নারদ কাণ্ডে বড় ধাক্কা খেতে পারে রাজ্য সরকার। সিবিআই-এর হাতে চলে যেতে পারে নারদ কাণ্ডের তদন্তের ভারও। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখার কোনও প্রয়োজন রয়েছে বলে রাজ্য সরকার মনে করছে না, প্রধান বিচারপতির এজলাসে আজ এমনই মন্তব্য করেন অ্যাডভোকেট জেনারেল জয়ন্ত মিত্র। রাজ্যের এই অবস্থানের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রের মন্তব্য, রাজ্য যখন তদন্ত করতে চায় না, তখন কোনও নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়েই এই মামলার তদন্ত করাতে হবে।

আজ, শুক্রবার বিকেলের মধ্যেই নারদ কাণ্ডের তদন্তের বিষয়ে রায় ঘোষণা করবেন কলকাতা হাইকোর্টের অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রে। সকাল থেকেই তাঁর এজলাসে বিষয়টি নিয়ে শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরু থেকেই অ্যাডভোকেট জেনারেল জয়ন্ত মিত্র এই মামলার তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার বিরোধিতা করছিলেন। তাঁর সওয়াল, নারদ নিউজের স্টিং অপারেশন জনমানসে কোনও প্রভাব ফেলেনি। স্টিং ভিডিওতে টাকা চাওয়ার কোনও প্রমাণ মেলেনি বলেও জয়ন্ত মিত্র মন্তব্য করেন। অ্যাডভোকেট জেনারেলের ব্যাখ্যা, যে টাকা নেওয়ার ছবি দেখা গিয়েছে, তা দলীয় তহবিলের জন্য অনুদান হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। অনুদান নেওয়ার কোনও অপরাধ নেই। সেই কারণেই এই স্টিং ভিডিও নিয়ে তদন্ত করার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই।

প্রধান বিচারপতি কিন্তু অ্যাডভোকেট জেনারেলের এই যুক্তি মেনে নেননি। তিনি জানান, আদালতের সামনে যে সব তথ্য-প্রমাণ পেশ হয়েছে, তা তদন্তের দাবি রাখে। তহলকা কাণ্ডের দৃষ্টান্ত টেনে প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রে বলেন, ‘‘বঙ্গারু লক্ষণের মামলাতেও স্টিং ভিডিওয় টাকা চাওয়ার প্রমাণ মেলেনি। তবুও ঘুষ নেওয়ার মামলা হিসেবেই তার তদন্ত হয়েছিল।’’

আরও পড়ুন: সিবিআই নোটিস পাঠালে জবাবের প্রয়োজন নেই, নেত্রীর নির্দেশ

নারদ নিউজের কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েলের কৌঁসুলি অরুণাভ ঘোষ বলেছেন, ‘‘প্রধান বিচারপতি নারদ কাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব প্রথমে রাজ্যের পুলিশকেই দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অ্যাডবোকেট জেনারেল জানিয়ে দেন, এর তদন্তের কোনও প্রয়োজনই নেই। তার পরেই প্রধান বিচারপতি বলেন, রাজ্য যখন তদন্ত করতে চায় না, তখন অন্য কোনও নিরপেক্ষ সংস্থাকে দিয়েই তদন্ত করাতে হবে।’’

নারদ নিউজের স্টিং কাণ্ডের তদন্ত হবে কি না, তদন্ত হলে তার দায়িত্ব কারা পাবে, সে বিষয়ে আজ বিকেলের মধ্যেই রায় ঘোষিত হওয়ার কথা। এই ঘটনার তদন্তেও সিবিআই-এর ডাক পড়তে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। সারদা এবং রোজভ্যালি কাণ্ডের সিবিআই তদন্ত নিয়েই নাজেহাল রাজ্যের শাসক দল। এর পর নারদ কাণ্ডের তদন্তের ভারও যদি সিবিআই-এর হাতে যায়, তা হলে রাজ্য সরকার তথা তৃণমূলের অস্বস্তি কিন্তু আরও বাড়বে। অ্যাডভোকেট জেনারেল তদন্তের প্রয়োজনীয়তাকে গোড়া থেকেই নস্যাৎ করার চেষ্টা না করলে, নারদ কাণ্ডের তদন্তের ভার রাজ্য পুলিশ বা সিআইডি-র হাতেই থাকতে পারত বলেও মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ।