বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়ে এক ঢিলে অন্তত দু’টি পাখি মারতে চাইছে রাজ্য সরকার। দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমানো।

জোড়া পাখি মারতে আপাতত বেছে নেওয়া হচ্ছে সরকারি হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ এবং বিভিন্ন জেলকে। ওই সব ক্ষেত্রে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে চাইছে সরকার। বিদ্যুৎ দফতর সূত্রের খবর, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ ও জেল ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে তৈরি হবে সৌর বিদ্যুৎ। যার ফলে ওই সব ভবনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ কমবে। একই ভাবে কমবে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রয়োজনও। আর অবশ্যই কমবে দূষণ। কারণ, সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন প্রক্রিয়া দূষণমুক্ত। তেমনই এক বার সৌর প্যানেল বসে গেলে তাতে উৎপাদন ব্যয়ও অনেক কম।

তাপবিদ্যুতের উৎপাদন যথাসম্ভব কমিয়ে সেই জায়গায় বেশি পরিমাণে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে কেন্দ্রীয় সরকারই নির্দেশ দিয়েছে সব রাজ্যকে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে ‘আলোশ্রী’ প্রকল্প। বিদ্যুৎ দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘‘প্রকল্পটি ঝা়ড়গ্রাম জেলের দু’টি ভবনকে দিয়ে শুরু হচ্ছে। সৌর প্যানেল বসানোর খরচ দেবে কারা দফতর। ওই দু’টি সৌর প্যানেলে যে-বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, তা দিয়ে প্রথমে জেলের প্রয়োজন মেটানো তো হবেই। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ দেওয়া হবে বিদ্যুতের মূল গ্রিডে।’’ পরের ধাপে আরও ১৬টি জেলের ছাদে সৌর প্যানেল বসানো হবে। তার পরে হাত দেওয়া হবে হাসপাতালগুলিতে।

পরীক্ষামূলক ভাবে রাজ্যের দুই শতাধিক স্কুল-কলেজের ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে জানাচ্ছে বিদ্যুৎ দফতরই। সেখানকার এক কর্তা জানান, এর ফলে ওই সব স্কুল-কলেজের বিদ্যুৎ বিলও এক ধাক্কায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকার সময়ে রাজ্য বিদ্যুৎ গ্রিডে চলে যাচ্ছে সেই সৌর বিদ্যুৎ। আর যে-সব গ্রাহক গ্রিডে সৌর বিদ্যুৎ দিচ্ছেন, তাঁরা বিদ্যুতের বিলে ছাড় পাচ্ছেন।

ওই বিদ্যুৎকর্তার ব্যাখ্যা, জেল, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ এবং অন্য অনেক সরকারি গ্রাহক সংস্থা বিলই মেটায় না। বছরের পর বছর বিল বাকি থাকে, কিন্তু লাইন কাটা যায় না। ওই সব সরকারি সংস্থা নিজেরাই যদি সৌর প্যানেল লাগিয়ে নেয়, বিদ্যুতের বিল বকেয়া রাখার অভ্যাস তাতে পুরোপুরি চলে যাবে। আখেরে তাতে লাভ বিদ্যুৎ দফতরেরই।

‘‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে বিশেষ ভাবে নজর দিতে বলেছেন। এতে গ্রাহকের বিদ্যুতের বিল তো কমবেই। সেই সঙ্গে পরিবেশ দূষণও রোধ করা যাবে,’’ বলছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

পশ্চিমবঙ্গে এখন বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত। রাজ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থা এবং বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা চলছে লোকসানে। রাজ্যে আরও কয়েকটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও পাশ হয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই অবস্থায় বিকল্প বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়লে আখেরে তা কি বিদ্যুৎ সংস্থাগুলির লোকসানই বাড়িয়ে দেবে না?

সরাসরি জবাব এড়িয়ে একটি বিদ্যুৎ সংস্থার এক কর্তা বলেন, ‘‘আজ না-হোক কাল, বিকল্প শক্তির উপরে নির্ভরতা বা়ড়াতেই হতো আমাদের। সেটাই শুরু করা হচ্ছে।’’

প্রস্তাবিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির কী হবে? এক বিদ্যুৎকর্তা জানান, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দূষণ ছড়ালেও তার প্রয়োজন এখনই কমছে না।