বিএড না-থাকলে ‘ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন’ বা ডিএলএড প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও বেতন বাড়ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন ডিএলএড শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ। তাঁরা জানান, দু’বছর ধরে এই ধরনের সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার বেতন বাড়ানো হচ্ছে না।

ওই শিক্ষকেরা জানান, স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) পরীক্ষার ফল বেরোয় ২০১২ সালে। পরের বছর তাঁরা চাকরি পান। নিয়োগের শর্ত ছিল, নিয়োগের দু’বছরের মধ্যে রাজ্য সরকার তাঁদের বিএড প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু ২০১৬ সালে নিয়ম হয়, বিএড প্রশিক্ষণের জন্য স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তরে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে। তার ফলে সাড়ে তিন হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা বিএড প্রশিক্ষণের সুযোগ হারান।

২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের উদ্যোগে প্রশিক্ষণহীন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য ডিএলএড ডিপ্লোমার আয়োজন করা হয়। সেই প্রশিক্ষণ শুরু হয় ২০১৮ সালে। ডিএলএড ডিপ্লোমাধারীদের বক্তব্য, প্রশিক্ষণ ছাড়া স্কুলে যোগ দিলে
পাঁচ বছর বেতন বৃদ্ধির সুবিধা মেলে। তবে তার মধ্যে প্রশিক্ষণ না-নিলে বেতন বৃদ্ধির সুবিধা আর পাওয়া যায় না। উদ্দীপ্ত পাল নামে পূর্ব মেদিনীপুরের এক শিক্ষক বলেন, ‘‘২০১৮ সালে ডিএলএড প্রশিক্ষণ নিলাম। কিন্তু ওই বছরেই বেতন বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।’’

মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, ‘‘শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ডিএলএড ডিপ্লোমাধারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সমস্যার কথা বলেছি। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিলেও এখনও সমস্যা মেটেনি।’’