‘চয়েস বেসড ক্রেডিট সিস্টেম’ (সিবিসিএস) বা পছন্দসই মিশ্র পাঠ ভাল। কিন্তু পরিকাঠামো না থাকলে সিবিসিএস-এর ভাল ফল পাওয়া যায় না। শুক্রবার মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ম্যাকাউট) দশম সমাবর্তনে এ কথা জানান দুর্গাপুরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি-র অধিকর্তা অনুপম বসু।

এ রাজ্যে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সিবিসিএস চালুর আগে ঠিক এই দাবিই তুলেছিলেন বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। পরিকাঠামো ঠিক না করেই সিবিসিএস চালুর বিরোধিতাও তাঁরা করেছিলেন বলে এ দিন আচার্য তথা রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সামনেই এ কথা জানান অনুপমবাবু।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তরফ থেকে দেশের সমস্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সিবিসিএস চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষকদের দাবি, পরিকাঠামো ঠিক না করে এই পদ্ধতি চালু হলে তা ভাল হবে না। কিন্তু তড়িঘড়ি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সেটা চালু করেন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন কুটার সাধারণ সম্পাদক পার্থিব বসু বলেন, ‘‘ভাল জিনিসের সঠিক প্রয়োগ না হলে তার ফল ভাল হয় না। এ ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। পরিকাঠামো, শিক্ষকের সংখ্যা এ সব  বিচার না করে সিবিসিএস চালু হল খাতায় কলমে। হাতে নাতে ফল কিছু পাওয়া যাবে কি না সেটাই চিন্তার।’’ সিবিসিএসের নয়া পদ্ধতি ও সিমেস্টার চালু করতে গিয়ে কার্যত জট পাকিয়ে গিয়েছে বলে দাবি শিক্ষকদের।

ওয়েবকুপার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সুজয় ঘোষের মত, ২০১১-র আগেই ইউজিসি সিবিসিএস চালুর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু রাজ্যের তৎকালীন বাম সরকার চালু করেনি। বারবার পরিকাঠামোর অজুহাতে সিবিসিএস চালু পিছিয়ে গেলে তো কোনও দিন আর শুরুই হবে না। তিনি বলেন, ‘‘তাই সিবিসিএস চলার পথে পরিকাঠামোর উন্নতি করাটাই শ্রেয়’’।

ম্যাকাউটের উপাচার্য সৈকত মৈত্র জানান, তাঁদের সিবিসিএস রয়েছে। এর
সঙ্গে আরও এক ধাপ এগিয়ে এ বার পুরো পঠনপাঠনের পদ্ধতিকে ডিজিটাইজড করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ দিন সাম্মানিক ডি এসসি দেওয়া হয় চ্যাটার্জি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়কে। সমাবর্তনে অংশ নিয়ে তিনি জানান, দেশের ও সমাজের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সাজানো উচিত। শিক্ষার উন্নতিতে আরও বেশি করে প্রযুক্তির ব্যবহারের কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।