কেন্দ্রের সঙ্গে কার্যত পূর্ণ অসহযোগিতার পথ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘অসত্য প্রচারে’র অভিযোগ তুলে নবান্নকে দিল্লির সঙ্গে সংঘাতে যাওয়ার সঙ্কেত দিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, রাজ্য সরকারের প্রকল্প সম্পর্কিত কোনও তথ্য এ বার থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে পাঠানো হবে না।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে বৃহস্পতিবার সরকারি আধিকারিকদের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকারের পোর্টালে রাজ্যের কোনও দফতরের তথ্য-পরিসংখ্যান দেবেন না। তা নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে! নিজেদের প্রচার করছে। এটা এখানে আমরা করতে দেব না।’’ রাজ্যে চালু রাস্তা ও আবাসন প্রকল্পের নামেও ‘বাংলা’ শব্দটি জুড়ে দিতে সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রশাসনিক বৈঠকে এ দিন শস্য বিমা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু করেই দিল্লির ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘এই প্রকল্পের ৮০ ভাগ টাকা দিচ্ছি আমরা। আর ২০ ভাগ টাকা দিয়ে কেন্দ্র নিজেদের প্রচার করছে। কিছু ব্যাঙ্ক ও বিমা কোম্পানি এই রকম দালালি করছে! দিল্লির নেতাদের ছবি দিয়ে প্রচার করছে।’’ এই অভিযোগে বিজেপির দিকেও আঙুল তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা থেকে পাওয়া দু’টি তথ্যের উল্লেখ করে এই ধরনের ‘রাজনৈতিক তৎপরতা’ সম্পর্কে ব্লক থেকে রাজ্য স্তরের আধিকারিকদের নজর রাখতে বলেছেন।

পর্যালোচনা বৈঠকে এই বিষয়ে সচিব স্তরের এক আধিকারিক কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরের পোর্টালের তথ্যের কথা বলেন। তখনই তাদের দেওয়া তথ্যের প্রসঙ্গ টেনে সরকারি আধিকারিকদের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, ‘‘রাজ্যের সব দফতর নিজের পোর্টাল চালু করুক। কেন্দ্রকে কোনও পরিসংখ্যান (ডেটা) দেওয়ার দরকার নেই।’’ তাঁর কথায়, ‘‘ওরাও নির্বাচিত সরকার, আমরাও নির্বাচিত সরকার। আগে কখনও এ রকম হয়নি!’’

কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রকল্প নিয়ে দিল্লির বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগ এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ব্যাপারে তাঁর সিদ্ধান্ত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের দেওয়া টাকা তুলে নেব। রাজ্য ৮০% দিতে পারলে বাকি ২০%-ও দিতে পারবে!’’ মঞ্চে উপস্থিত রাজ্যের শীর্ষ আমলাদের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘‘কোনও তথ্য দেবেন না। দিল্লির পোর্টাল ভুলে যান।’’ সব দফতরকে তিন দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। জেলার ১০০ দিনের কাজে টাকা বকেয়া রাখার প্রসঙ্গেও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘অসহযোগিতা’র অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: ‘বোমা তৈরি তো দেখছি কুটিরশিল্প’, ক্ষুব্ধ মমতা

কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের অবশ্য পাল্টা অভিযোগ, ‘‘অসত্য বলে মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন! উনি বলার পরে আমি তথ্য যাচাই করেছি। শস্য বিমায় ২০১৬ সাল থেকে রাজ্য যা দেয়, কেন্দ্রও তা-ই দেয়।’’ দিলীপবাবুর সংযোজন, ‘‘ওঁর দলের লোকেরাই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নামের উপরে রাজ্যের স্টিকার লাগিয়ে নিজেরা কৃতিত্ব নিচ্ছে! উনি আবার অন্যদের কী বলছেন!’’