• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ফেল করলেও মিশ্র পাঠে নষ্ট হবে না বছর

Students
‘চয়েস বেসড ক্রেডিট সিস্টেম’ (সিবিসিএস) বা পছন্দসই মিশ্র পাঠ চালু হতে চলেছে কলা আর বিজ্ঞান বিভাগেও।

ঢালাও ফেল করে বছর নষ্টের আশঙ্কায় ধুন্ধুমার আন্দোলন করেছিলেন স্নাতক পার্ট ওয়ানের পরীক্ষার্থীরা। ‘চয়েস বেসড ক্রেডিট সিস্টেম’ (সিবিসিএস) বা পছন্দসই মিশ্র পাঠ চালু করে অকৃতকার্যদের বছর নষ্টের আশঙ্কায় প্রায় দাঁড়ি টেনে দিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।

বাণিজ্য বিভাগে মিশ্র পাঠ চালু হয়েছে আগেই। কলা আর বিজ্ঞান বিভাগেও তা চালু করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হল সিন্ডিকেটের সোমবারের বৈঠকে। সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) দীপক কর জানান, এই পদ্ধতিতে কোনও সিমেস্টারেই পড়ুয়াদের আটকে রাখা যাবে না। পাশ নম্বর না-পেলেও পরবর্তী কোনও সিমেস্টারে ফের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন পড়ুয়ারা। পছন্দের বিষয় নিজের কলেজে না-থাকলে অন্য কলেজে যাতে পড়া যায়, সেই ব্যবস্থা করার ব্যাপারেও ভাবনাচিন্তা চলছে।

সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) জানান, নতুন এই পদ্ধতিতে অনার্স পড়ুয়াদের অনার্স পত্রের সঙ্গে পড়তে হবে জেনেরিক ইলেক্টিভ বিষয়। অনার্সের কোন বিষয়ের পাশাপাশি কী কী বিষয় নিয়ে পড়া যাবে, তার জন্য আটটি ‘সাবজেক্ট কম্বিনেশন’ তৈরি করা হয়েছে। সব বিষয়ের ক্রেডিট সমান নয়। যেমন বাধ্যতামূলক ভাষায় ক্রেডিট দুই হলেও অনার্সের পত্রে ক্রেডিট ছয়। সেই ক্রেডিটের উল্লেখ থাকবে মার্কশিটে।

নতুন পাঠ-ব্যবস্থায় নম্বর তোলা অনেকটা সহজ হবে বলেই শিক্ষা শিবিরের অভিমত। কারণ, প্রতিটি বিষয়ে ২০ নম্বর (হাজিরায় ১০ এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে ১০) কলেজের হাতে থাকছে এবং তা পাওয়া প্রায় নিশ্চিত। বাকি ৩০ নম্বর প্র্যাক্টিক্যাল এবং ৫০ নম্বর লিখিত ‘থিয়োরি’ পরীক্ষা। যে-সব বিষয়ের প্র্যাক্টিকাল নেই, সেগুলোর ক্ষেত্রে ‘টিউটোরিয়াল’-এ থাকছে ১৫ নম্বর। সেই সব বিষয়ে লিখিত পরীক্ষা ৬৫ নম্বরের। কিন্তু কোনও পরিস্থিতিতেই সিমেস্টার পরীক্ষায় ফেল করলেও কাউকে আটকে রাখা যাবে না।

ঝলকে পছন্দের পাঠ

• পড়ুয়াদের কোনও সিমেস্টারেই আটকে রাখা যাবে না।

• স্নাতক পাঠ্যক্রম তিন বছরেরই। তবে কোনও সিমেস্টারে বসতে না-পারলে পাঁচ বছরের মধ্যে সেই পরীক্ষা দেওয়া যাবে।

• অনার্স কেটে গেলে পরবর্তী কোনও সিমেস্টারে পরীক্ষা দিয়ে অনার্স ফিরে পাওয়া যাবে।

• উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন হবে।

• প্রতিটি বিষয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে হাজিরা আর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন মিলিয়ে ২০ থাকছে কলেজের হাতে। যা প্রায় সকলেই পাবেন।

• সিমেস্টারের মাঝপথে কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে।

• এক কলেজে অনার্স, অন্যত্র জেনেরিক ইলেক্টিভ বিষয় পড়ার সুযোগ দেওয়ার ভাবনা।

ফেব্রুয়ারিতেই ২০১৭ সালের স্নাতক পার্ট-১ পরীক্ষায় প্রচুর পড়ুয়া ফেল করায় ধুন্ধুমার কাণ্ড বেধে গিয়েছিল। কলা বিভাগে ৫৭.৫০% ছাত্রছাত্রী ফেল করেন। বিজ্ঞানে পাশের হার কমে যায় ১০%। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে লাথি মেরে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি পাশ করিয়ে দেওয়ার দাবিতে দফায় দফায় কয়েক দিন আন্দোলন করেন পড়ুয়ারা। বছর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দেখে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বিষয়টি দেখতে বলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরে পরীক্ষার পুরনো নিয়মেই ফিরে গিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়। সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) এ দিন জানান, সিবিসিএস পদ্ধতিতে বছর নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রায় আর রইল না।

সিবিসিএসের মূল বিষয় হল বিষয় বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা। কিন্তু অনেক কলেজেই বহু পড়ুয়ার পছন্দের বিষয় নেই। তাই কোনও পড়ুয়া যাতে সিমেস্টারের মাঝখানে কলেজ পরিবর্তন করতে পারেন এবং একটি কলেজে অনার্সের বিষয় পড়ে অন্য কলেজে পছন্দের জেনেরিক ইলেক্টিভ পড়তে পারেন, তার বন্দোবস্ত করার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়-কর্তৃপক্ষ ভাবনাচিন্তা করছেন। তবে উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সিবিসিএসের এই নিয়মে সেটা নেই। সেটা করতে গেলে পরে নিয়ম চালু করতে হবে। সেটা এখনই নয়। বিষয়টি ভেবে দেখা হচ্ছে।’’

উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে সিবিসিএসের পুরো নিয়ম তুলে দেওয়া হচ্ছে। ১২ মে রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজে মেঘনাদ সাহা হলে দু’টি পর্যায়ে বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কর্মশালা হবে। সেখানে পঠনপাঠনের এই নতুন পদ্ধতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকেরা সবিস্তার আলোচনা করবেন।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন