নামেই দুপুরের খাবার। বরাদ্দ নগণ্য। সেটা বাড়ানোর দাবি উঠছিল দীর্ঘদিন ধরে। এত দিন পরে কেন্দ্রীয় সরকার স্কুলের মিড-ডে মিলের বরাদ্দ এতই সামান্য বাড়াল যে, বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে শিক্ষা শিবিরে। প্রাথমিকে পড়ুয়া-প্রতি ১৩ পয়সা এবং উচ্চ প্রাথমিকে পড়ুয়া-পিছু ২০ পয়সা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষক মহলের একাংশের বক্তব্য, এটা আদৌ কিছু না-বাড়ানোরই শামিল।

মিড-ডে মিলের জন্য এখন প্রাথমিকে পড়ুয়া-পিছু বরাদ্দ মোটে চার টাকা ৩৫ পয়সা! উচ্চ প্রাথমিকে ছ’টাকা ৫১ পয়সা। মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের স্কুলশিক্ষা বিভাগ সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মিড-ডে মিলে পড়ুয়া-পিছু বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হল প্রাথমিকে মাথাপিছু চার টাকা ৪৮ পয়সা এবং উচ্চ প্রাথমিকে ছ’টাকা ৭১ পয়সা। নিয়ম অনুযায়ী মোট বরাদ্দ অর্থের ৬০ শতাংশ দেয় কেন্দ্র আর বাকিটা দেয় রাজ্য। তবে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজ্যের তরফে মোট বরাদ্দ অর্থের যে-অংশ দেওয়া হয়, ইচ্ছা করলে রাজ্য সরকার সেটা বাড়াতে পারে।

নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে ছ’দিনই পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল দেওয়া হয়। তার মধ্যে সপ্তাহে অন্তত দু’দিন ডিম দেওয়ার কথা। উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের জন্য সয়াবিন এবং ডাল দেওয়া হয়। সঙ্গে থাকে তরকারি। তার সঙ্গে 

যোগ হয় ক্রমবর্ধমান রান্নার গ্যাসের খরচ। গত নভেম্বরে মিড-ডে মিলের জন্য সামান্য কিছু বরাদ্দ বেড়েছিল। তখনও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন শিক্ষকেরা। এ বারেও তাঁরা বেজায় ক্ষুব্ধ। প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শ্রীদাম জানা জানাচ্ছেন, চালের ব্যবস্থা করে সরকার। কিন্তু ডাল, আনাজ, সয়াবিন, ডিম এই টাকায় হয় না। তিনি বলেন, ‘‘এই ভাবে কয়েক পয়সা বাডানো রীতিমতো হাস্যকর।’’ বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের দাবি পড়ুয়া-পিছু মিড-ডে মিলের বরাদ্দ অন্তত ১০ টাকা করা হোক।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।