তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের সভায় গরুর গাড়ি নিয়ে হাজির হলেন দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা।

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে কয়েক মাস আগে পাঁচন দিয়ে উর্বর জমি চাষের কথা বলেছিলেন অনুব্রত। তার পর থেকেই জেলায় তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে পাঁচন হাতে জেলা সভাপতির সভায় যোগ দেওয়ার হিড়িক দেখা যায়। পাঁচন বিলি হয় জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। কোনও কোনও জনসভায় অনুব্রতের হাতে তুলে দেওয়া হয় রূপোর পাঁচন।

সোমবার নানুরে তৃণমূল জেলা সভাপতির সভায় কয়েকটি গরুর গাড়ি নিয়ে মিছিল করে আসেন কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। নানুর পঞ্চায়েত সমিতির মাঠে সভা করেন অনুব্রত। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরী, জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আব্দুল কেরিম খান, দলের জেলা সম্পাদক অভিজিৎ সিংহ, ব্লক সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মধুসূদন পাল।

দলের অন্দরমহলেরই খবর, অন্য জায়গার তুলনায় এ দিন অনুব্রতের সভায় লোক হয়েছিল কিছুটা কম।  পুলিশের হিসেবে, সভায় হাজার ছ’য়েক লোক হয়েছিল। অনুব্রত অবশ্য দাবি করেন, ‘‘যা লোক হওয়ার তাই হয়েছে। বাসাপাড়ায় একটি অনুষ্ঠান রয়েছে। সে জন্য চারটি অঞ্চলের লোক আসতে পারেননি।’’ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে অনুব্রত দাবি করেন, লোকসভা ভোটে নানুর এলাকায় ৬০-৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতবে তৃণমূল।

যদিও গত বিধানসভা নির্বাচনে ওই আসনে সিপিএম প্রার্থীর কাছে প্রায় ২৪ হাজার ভোটে হেরেছিলেন দলের বর্তমান জেলা যুব সভাপতি গদাধর হাজরা। তৃণমূলের অন্দরমহলের কানাঘুষো, দলের প্রাক্তন যুব নেতা কাজল শেখের সঙ্গে ‘মনোমালিন্যের’ জেরেই তাঁকে হারতে হয়। ৬০-৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জেতার কথা বললেও এ দিন অনুব্রতের বক্তব্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথাও শোনা গিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘থালা সরিয়ে রেখে কেউ মাটিতে ভাত খাবেন না।’’

বাংলা আবাস যোজনায় কোনও জনপ্রতিনিধি উপভোক্তার কাছে টাকা চাইলে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করার কথা বলেন অনুব্রত। তাঁর ওি বক্তব্য চলাকালীন সভার মধ্যে এক জন শ্রোতা দাঁড়িয়ে বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত সদস্য টাকা লোপাট করেছেন।’’ তা শুনে ব্লক সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্যকে ডেকে বিষয়টি জানতে চান অনুব্রত। তার পরে বলেন, ‘‘ভুল করে এক জনের টাকা অন্য জনকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিডিও বিষয়টি দেখছেন। টাকা পেয়ে যাবে।’’

অনুব্রতের মন্তব্য নিয়ে পরে ব্লক সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কোনও ব্যাপার নেই। কিছু ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নিতে বলেছেন জেলা সভাপতি।’’