বাবার অবর্তমানে তিনিই জেলার সভাপতির দায়িত্ব পেতে পারেন বলে দলে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল।

কিন্তু বয়সে তরুণ সেই দাবিদারের পরিবর্তে মুর্শিদাবাদের পুরনো নেতা সুব্রত সাহার হাতেই মুর্শিদাবাদ জেলার দায়িত্ব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দিন কয়েক আগে প্রয়াত হন মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের সভাপতি ও সাংসদ মান্নান হোসেন। শুক্রবার ওই জেলার দলীয় পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী সভাপতি হিসেবে সুব্রতবাবুর নাম ঘোষণা করেন। পরিবর্তনের বাংলায় মুর্শিদাবাদ থেকে জোড়াফুলের প্রতীকে শুধুমাত্র সুব্রতবাবুই জিতে এসেছিলেন। মুর্শিদাবাদে অধীর চৌধুরীর গড়ে সুব্রতবাবুই কার্যত তৃণমূলের প্রথম থাবা বসিয়েছিলেন। দুর্দিনের এই তৃণমূল কর্মীকে মমতা তাঁর প্রথম মন্ত্রিসভায় মন্ত্রীও করেছিলেন। তবে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে রেজিনগরের তদানীন্তন কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ূন কবীর চলে এসেছিলেন তৃণমূলে। বিধায়ক পদে ইস্তফা দিয়ে মন্ত্রীও হন মমতা সরকারে। কিন্তু নিজেরই কেন্দ্রে উপনির্বাচনে ঘাসফুল প্রতীকে আর জিততে পারেননি হুমায়ূন। হুমায়ূনের এই পরাজয়ের পরেই মন্ত্রিত্ব হারান সুব্রতবাবু। হুমায়ূনকে জেতাতে না পারায় নেত্রী সুব্রতবাবুর উপর ‘ক্ষুণ্ণ’ হয়েছিলেন বলে তখন দলীয় স্তরে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল। তার পর থেকে কার্যত দলে ও জেলায় কোণঠাসাই ছিলেন সুব্রতবাবু।

দলের দায়িত্ব ধীরে ধীরে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে আসা মান্নান হোসেনের কাঁধে চলে যায়। জেলায় যুব তৃণমূলের দায়িত্বও মান্নানের পুত্র সৌমিকের হস্তগত হয়। সৌমিক যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেকের ঘনিষ্ঠ। ফলে মান্নানের মৃত্যুর পরে সৌমিককে নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল।

কিন্তু মুকুল রায় বিজেপিতে চলে যাওয়ার পর থেকেই দলের ‘পুরনো’ কর্মীদের যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে দলে রাখতে সচেষ্ট তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই প্রচেষ্টাতেই জেলার পুরনো কর্মী সুব্রতবাবুর হাতেই মুর্শিদাবাদের দায়িত্ব দেওয়া হল বলে তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের বক্তব্য।

তবে ‘নব্য তৃণমূল’দেরও একই সঙ্গে গুরুত্ব দিতে মন্ত্রী জাকির হোসেন এবং মান্নান-পুত্র সৌমিককে মুর্শিদাবাদ জেলার কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সৌমিক ওই জেলায় যুব সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকও। আগামী ২ ডিসেম্বর বহরমপুরে দলের তরফে মান্নান হোসেনের স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে বলে শুভেন্দু জানান। ওই স্মরণসভায় শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে শুভেন্দুর সঙ্গে ফিরহাদ হাকিমেরও উপস্থিত থাকার কথা।