কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজগুলিতে কেন্দ্রীয় ভাবে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া চালুর দাবি উঠল অধ্যক্ষদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বৈঠকে। 

স্নাতক স্তরে ‘চয়েস বেসড ক্রেডিট সিস্টেম’ (সিবিসিএস) চালু করা নিয়ে শনিবার রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজে ডাকা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়, সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) দীপক কর। সিবিসিএস পদ্ধতি সফল ভাবে চালানোর জন্য ভর্তি প্রক্রিয়া স্বল্প সময়ের মধ্যে মিটিয়ে ফেলার বিষয়টি আলোচনায় ওঠে। নিয়ম অনুযায়ী, কলেজে কলেজে নতুন বর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ১৫ জুলাই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে অগস্ট পেরিয়ে যাচ্ছে।

এ দিকে এই পদ্ধতিতে সেমেস্টার ভিত্তিক পরীক্ষা হয়। তাতে নির্দিষ্ট হাজিরা থাকতে হবে পড়ুয়াদের। পরীক্ষা হবে নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ। বৈঠকে দাবি ওঠে, ভর্তির প্রক্রিয়া স্বল্প সময়ের মধ্যে শেষ করার ব্যবস্থা হোক। সেই সূত্রেই কেন্দ্রীয় ভাবে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া চালুর দাবি ওঠে। এতে বর্তমানে ভর্তি নিয়ে অধ্যক্ষরা যে প্রবল চাপে থাকেন, তা থেকে তাঁরা মুক্তি পাবেন।

তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে এই পদ্ধতি চালুর চেষ্টা হয়। ২০১৩-য় পরীক্ষামূলক ভাবে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পদ্ধতি সফল হওয়ার পরে ২০১৪-য় রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এই নিয়ম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসে সরকার।

কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থার বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে বলে মনে করেন শিক্ষামহলের একাংশ। তাঁদের মতে, এতে সবচেয়ে বড় সুবিধা স্থানীয় চাপ, প্রভাব, আন্দোলন বা দুর্নীতির অবকাশ কম থাকে।

২০১৮-’১৯ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান শাখায় সিবিসিএস পদ্ধতি চালু করা যাবে কিনা, তা নিয়ে অধ্যক্ষদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। বিজ্ঞানের মোট ২১টি বিষয়ের মধ্যে ১৪টির নতুন পাঠ্যক্রম তৈরি হলেও সাতটির বাকি রয়েছে। সিবিসিএস চালু হলে সেমেস্টার শুরুর আগে গোটা পাঠ্যক্রম চালুর জন্য যে যথেষ্ট সময় দরকার, তা-ও আলোচনায় ওঠে।

সূত্রের খবর, পুরোপুরি তৈরি হয়ে তবেই বিজ্ঞান শাখায় সিবিসিএস চালুর উপর জোর দেন উপাচার্য এবং সহ-উপাচার্য (শিক্ষা)। ফলে ২০১৮-’১৯ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান শাখায় এই পদ্ধতি চালু করা যাবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে অধ্যক্ষ মহলে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্য বিভাগে সিবিসিএস ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। কলা বিভাগে ২০১৯-’২০-তে তা চালু হবে। পাঠ্যক্রম সঠিক সময়ে শেষ করার জন্য সপ্তাহে ছ’দিন ক্লাস এবং পুজোর ছুটি, বড়দিনের ছুটি কমানোর বিষয়টিও আলোচনায় উঠেছে।