সীমানা চিহ্নিত করা এবং নিরাপত্তার খাতিরে পাঁচিল দেওয়ার কথা সব স্কুলেই। তবে এত দিনের ইট-বালি-সিমেন্টের নিরেট প্রাচীরের জায়গায় এ বার ভাবা হয়েছে ‘সবুজ দেওয়াল’-এর কথা। ‘সবুজ দেওয়াল’ মানে গাছ লাগিয়ে স্কুল ঘিরতে উদ্যোগী হয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতর।

হঠাৎ এই পরিকল্পনা কেন?

স্কুলশিক্ষা দফতরের কর্তারা জানাচ্ছেন, গাছ লাগালে সবুজায়ন তো হয়ই। সেই সঙ্গে সবুজ হয়ে ওঠে দৃষ্টির শুশ্রূষা। ক্লাস থেকে সেই সবুজ দেওয়াল দেখা গেলে ছাত্রছাত্রীদের চোখ আরাম পাবে। যে-সব স্কুল ইতিমধ্যেই ইট-বালি-সিমেন্টের পাঁচিল দিয়ে ঘেরা হয়েছে, সেখানে দেওয়ালের ভিতর দিকে গাছ লাগিয়ে সবুজ দেওয়াল তুলতে বলা হবে।

স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানান, প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে গাছ লাগিয়ে সীমানা নির্দেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গাছ লাগানো এবং তার যত্ন নেওয়ার কাজে পড়ুয়াদের সক্রিয় অংশগ্রহণ চাইছে সরকার। তাতে পড়ুয়াদের পরিবেশ-সচেতনতা বাড়বে।

সর্বশিক্ষা মিশনের গত বছরের রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, অনেক স্কুলেই প্রাচীর নেই। নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তা এবং জমি রক্ষার স্বার্থে প্রতিটি স্কুলের সীমানা ঘিরে রাখা প্রয়োজন। কিন্তু অর্থাভাবে বহু স্কুলে ইট-বালি-সিমেন্টের প্রাচীর দেওয়া যায়নি। ওই সব ক্ষেত্রেই প্রথমে গাছ দিয়ে স্কুল ঘেরার কর্মসূচি শুরু হবে জানিয়েছে বিকাশ ভবন। বন দফতর থেকে গাছ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতরের। সেই প্রকল্পেরই নাম দেওয়া হয়েছে ‘সবুজ দেওয়াল’।

সবুজায়নের মাধ্যমে পরিবেশকে দূষণমুক্ত করাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য বলে জানাচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘স্কুলকে সবুজ দিয়ে ঘিরলে পরিবেশের পক্ষে সেটা যেমন স্বাস্থ্যকর হয়, তেমনই চোখের পক্ষে তা আরামপ্রদ।’’ বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সহ-সম্পাদক স্বপন মণ্ডল মনে করছেন, বিশেষ করে শহরের স্কুলগুলির কাছে এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।