লোকসভা ভোটে রাজ্যের যে সব এলাকায় শাসক দলের ফল খারাপ হয়েছে, সেখানকার প্রশাসনিক অফিসারদের ব্যাপক রদবদল হতে পারে। নবান্ন সূত্রের খবর, উপরতলার ‘নির্দেশ’ অনুযায়ী, কর্মিবর্গ প্রশাসনিক দফতর সেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। দফতর সূত্রের খবর, বিডিও থেকে শুরু করে মহকুমা শাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক পর্যায়ে রদবদল হতে পারে। জেলাশাসকদের একদফা বদলি ইতিমধ্যেই হয়েছে। আরও কয়েকজন জেলাশাসক বদল হতে পারেন বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।

নবান্ন সূত্রের দাবি, ‘নির্দেশ’ এসেছে, যে সব ব্লকে তৃণমূলের ফল খারাপ হয়েছে, সেখানকার বিডিও-দের বদলানো প্রয়োজন। একইভাবে যে সব মহকুমায় ফল খারাপ হয়েছে, সরানো হতে পারে সেই সব জায়গার মহকুমা শাসকদেরও।

কর্মিবর্গ দফতরের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের ৩৪৪টি ব্লকের মধ্যে প্রায় ২০০ ব্লকে খারাপ ফল হয়েছে শাসক দলের। প্রায় দেড়শো ব্লকে লোকসভা ভোটে বিজেপি বা কংগ্রেসের চেয়ে পিছিয়ে গিয়েছে তৃণমূল। ৫০টি ব্লকে ফলাফল প্রায় সমান-সমান। ‘নির্দেশ’ মানতে হলে ২০০টি ব্লকে বিডিও-কে সরিয়ে দিতে হয়।  কিন্তু এত অফিসারই বা কোথায়? মেরেকেটে জনা তিরিশেক নতুন বিডিও হাতে রয়েছে। তাই এ নিয়ে চূড়ান্ত কিছু করা যাচ্ছে না এবং মহকুমা শাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক পর্যায়ের অফিসার নিয়োগ-বদলি নিয়েও জলঘোলা হচ্ছে বলে নবান্ন সূত্রের খবর।

লোকসভা ভোটে মহকুমা শাসক এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক পর্যায়ের কয়েকজন অফিসারের ভূমিকা ‘ঠিক ছিল না’ বলে নবান্নে খবর এসেছে। কিন্তু তাঁদের বদলে কাদের পাঠানো হবে, তা চূড়ান্ত করতে হিমশিম খাচ্ছেন নবান্নের শীর্ষ এক আধিকারিক। কর্মিবর্গ দফতরের এক আধিকারিকের বক্তব্য, ‘‘উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার থেকে মালদহ পর্যন্ত একটি আসনও শাসক দল জেতেনি। জঙ্গলমহলের তিনটি জেলা,  দুই বর্ধমান, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনাতেও ধস নেমেছে। এই অবস্থায় হেরে যাওয়া এলাকার সব অফিসারদের সরিয়ে দেওয়া সহজ নয়। কারণ, হাতে তো বাড়তি অফিসার নেই।’’

যদিও উপরমহলের তরফে ইঙ্গিত, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, নদিয়া, মালদহে পঞ্চায়েত ভোটে বিরোধীরা ভাল ফল করার পর অনেক বিডিওকে সরানো হয়েছিল। এ বার পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকদের  পর নীচুতলার অফিসারদেরও সরানো যেতে পারে।

কর্মিবর্গ দফতরের কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকদের একাংশ বদলির আদেশ পেয়েও নতুন জায়গায় যেতে অস্বীকার করেছেন। কেউ কেউ ছুটি নিয়েছেন। বিডিও, এসডিও, এডিএম-দের একাংশও যদি নতুন ‘পোস্টিং’য়ে যেতে অস্বীকার করেন, সমস্যা আরও বাড়বে বই কমবে না।