রাতে বাড়ির সামনে গুলিতে খুন হয়ে গেলেন তৃণমূলের কাউন্সিলর। খালেদ খান (৪০) নামে আসানসোল পুরসভার ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওই কাউন্সিলরকে শনিবার রাত পৌনে ১২টা নাগাদ মোটরবাইকে আসা তিন দুষ্কৃতী পরপর গুলি চালিয়ে চম্পট দেয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনা নিয়ে রবিবার অশান্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম বর্ধমানের বরাকর। বিক্ষোভ-অবরোধ চলে দফায়-দফায়।

নিহতের পরিবার তিন জনের নামে পুলিশে অভিযোগ করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তেরা ওই কাউন্সিলরের আত্মীয়। পুরনো পারিবারিক বিবাদের জেরেই খুন বলে তদন্তকারীদের অনুমান। তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, ‘‘দুষ্কৃতীদের চিনতে পেরেছেন পরিবারের লোকজন। থানায় অভিযোগ করেছেন।’’ আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের এডিসিপি (পশ্চিম) অনমিত্র দাস বলেন, ‘‘টিঙ্কু শেখ নামে এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বরাকরের মনবেড়িয়ায় রাতের খাওয়া সেরে অন্য দিনের মতোই বাড়ির সামনের রাস্তায় পায়চারি করতে বেরিয়েছিলেন খালেদ। তাঁর ভাই আরমান খান অভিযোগ করেন, আচমকা গুলির শব্দ শুনে তিনি বেরিয়ে দেখেন, মোটরবাইকে সওয়ার তিন আততায়ী দাদার দিকে গুলি ছুড়ছে। খালেদ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। খানিকটা এগিয়ে একটি চায়ের দোকানের সামনে পড়ে যান তিনি। তখন আততায়ীরা তাঁকে কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, নিহতের শরীর থেকে দু’টি গুলি মিলেছে। আরও দু’টি গুলি পা ছুঁয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। খালেদের পরিবারের দাবি, মনবেড়িয়ারই বাসিন্দা এক আত্মীয়ের পরিবারের সঙ্গে তাঁদের অনেক দিন ধরে বিবাদ চলছে। আরমানের অভিযোগ, ‘‘চার বছর আগে ওরা আমার বাবার হাতে কোপ মেরেছিল, দাদার দিকে গুলি ছুড়েছিল। তখন বেঁচে গেলেও এ বার রক্ষা হল না।’’

ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। টায়ার জ্বেলে রাস্তা অবরোধ হয়। বাসিন্দাদের দাবি, খালেদকে আগে খুনের চেষ্টা করা হলেও তাঁর জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি। অভিযুক্তদের এক জন যুব তৃণমূল কর্মী বলেও দাবি কিছু বাসিন্দার। বিজেপির জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের অভিযোগ, ‘‘এটা তৃণমূলের অন্তর্কলহের ফল।’’ তা অস্বীকার করে কুলটির তৃণমূল বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘খুনে জড়িতেরা যে-ই হোক, রেয়াত করা হবে না।’’