ্য যাচাই কর্মসূচির (ইভিপি) গতি বাড়াতে চায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার (সিইও) দফতর। 

এ রাজ্যে ইভিপি’র মেজাজ ছিল টেস্ট ওপেনার হিসাবে ঝড় তোলা রোহিত শর্মার মতো। কিন্তু সেই মেজাজে ভাটা পড়ছে। বরং ফর্ম হারানো ব্যাটসম্যানের মতো অবস্থায় রয়েছে এখনকার বঙ্গের ইভিপি। তাই ফর্ম ফেরাতে লক্ষ্য বাঁধল সিইও দফতর। সোমবার দুপুরে ভিডিয়ো কনফারেন্সে ভোটার তথ্য যাচাই কর্মসূচির অগগ্রতি নিয়ে জেলাশাসকদের সঙ্গে দেড় ঘন্টা বৈঠক করেন সিইও আরিজ আফতাব। ছিলেন দফতরের অন্য পদস্থ কর্তারা। 

জেলাশাসকদের বৈঠকে ইভিপি শেষ করার জন্য লক্ষ্য স্থির করেছে সিইও দফতর। সকলের জন্য সমান নয়। কারণ, বিভিন্ন জেলার অগগ্রতি বিভিন্ন রকম। সেই অগগ্রতিকে বিচার করেই লক্ষ্য বেঁধেছেন সিইও দফতরের কর্তারা। যে জেলায় যেমন ভোটারের তথ্য যাচাই বাকি রয়েছে, সেই সংখ্যাকে হাতে থাকা দিন (১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা স্থির করেছে কমিশন) দিয়ে ভাগ করা হয়েছে। সেই ভাগ অনুযায়ী ‘ডেলি টার্গেট’ দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন জেলাকে। 

ইভিপি’তে গতি বাড়াতে বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) তৎপরতা বাড়াতে জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন সিইও। ভোটার সহায়তা কেন্দ্রকে আরও সক্রিয় করার কথা বলেন সিইও-সহ অন্য কর্তারা। এ ক্ষেত্রে বিএলও অ্যাপ কাজে লাগানোর প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। নেটওয়ার্কের সমস্যা থাকলে অফলাইনে ভোটারদের কাছ থেকে তথ্য জোগাড় করে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় বসে কাজটি শেষ করবেন বিএলও। 

ইভিপি’র অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে সিইও-সহ অন্য কর্তারা সরাসরি জেলায় পৌঁছচ্ছেন। আজ, মঙ্গলবার থেকেই সেই জেলা সফর শুরু হওয়ার কথা। সাধারণত, ভোট পর্বে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে জেলায় জেলায় যান তাঁরা। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে এ ভাবে সিইও-সহ অন্যদের জেলা সফরের কথা প্রশাসনের অনেকেই মনে করতে পারছেন না।