যদি তার নাগাল মেলে! খাঁচাবন্দি না হোক, অন্তত ফ্রেমবন্দি!

সেই আশাতেই লালগড়ের আকাশে বৃহস্পতিবার চক্কর দিল ড্রোন। দু’টি ড্রোনের ঘুরপাক দিনভর শশব্যস্ত করে রাখল পুলিশ-প্রশাসন থেকে বন দফতরের কর্তাদের। তাঁদের চোখ আটকে থাকল ল্যাপটপে। যদিও দিনের শেষে বাঘের দেখা মেলেনি।

সদলবদলে জঙ্গলে ঢুকে, ড্রোন উড়িয়ে বাঘবাবাজির নাগাল আদৌ পাওয়া সম্ভব কিনা, প্রশ্ন অবশ্য সেখানেই। বন-বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের একাংশ মানছেন, ‘‘জঙ্গলে ড্রোন ওড়ানোর হাজারটা হ্যাপা। ড্রোন ওড়াতে তুলনায় পাতলা জঙ্গল বাছতে হচ্ছে। আর সেখানে বাঘের ঘাপটি মেরে থাকা সম্ভব নয়।’’ প্রাক্তন চিফ কনজারভেটর অব ফরেস্ট প্রণবেশ সান্যালের অবশ্য মত, ‘‘এই সময় শালগাছের পাতা ঝরে যায়। ফলে, ড্রোন দিয়ে বিস্তীর্ণ অংশ দেখা সম্ভব।’’ তবে তিনিও বলছেন, ‘‘বড়জোর দিন পনেরো এই নজরদারি সম্ভব।’’ তার উপর ড্রোন দেখতে ভিড় জমছে। তাতে রয়্যাল বেঙ্গল অভিযান ধাক্কা খাবে বলেই আশঙ্কা। 

অন্য উপায় কি ছিল না? বনকর্তাদের মুখে কুলুপ। দফতরের এক কর্মী অবশ্য বলে ফেললেন, ‘‘কর্ত্রীর ইচ্ছেয় কর্ম।’’

বুধবার বাঁকুড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে বাঘ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিদান ছিল, ‘পুলিশকে বলছি, ড্রোন দিয়ে উপর থেকে দেখা হোক। আবার কখন, কোন গ্রামে ঢুকে যাবে।’ তার পরই এ দিন লালগড়ে হাজির দু’টি ড্রোন। দু’টিই কলকাতা পুলিশের। শুরুতে ঝিটকার জঙ্গলে ড্রোন ওড়ানো হয়, পরে আমলিয়ার জঙ্গলে। আমলিয়ার কিছু দূরেই মেলখেরিয়ার জঙ্গল, যেখানে গত শুক্রবার ক্যামেরা-বন্দি হয়েছিল বাঘের ছবি। ড্রোন-তল্লাশির তদারকিতে এ দিন লালগড়ে এসেছিলেন রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) রবিকান্ত সিংহ। তিনি বলেন, “ড্রোন দিয়ে বাঘের অবস্থান আরও ভাল ভাবে জানার চেষ্টা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও ড্রোন ব্যবহার করা হবে।” মেলখেরিয়ার জঙ্গলে বাঘের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই মধুপুর, ছোটপেলিয়ার মতো লালগড়ের জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে আতঙ্ক ছড়ায়। পরে সেই ভয় ছড়িয়েছে মেদিনীপুর সদর ব্লকের ধেড়ুয়া, চাঁদড়ায়, কখনও আবার মেদিনীপুর শহর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে মুড়াকাটায়।

বন দফতরের এক সূত্রে খবর, লালগড়ের পোডিহার জঙ্গলেও পায়ের ছাপ মিলেছে। তা খতিয়ে দেখে বনকর্তারা নিশ্চিত, বাঘ এই তল্লাটেই রয়েছে। ফলে, তার হদিস দিতে ড্রোন সহায়ক হবে বলে আশাবাদী বন দফতর। পাশাপাশি ভরসা থাকছে সাধারণ ক্যামেরাতেও।