কথায় বলে—Legislature and Judiciary Lock Horns Democracy in Peril। আইনজীবিদের কর্মবিরতি আর তার জেরে আমজনতার হয়রানি দেখে মনে হতে পারে দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন।  মাসাধিক কাল ধরে আইনজীবীদের কর্মবিরতি প্রায় প্রতি বছরই ঘুরে ফিরে আসছে। 

পরিসংখ্যান নিলে দেখা যাবে প্রায় প্রতি বছরই প্রাকৃতিক নিয়মে, গরম পড়লেই কোনও না কোনও অজুহাতে আইনজীবীরা কর্মবিরতি করছেন, আর তার জেরে ঋতুবদলের মতোই শুরু হয়ে যায় কর্মবিরতি। বাৎসরিক পার্বণের মতো। 

এতে শুধু ‘বেল মুভ’ করা যাচ্ছে না তাই নয়, আগাম জামিন, সিভিল-ক্রিমিন্যাল ইত্যাদি মোকদ্দমা ফাইল, এফিডেভিট— সব ফাইল বন্দি থেকে যাচ্ছে।  আমজনতার প্রবল হয়রানি হচ্ছে।  কথায় বলে কারও পৌষ মাস কারও সর্বনাশ। 

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

কর্মবিরতিতে ছুটির আমেজে ঠান্ডা ঘরে বসে সহকর্মী আইনজীবী বন্ধুরা কি এক বারও পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখবেন যে, সংবিধান প্রস্তুতির সময়ে বিচার ব্যবস্থাকে কোনও অজুহাতে বিঘ্নিত না করার যে শপথ নেওয়া হয়েছিল, তা কোনও ভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে না তো?  

মাঝে মাঝে মনে হয়, আইনজীবী পেশার নামে এক শ্রেণির মানুষের লোভ ও দুর্ব্যবহারে গোটা  পেশাটা আজ হাস্যস্পদ হতে চলেছে। এক শ্রেণির আইনজীবী নিজেদের মানসম্মান বিসর্জন দিয়ে কালো কোটের আড়ালে পেশাটিকে এমন জায়গায় নামিয়ে এনেছেন যে, জীবনের শেষ  লগ্নে এসে আইনজীবী বলে পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ হয়।               

বহরমপুর আদালতের আইনজীবী

(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)