এ যেন ‘ঠাকুর ঘরে কে’ বলার আগেই তড়িঘড়ি জানান দেওয়া— ‘আমি তো কলা খাইনি’! 

এখনও পর্যন্ত তাঁর বাড়িতে বিক্ষোভ হয়নি, কোনও প্রকল্পের উপভোক্তা তাঁর বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগও তোলেননি। সে সবের আগেই মেদিনীপুর শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী নির্দল কাউন্সিলর বিশ্বেশ্বর নায়েক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে জানিয়ে দিলেন, ‘‘আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, কোনও উপভোক্তার কাছ থেকে এক টাকাও নিইনি। ওয়ার্ডের কারও সঙ্গে কোনও রকম টাকাপয়সার লেনদেন করিনি।’’ তবু তাঁর বাড়িতে হামলা হতে পারে, তিনি বা তাঁর পরিজনেরা আক্রান্ত হতে পারেন, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্বেশ্বর। 

সোমবার সকালে নিজের ওয়ার্ড কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছিলেন এই কাউন্সিলর। শনিবারই পাশের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলর রোকাইয়া খাতুনের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সরকারি বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তারা। রোকাইয়ার বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ এনে সরব হয়েছেন তাঁরা। তারপরই এ দিন বিশ্বেশ্বরের ওই ঘোষণা ঘিরে শহরে জল্পনা শুরু হয়েছেছে। অনেকেরই প্রশ্ন, আগাম এ সব কেন বলার প্রয়োজন পড়ল! বিশ্বেশ্বরের দাবি, ‘‘কাটমানি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পরে একটা অন্য রকম পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিবেশ-পরিস্থিতি এমন যেন, সব কাউন্সিলরই কাটমানি নেয়। তা তো নয়।’’ তাঁর দাবি, ‘‘রাস্তাঘাট, নর্দমা থেকে গরিব মানুষের বাড়ি তৈরি, সব কাজই হয়েছে আমার এলাকায়। এক টাকাও কাটমানি নিইনি।’’ 

২০০৮ থেকে ২০১৩ এবং ২০১৩ থেকে ২০১৮, নির্দল হিসেবে দু’দফায় কাউন্সিলর ছিলেন বিশ্বেশ্বর। বিদায়ী বোর্ডে নির্দল কাউন্সিলর হিসেবে থাকলেও এ বার লোকসভা ভোটের আগে গোয়ালতোড়ে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় তৃণমূলে যোগ দেন বিশ্বেশ্বর। এ দিন অবশ্য তাঁর ঘোষণা, ‘‘আমি এখন কোনও দলের সঙ্গে যুক্ত নই। আমি নির্দল হিসেবেই মানুষের পাশে থাকতে চাই।’’  

এ কথা জেনে চমকে গিয়েছেন তৃণমূলের মেদিনীপুর শহর সভাপতি বিশ্বনাথ পাণ্ডব। বিশ্বেশ্বরের বাড়ি থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে বাড়ি বিশ্বনাথের। সোমবার দুপুরে তৃণমূলের শহর সভাপতির মন্তব্য, ‘‘বিশু তো আমাদের সঙ্গেই রয়েছে। কবে দল ছাড়ল! আমি জানি না তো!’’ সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘‘ওর বিরুদ্ধে কেউ কোনও অভিযোগই করেননি। তাও কাটমানি নিয়ে ও কেন আগাম এ সব বলতে গেল বুঝতে পারছি না!’’ 

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।