একটি-দু’টি নয়, প্রায় ২০০টি গাড়ি ভা়ড়া নিয়ে পুরনো জিনিস কেনাবেচার ওয়েবসাইটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে প্রতীক ভট্টাচার্য (৩৮) নামে এক যুবককে। তার বাড়ি নিমতার শ্রীকৃষ্ণপল্লিতে। গ্রেফতার হয়েছে তার সহকারী বাপি মাঝি নামে আর এক যুবকও।

পুলিশ জানায়, সিনেমার প্রযোজক পরিচয় দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে গাড়ি ভাড়া নিত প্রতীক। প্রথম এক-দু’মাস ভাড়া বাবদ কয়েক হাজার টাকাও মেটাত। কিন্তু পরে তার খোঁজ মিলত না। খোঁজ করতে গিয়ে গাড়ি মালিকেরা জানতে পারেন, তাঁদের গাড়ি অনলাইনে বিক্রি করে পলাতক ওই যুবক।

পুলিশ সূত্রের খবর, সম্প্রতি কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন থানায় প্রতীকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন একাধিক ব্যক্তি। অভিযোগ ছিল, তাঁদের কাছ গাড়ি ভাড়া নিয়েছে এক যুবক, কিন্তু সে ভাড়া মেটাচ্ছে না। নাম, ঠিকানা নিয়ে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস থেকে প্রতীক কলকাতার বিভিন্ন থানা এলাকার গাড়ি মালিকদের থেকে গাড়ি ভাড়া নিয়েছিল। ছিল কোটি টাকা মূল্যের গাড়িও। কিন্তু ভাড়া নেওয়ার দু’-এক মাস পর থেকে আর টাকা মেটাত না প্রতীক। খোঁজ করতে গেলে গাড়ি তো দূর অস্ত্, তার টিকিও খুঁজে পাওয়া যেত না। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন ব্যান্ডেলের এক নৃত্যশিল্পীও। তাঁর থেকে ৩টি গাড়ি ভাড়া নিয়েছিল প্রতীক।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, আদতে কোনও প্রযোজকই নয় প্রতীক। বরং নিয়মিত একটি পুরনো জিনিস কেনাবেচার ওয়েবসাইটে গাড়ি বিক্রির উপর নজর রাখত ওই যুবক। সেখানে দেওয়া ফোন নম্বর, নাম জোগাড় করে গাড়ির মালিককে ফোন করে টোপ দিত সে। এক অভিযোগকারী পুলিশকে জানিয়েছেন, গাড়ি বিক্রি না করে ভাড়া দিলে লাভ বেশি বলে জানাত প্রতীক। এ ভাবে গাড়ি মালিকদের বুঝিয়ে মাসিক চুক্তিতে গাড়ি ভাড়া নিত সে। আর এক বার গাড়ি হাতে পেলেই কেল্লা ফতে। সেই গাড়ির ছবি তুলে, একই ওয়েবসাইটে নতুন করে বিজ্ঞাপন দিয়ে তা অন্য ক্রেতাকে বিক্রি করে দিত সে।

শনিবার এমনই একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বাগুইআটি থেকে বাপিকে ধরে পুলিশ। তাকে জেরা করে এয়ারপোর্ট থানা এলাকা থেকে প্রতীককে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় প্রতীক স্বীকার করেছে, রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই গাড়ি বিক্রির চক্রে আরও অনেকে যুক্ত। প্রায় ২০০টি গাড়ি তারা এ রাজ্যের পাশাপাশি মণিপুর, নাগাল্যান্ডের মতো রাজ্যেও বিক্রি করেছে বলে জানিয়েছে প্রতীক। পুলিশ সূত্রে খবর, চক্রের জাল বিস্তারে প্রতীকের স্ত্রী-ও জড়িত বলে জানা গিয়েছে। আর কারা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত, তা জানার জন্য ধৃতদের জেরা চলছে।