মসনদ অটুট। অথচ গেরুয়া ‘বাড়বাড়ন্তে’ জেলার নানা প্রান্তে ‘আক্রান্ত’ শাসক দল। আক্রমণের বহর এতটাই যে পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক দল গড়তে হল যুব তৃণমূলকে।   

দু’দিন বাদে দলের শহিদ স্মরণ। তার ঠিক আগে ‘আক্রান্ত’দের সাহায্যে ‘মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল অ্যাসিস্ট্যান্ট টিম’ তৈরি হয়ে গিয়েছে। দলে ৮ জন ‘স্বেচ্ছাসেবক’ রয়েছেন। সংগঠনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এই ৮ জনের নাম, মোবাইল নম্বর শেয়ার করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে ব্লক নেতৃত্বও এঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। তৃণমূলের এক সূত্রে খবর, শুধু হাসপাতালে নয়, আক্রান্ত কর্মীদের আইনি সহায়তা দিতে ‘ল অ্যাসিস্ট্যান্ট টিম’ও গড়েছে জেলা যুব তৃণমূল। দু’জন আইনজীবী এই দলে রয়েছেন।

যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী মানছেন, ‘‘কিছু এলাকায় এখনও বিজেপির লোকজন আমাদের কর্মীদের মারধর করছে। আক্রান্ত কর্মীদের পরিজনেদের যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, সে জন্যই আমরা মেদিনীপুর মেডিক্যালে একটি দল গড়ে দিয়েছি। আইনি সাহায্যেও আলাদা দল হয়েছে।’’

লোকসভা ভোটে গোটা জঙ্গলমহলে খাতা খুলতে পারেনি তৃণমূল। সেই জঙ্গলমহলের জেলা পশ্চিম মেদিনীপুরে ভোটের দু’মাস পরে তৃণমূলের এমন পদক্ষেপে শোরগোল পড়েছে। জেলা রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন, এতে জনমানসে বার্তা যাবে তৃণমূল এখন এতটাই কোণঠাসা যে রোজ বিজেপির হাতে মার খাচ্ছে। তৃণমূল যে আক্রান্ত এই পদক্ষেপে তাতে সিলমোহর পড়েছে। আর তাতে শাসক দলের দুর্বলতাই প্রকট হয়েছে।

লোকসভা ভোটে ধাক্কার পরে কেশপুর, গড়বেতা-সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। শুক্রবারও মেদিনীপুর সদর ব্লকের ছেড়ুয়ায় তৃণমূল কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে, ভাঙচুর চলে তৃণমূল কার্যালয়ে।

সত্যি কি পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে হাসপাতালে সহায়তা দলের প্রয়োজন পড়ছে?  

তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতির জবাব, ‘‘বিজেপি এলাকা দখলে সন্ত্রাস করছে। কিন্তু আমরা আইন হাতে তুলব না। মানুষকে সঙ্গে নিয়েই ৯০ ভাগ আমরা পুনরুদ্ধার করে নিয়েছি। ২১ জুলাইয়ের পরে বাকি ১০ ভাগও মানুষকে সঙ্গে নিয়েই পুনরুদ্ধার করে নেব।’’ বিজেপির যুব মোর্চার জেলা সভাপতি আশীর্বাদ ভৌমিক বলছেন, ‘‘তৃণমূলই দুষ্কৃতীদের দিয়ে কিছু এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করছে। মানুষ সত্যি বুঝে গিয়েছেন।’’ 

বস্তুত, লোকসভা ভোটের ফল পর্যালোচনায় পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা নেতাদের নিয়ে কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বৈঠক করেছিলেন, সেখানেই পুলিশি নির্ভরতা কমানোর নিদান দেওয়া হয়। মমতার বার্তা ছিল, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে যে ভাবে পুলিশ-প্রশাসনের সাহায্য ছাড়াই তৃণমূল শক্তি বাড়িয়েছিল, এখনও সে ভাবেই বিজেপির মোকাবিলা করতে হবে। জেলা তৃণমূলের এক সূত্রে খবর, নেত্রীর এই বার্তা মাথায় রেখেই কর্মীদের পাশে থাকতে নানা পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ‘সহায়ক দল’ গঠন তারই অঙ্গ।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।