• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

উত্তর ভারতের কুয়াশায় কাবু বাংলার ট্রেনও

train

Advertisement

কানপুর আইআইটিতে একটি পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন কলকাতার ছাত্রী শুভা বসু। বৃহস্পতিবার কানপুর থেকে শিয়ালদহ রাজধানী এক্সপ্রেসে ফেরার টিকিট ছিল তাঁর। ‘ন্যাশনাল ট্রেন এনকোয়ারি সিস্টেম’ মারফত তিনি জানতে পারেন, কুয়াশার জন্য দিল্লি থেকেই ট্রেনটি ছাড়বে দেরি করে। প্রথম দফার সেই বিলম্বের সময়টা হিসেব করে দেখা যায়, রাত ১২টা নাগাদ ট্রেনটি কানপুরে পৌঁছবে। পরিবর্তিত সময় মেনে স্টেশনে পৌঁছেও হয়ে যান শুভা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ট্রেনটি কানপুর ঢোকে শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টা নাগাদ।

অর্থাৎ রাজধানী এক্সপ্রেসের মতো কুলীন ট্রেনেরও দিল্লি থেকে কানপুরে পৌঁছতে দু’দফায় দেরি হয়েছে। এবং ট্রেনের অপেক্ষায় এই দীর্ঘ সময়টা প্ল্যাটফর্মে বসেই কাটাতে হয়েছে শুভাকে। শুধু ওই ছাত্রী নয়, কয়েক দিন ধরে উত্তর ভারতে বিভিন্ন ট্রেন দেরিতে চলায় অনেক যাত্রীকেই এই ভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্ল্যাটফর্মে বসে থাকতে হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে কোনও ভাবে ট্রেনে উঠতে পারলেই যে কষ্ট শেষ হচ্ছে, তা-ও নয়। তার পরেও রাস্তায় দেরি হচ্ছে বারবার। দিল্লি, মোগলসরাই-সহ উত্তর ভারতে বিপাকে পড়ছে হাওড়া, শিযালদহের ট্রেনও। গড়ে ৮-১০ ঘণ্টা দেরিতে চলাচল করায় রাজধানী থেকে শুরু করে অনেক ট্রেনেই ঠিকমতো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে না। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা।

কেন এই বিপত্তি?

রেলকর্তাদের একাংশের মতে, এ বার শীতের সূচনাতেই কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। দূষণের জেরে ক্রমশই গাঢ় হতে হতে সেই কুয়াশা পরিণত হচ্ছে ধোঁয়াশায়। তাতেই কমে যাচ্ছে দৃশ্যমানতা। তার জেরে নির্দিষ্ট গতিতে দৌড়তে না-পেরে অবধারিত ভাবেই লাগামছাড়া লেট-এর কবলে পড়ছে ট্রেন। এই বিপত্তির জন্য তাঁরা যে প্রস্তুত ছিলেন না, সেটা স্বীকার করে নিচ্ছেন অনেক রেলকর্তাই।

দিল্লি থেকে ইলাহাবাদ হয়ে মোগলসরাই পর্যন্ত রেললাইনের সংখ্যা বাড়েনি দীর্ঘদিন এবং সেটাও অস্বাভাবিক ট্রেন লেটের অন্যতম কারণ। পুরনো পরিকাঠামোর উপরে ক্রমাগতই ট্রেন বাড়িয়ে চলেছে রেল। তাতেই ওই শাখার সব লাইন ‘অতি-সম্পৃক্ত’ হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ ওই লাইনে সর্বাধিক যত ট্রেন চলাচল করতে পারে, ট্রেনের সংখ্যা তার থেকে বেশি। ফলে দিল্লি থেকে ছেড়ে ট্রেনগুলি প্রথমে পড়ছে কুয়াশার প্রাকৃতিক বাধার মুখে। তার উপরে দেরির দাপট বাড়ছে ট্রেনের জটে। সমস্যার সাঁড়াশিতে ভুগছেন যাত্রীরা।

এর প্রতিকার কী?

রেল মহলের বক্তব্য, কুয়াশার মতো প্রাকৃতিক সমস্যার প্রতিকার তাদের হাতের বাইরে। দ্বিতীয় সমস্যা অর্থাৎ ট্রেন-জটের মোকাবিলায় প্রতি বছর শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরের বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করে দেয় রেল বোর্ড। যাতে ইলাহাবাদ থেকে মোগলসরাই পর্যন্ত লাইনে ট্রেনের জট পাকিয়ে না-যায়। কিন্তু চলতি মরসুমে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই দাওয়াই প্রয়োগ করা হয়নি। কিনেতি রাজধানী-সহ দূরপাল্লার বহু ট্রেন ভীষণ দেরি করায় ঠিক হয়েছে, শিয়ালদহ-দিল্লি এক্সপ্রেস ১৮ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বাতিল করা হবে। ২০ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত শিয়ালদহ-বারাণসী এক্সপ্রেস চালানো হবে না। হাওড়া-পটনা জনশতাব্দীর চলাচল বন্ধ থাকবে ২২ ডিসেম্বর থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। বোর্ড-কর্তারা জানান, অন্যান্য বছর ট্রেন বাতিল হতো ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে। কিন্তু এ বার কুয়াশার দাপট অনেক আগে শুরু হওয়ায় সমস্যা বেড়েছে।

রেলেরই অনেক অফিসার অবশ্য রেলকর্তাদের এই বক্তব্য মানতে নারাজ। তাঁরা বলছেন, আসলে ট্রেন বাতিল করলে রেলের আয় কমে যাবে। তাই বোর্ডকর্তারা এখনই বেশি ট্রেন বাতিলের ঝুঁকি নিচ্ছেন না।

কুয়াশার জেরে দিল্লি-হাওড়া দু’দিক থেকেই শুক্রবার অনেক ট্রেনকেই দেরিতে ছাড়া হচ্ছে। এ দিন হাওড়া রাজধানী, শিয়ালদহ রাজধানী, মুম্বই মেল (ভায়া গয়া), কালকা মেল, অজমের এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলির পৌঁছতে দেরি হয়েছে গড়ে প্রায় ১৬ ঘণ্টা।

গত দু’দিন আকাশ কিছুটা পরিষ্কার ছিল। কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকে দিল্লিতে আকাশের মুখ ফের গোমড়া। ভোর থেকেই রাজধানীর দখল নিচ্ছে কুয়াশা। মৌসম ভবন সূত্রের খবর, আগামী তিন দিন দিল্লি, ইলাহাবাদ ও কানপুরের আকাশ ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকার সম্ভাবনা। রেল শিবিরেরই একাংশের বক্তব্য, বোর্ডকর্তারা চটজলদি ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে না-পারলে সমস্যার কোনও সুরাহার আশা নেই। উত্তর ভারতে ট্রেনের বিপর্যয়ে ভুগতে হবে হাওড়া-শিয়ালদহের যাত্রীদেরও।

শুধু উত্তর ভারত নয়, কুয়াশা জাল ছড়িয়েছে অসম-সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও। তাতেও ভুগছে হাওড়ার ট্রেন। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল জানায়, বিশেষ করে অসমে প্রচণ্ড কুয়াশা চলতে থাকায় হাওড়া হয়ে দক্ষিণ ভারতমুখী ট্রেনের যাত্রীরা ভুগছেন।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন