উত্তরবঙ্গের মহানন্দা অভয়ারণ্য দিয়ে ছুটছে শিলিগুড়ি-দিনহাটা ডিএমইউ ট্রেন। সকাল তখন প্রায় পৌনে ছ’টা। আচমকাই হ্যাঁচকা ব্রেক। হুড়মুড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল ট্রেন। পরে জানা যায়, লাইনে উঠে এসেছিল একটি দলছুট হাতি। ট্রেনচালক এবং সহকারী চালকের তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে যায় সে।

রেলের তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ওই ডিএমইউ ট্রেনটি শিলিগুড়ি থেকে দিনহাটা যাচ্ছিল। পথেই পড়ে মহানন্দা অভয়ারণ্য। সকাল ৬টা ৪০ নাগাদ গুলমা স্টেশন ছেড়ে ট্রেনটি যখন সেবকের দিকে এগোচ্ছে, তখনই রেললাইনের পাশে একটি হাতিকে দেখতে পান ট্রেনচালক বিপ্লবকান্তি দাস এবং সহকারী চালক এনকে সিংহ। ধাক্কা লেগে হাতিটির প্রাণ সংশয় হতে পারে এই আশঙ্কায় ট্রেনের আপৎকালীন ব্রেক কষেন চালক। সঙ্গে সঙ্গেই তা দাঁড়িয়ে যায়। যে ভাবে দুই চালকের তৎপরতায় হাতিটির প্রাণ রক্ষা করা গিয়েছে, রেল কর্তৃপক্ষ তার প্রশংসা করেছেন।

ট্রেন থামানোর পর চালকের কেবিন থেকেই মোবাইলে হাতিটির গতিবিধির ভিডিয়ো করেন চালক। সেই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, লাইনের পাশে দাঁড়িয়ে আছে একটি হাতি। পাশে ট্রেন দেখেও সে পালানোর চেষ্টাই করেনি। ধীরে সুস্থে সে উঠে আসছে রেললাইনের উপরে। তার পর চালকের কেবিনের সামনে পর্যন্ত আসে। সেখানে এসে সে শুঁড়ও তোলে। সেই সময় ট্রেনের হুইসল বাজান চালক। সে আওয়াজ শুনে কিছুটা দূরে সরে যায় হাতিটি। তবে চলে যায়নি। ট্রেন থেকে কিছু দূরে গিয়ে সে আবার দাঁড়িয়ে থাকে লাইনের পাশেই। এ ভাবে মিনিট দশেক দাঁড়িয়ে থাকার পর পাশের জঙ্গলে ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ে সে। এর পর ফের ট্রেন চালানো শুরু করেন চালক। 

চালকের তৎপরতায় হাতির জীবন বাঁচানোর এই ঘটনায় উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের ডিআরএম কে এস জৈন বলেন, ‘‘চালক, সহকারী চালক, গার্ড-সহ বিভিন্ন স্তরের রেলকর্মীদের জঙ্গল পথে ট্রেন চালানো নিয়ে আমরা নানা প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। সে সব প্রশিক্ষণ শিবিরে বন দফতরের বিশেষজ্ঞেরাও থাকেন। এ সব প্রশিক্ষণের কারণেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা জঙ্গলপথে দুর্ঘটনার কবল থেকে বন্য প্রাণীদের প্রাণ বাঁচাতে পারছি।” 

আরও পড়ুন: উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে

আরও পড়ুন: পাঠ্যক্রমে বদল কবে ও কী ভাবে, উঠছে প্রশ্ন