• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

কৃষি নিয়ে বিক্ষোভে মমতা, পথে বামেরাও

mamata
ফাইল চিত্র।

কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবারই কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই দাবিকে সামনে রেখে এবং দিল্লিতে কৃষকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজ্যে তৃণমূলের পথে নামার কর্মসূচিও এ বার বেঁধে দিলেন তিনি। কৃষি আইনের প্রতিবাদে কলকাতার মেয়ো রোডে আগামী ৮, ৯ ও ১০ ডিসেম্বর তৃণমূলের কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগঠন বিক্ষোভ-অবস্থান করবে। সেই কর্মসূচিতে ১০ তারিখ অংশগ্রহণ করার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। রাজ্যের অন্যত্রও প্রতিবাদ চলবে।

তৃণমূলের রাজ্য ও জেলা নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে শুক্রবার মমতা বলেছেন, নতুন আইনে কৃষি ও কৃষকদের সর্বনাশ হবে। সাধারণ মানুষেরও ক্ষতি হবে। তাই ওই আইন প্রত্যাহারের দাবিতে কৃষকদের আন্দোলনের পাশে থাকবে তৃণমূল। দিল্লিতে কৃষকদের অবস্থানে রাজ্যসভার তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনকে পাঠিয়েছেন মমতা। ডেরেকের ফোন থেকে কৃষকদের সঙ্গে তৃণমূল নেত্রী নিজে এ দিন কথাও বলেছেন। বৈঠকে এ দিন ঠিক হয়েছে, ৮ ও ৯ তারিখ কৃষির পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প বিক্রির প্রতিবাদে এবং শ্রমিক কর্মচারীদের স্বার্থে শিল্পাঞ্চলে কর্মসূচি নেবে দলের শ্রমিক সংগঠন।

 মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচিকে বিঁধে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ অবশ্য এ দিন চাঁপদানির সভায় মন্তব্য করেছেন, ‘‘কৃষি নীতি নিয়ে দিদিমণি রাজ্যের কৃষকদের নিয়ে রাস্তায় নামবেন বলেছেন। আমরা রাজ্যের কৃষকদের পাশে থেকে তাঁদের ন্যায্যমূল্য দিতে চাই। ফসলের দাম নিয়ে দুর্নীতি আটকাতে কেন্দ্রের কৃষি আইনই একমাত্র রাস্তা।’’ তাঁর অভিযোগ, চটকলগুলো বন্ধ করে শ্রমিকদের ‘বহিরাগত’ তকমা এঁটে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কেন্দ্রের কৃষি আইনের প্রতিবাদেই আগামী ৮ ডিসেম্বর ভারত বন্‌ধের ডাক দিয়েছে কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগঠনগুলি। তাদের আন্দোলন ও বন্‌ধকে এ রাজ্যে সমর্থনের ঘোষণা করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীও। সে দিন সর্বভারতীয় প্রতিবাদের অঙ্গ হিসেবে কলকাতায় মেয়ো রোডে গাঁধীমূর্তির সামনে অবস্থানের কর্মসূচি নিয়েছে কৃষক সংগঠনগুলি। বামফ্রন্ট ও সহযোগী মিলে ১৬ দল ওই কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে তৃণমূলও ৮ তারিখ থেকে মেয়ো রোডে বিক্ষোভ-অবস্থান ঘোষণা করায় পুলিশ শেষ পর্যন্ত কাকে কখন কর্মসূচির অনুমতি দেবে, তা নিয়ে সংশয় থাকছে। কৃষি আইনের প্রতিবাদে ও আস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ১৬ দলের ডাকে ২৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি হবে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে। তার আগে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়েই ১৬ তারিখ রয়েছে কৃষক সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির ডাকে সমাবেশ।

কৃষি বিলের প্রতিবাদে ও কৃষকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এ দিন রাণুছায়া মঞ্চে সমাবেশ ছিল বিশিষ্ট জনেদের আহ্বানে। ‘হকের লড়াই’ শীর্ষক সমাবেশে ছিলেন নাট্যকার চন্দন সেন, অভিনেতা চন্দন সেন, বাদশা মৈত্র, অনীক দত্ত, মন্দাক্রান্তা সেন, পবিত্র সরকার প্রমুখ।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন