• Author
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

প্রেমদিবসে গোলাপের খোঁজে

ফাল্গুনের প্রথম দিনে, যে ফুল ছাড়া ভ্যালেন্টাইন্স ডে উদ্‌যাপন কল্পনা করা যায় না, তা গোলাপ। ফুলের মধ্যে জনপ্রিয় গোলাপ। লাল গোলাপ ভালবাসার, হলুদ গোলাপ বন্ধুত্বের এবং সাদা গোলাপ শান্তির প্রতীক। ব্যবহার অনুযায়ী গোলাপকে চার ভাগে ভাগ করা যায়। কাঁটা ফুল বা হাইব্রিড-টি গোলাপ, ঝুরো গোলাপ, বাগিচা গোলাপ এবং সুগন্ধি গোলাপ। শেষ প্রজাতির গোলাপ থেকে আতর ও গুলকন্দ তৈরি হয়। গোলাপ চাষ ও তার বাণিজ্যিকীকরণ বিষয়ে অনিতা দত্তকে জানালেন উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্পবিজ্ঞানের শিক্ষক অর্পিতা মণ্ডল খান

Rose
  • Author

প্রশ্ন: গোলাপের চাহিদা সারা বছর কখন কেমন থাকে?

উত্তর: সারা বছরই দোলাপের চাহিদা থাকে। তবে, বিয়ের মরসুমে,  ক্রিসমাসের সময়, ভ্যালেনটাইন্স ডে উপলক্ষে এর চাহিদা থাকে তুঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর, নদিয়ার প্রচুর গোলাপ চাষ হয়। বর্তমানে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভুমের বিভিন্ন অঞ্চলেও গোলাপ চাষের প্রচলন হয়েছে। উত্তরবঙ্গে এই চাষ এখনও  পর্যন্ত বেশ সীমিতই।  এখানকার চাহিদা মেটাতে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি থেকে এবং পুণে ও বেঙ্গালুরু থেকে প্রচুর পরিমাণে গোলাপ আমদানি করা হয়। 

 

প্রশ্ন: কোন কোন প্রজাতির গোলাপ চাষের জন্য উপযুক্ত?

উত্তর: গোলাপের বহু রকমের প্রজাতি রয়েছে। তবে, কাঁটা ফুল হিসেবে চাষের জন্য হাইব্রিড-টি ব্যবহৃত হয়। প্রচলিত প্রজাতিগুলি হল মেলোডি, ডার্লিং, গ্ল্যাডিয়েটর, সুপারস্টার, মন্টেজুনা, ভিভালডি। গ্রিনহাউসে চাষের উপযুক্ত প্রজাতি হল গ্র্যান্ডগালা, ফার্স্টরেড, হ্যাপিনেস, কনফেট্টি, হোয়াইটপার্ল, এস্কিমো ইত্যাদি।

 

প্রশ্ন: গোলাপ চাষের পরিবেশ কেমন হওয়া উচিত?

উত্তর: গোলাপ চাষের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে সূর্যালোক প্রয়োজন। তাপমাত্রা   ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস  থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস  তাপমাত্রা গোলাপের পক্ষে উপযুক্ত। তবে, এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রাও গোলাপ গাছ সহ্য করতে পারে। বাতাসের আর্দ্রতা  ৭৫ শতাংশ গোলাপ চাষের জন্য আদর্শ। অতিরিক্ত আর্দ্রতায় রোগের প্রকোপ বাড়ে। গোলাপ সব রকম মাটিতেই চাষ করা সম্ভব। তবে, সব চেয়ে ভাল হয় বেলে দোয়াঁশ মাটিতে। খেয়াল রাখতে হবে, যাতে জমিতে জল না দাঁড়ায়। জমি উঁচু ও নিকাশির ব্যবস্থা থাকা জরুরি। জমির অম্লতার মাত্রা ৫.৫ থেকে ৬.৬ হতে হবে। 

 

প্রশ্ন: চারা তৈরির পদ্ধতি?

উত্তর: গোলাপ গাছ কার্টিং, গ্রাফটিং, বাডিং পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। বাণিজ্যিক ভাবে টি-বাডিং পদ্ধতিতে গোলাপের চারা তৈরি করা হয়। এর জন্য প্রথমে কার্টিংয়ের দ্বারা রুটস্টক তৈরি করা হয়। রুটস্টক এক বছরের পুরনো হলে তার উপর কাঙ্ক্ষিত প্রজাতির একটি সুপ্ত চোখ বাডিং করা হয়। এই চোখটি রুটস্টকে জোড়া লেগে গেলে এবং বৃদ্ধি পাওয়ার পর রুটস্টকের উপরের অংশটি কেটে ফেলা হয়। এই অবস্থায় গাছটিকে নার্সারিতে রেখে পরিচর্যা করার পর মূল জমিতে লাগানো হয়।

 

প্রশ্ন: জমি তৈরি করা হয় কী ভাবে?

উত্তর: জমিকে প্রথমে ভাল ভাবে চাষ দিতে হবে। আগাছা ও পাথর পরিষ্কার করে নিতে হবে। মাটিকে এক সপ্তাহ রোদ খাইয়ে নিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার যেমন কেঁচো সার, গোবর সার  বা কম্পোস্ট মেশাতে হবে। বোনমিল বা ফিশমিল গোলাপের পক্ষে খুবই উপকারী। 

 

প্রশ্ন: চারা লাগানোর পদ্ধতি কী?

উত্তর: গোলাপ গাছ লাগানোর জন্য জমি সমতল করার পর ১০০ সেন্টিমিটার x ৭ সেন্টিমিটার দূরত্বে গর্ত খুঁড়তে হবে। গর্তগুলি ৩০ সেন্টিমিটার x  ৩০ সেন্টিমিটার x ৩০ সেন্টিমিটার  হতে হবে। এই গর্তে এমন ভাবে  চারা লাগাতে হবে, যাতে কেবল  মাত্র মূল অংশ মাটির নীচে থাকে এবং গ্রাফটিং বা বাডিং অংশ মাটির উপরে থাকে।  

 

প্রশ্ন: চারার পরিচর্যার পদ্ধতি কী?

উত্তর: গোলাপ চাষের জন্য জৈব এবং অজৈব দু’রকম সারই ব্যবহার করা হয়। জমি তৈরির সময় জৈব সারের পাশাপাশি মাটি অনুযায়ী নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম সার মেশাতে হবে। গাছ বেড়ে ওঠার সময় তরল সার, যা ইউরিয়া ১ ভাগ, ডি এ পি ১ ভাগ,  পটাশিয়াম  ফসফেট ১ ভাগ  ও পটাশিয়াম  নাইট্রেড ১ ভাগ মিশ্রণ  তিন গ্রাম প্রতি লিটার জলে গুলে  ১০ দিন অন্তর প্রয়োগ করলে ফুলের উৎপাদন বাড়ে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকার মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট মিশ্রণ স্প্রে করা যেতে পারে। জৈব পদ্ধতিতে চাষের জন্য  জৈব খোল, কেঁচো সার, হাড়ের গুঁড়ো, মাছের গুঁড়ো প্রয়োগ করলে ভাল ফল হয়। গোলাপ খেত আগাছামুক্ত রাখা জরুরি। গোলাপ চাষের জন্য বেলে দোয়াঁশ মাটিতে  ১০ থেকে ১৫ দিন অন্তর সেচ দেওয়া যেতে পারে আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে। শীতকালে সেচের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হয়। ফুলের উৎপাদন ও গুণমান বাড়ানোর জন্য গাছগুলিকে সময় সময় ছেঁটে ফেলতে হবে। শীতকালে গাছগুলির পুরনো ডাল ছেঁটে ফেলতে হবে এমন ভাবে, যাতে বসন্তে নতুন পুষ্ট ডাল বের হয়। এতে ফুলের ডাঁটি যেমন লম্বা হবে, তেমনই গুণমানও ভাল হবে। জমির আর্দ্রতা বজায় রাখতে এবং আগাছা দমন করার জন্য খড়, শুকনো পাতা বা পলিথিন শিট দিয়ে মাটি ঢেকে দিয়ে মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করা যেতে পারে। 

 

প্রশ্ন: রোগপোকার আক্রমণ থেকে উদ্ধার পাওয়ার পদ্ধতি কী? 

উত্তর: গোলাপ গাছে ছত্রাকজাতীয় রোগ, যেমন ডাইব্যাক, ব্ল্যাকস্পট,  পাউডারি মিলডিউ  রোগের আক্রমণ হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে ডাইব্যাকের আক্রমণ হলে গাছগুলি উপরের দিক থেকে শুকতে আরম্ভ করে। ব্ল্যাকস্পট হলে পাতায় কালো ছোপ দেখা যায়। পাউডারি মিলডিউ রোগের ক্ষেত্রে পাতার নীচের দিকের অংশ কুঁকড়ে যায় এবং বেগুনি রঙের ছোপ ও গুটি দেখা যায়। সাদা পাউডারের মতো আস্তরণ দেখা যায়। প্রতিকার হিসেবে ব্যাভিস্টিন ২ গ্রাম প্রতি লিটার জলে গুলে প্রয়োগ করতে হবে। মাকড়ের আক্রমণ হলে পাতা কুঁকড়ে যায়  এবং হলুদ ছোপ দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে অ্যাবামেকটিম .৫ মিলিলিটার প্রতি লিটার জলেগুলে প্রয়োগ করতে হবে। প্যাফার পোকা ফুলের কুঁড়ি ও পাতাগুলি খেয়ে ফেলে এবং এই পোকার উপদ্রব গরমকালে বাড়ে। এর থেকে মুক্তি পেতে এন্ডোসালফান ২ মিলিলিটার প্রতি লিটার জলেগুলে প্রয়োগ করতে হবে। থিপস, জাবপোকা ও কৃমির আক্রমণ হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ  নেওয়া প্রয়োজন। 

 

প্রশ্ন: কত দিন ফুল পাওয়া যায়?

উত্তর: একটি গাছ থেকে সাত থেকে ১০ বছর পর্যন্ত পর্যাপ্ত ফুল মেলে। 

 

প্রশ্ন: ফুল সংগ্রহের পদ্ধতি?

উত্তর: গোলাপ ফুল কুঁড়ি অবস্থায় তোলা হয়, যখন প্রথম পাপড়িটি একটু খুলেছে। ভোরে ফুল সংগ্রহ করতে হবে। ধারালো ছুরি দিয়ে ৬০ থেকে ১০০ সেমি পর্যন্ত লম্বা ডাঁটি রেখে ফুলগুলি তুলতে হবে। পাতা-সহ প্রায় কুড়িটি ফুল বান্ডিল করে পাতলা কার্ডবোর্ড দিয়ে মুড়েয়ে রাখতে হবে, যাতে ফুলে আঘাত না লাগে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন