মেয়ে-জামাইয়ের ঘরোয়া কাজিয়া চলে এসেছে প্রকাশ্যে। নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্বেও জামাই তথা মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির বাইরে ধর্নায় বসেছিলেন মেয়ে রত্না চট্টোপাধ্যায়। তাতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন মেয়র অনুগামীরা। স্বভাবতই আশঙ্কা ছিল, মহেশতলার নির্বাচনী ফলাফলে এর কোনও প্রভাব পড়বে না তো? তৃণমূল প্রার্থী দুলাল দাসের জয়ের পথে বিঁধবে না তো শোভন-কাঁটা? তবে বৃহস্পতিবার সে সব আশঙ্কাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন দুলালবাবু। শোভন-কাঁটা উপড়ে ফেলে মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি। জিতেছেন ৬০,৩২৪ ভোটে।

এ দিন সকাল থেকে গণনা শুরু হতেই পাল্লা ভারী হতে থাকে দুলালবাবুর দিকে। প্রতিটি রাউন্ডের শেষেই দেখা যায়, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন দুলালবাবু। এই বিপুল জয়ের পথটা অবশ্য সহজ ছিল না। নির্বাচনী ফলাফল বেরনোর আগে থেকেই কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। পঞ্চায়েত ভোটের মতো কি মহেশতলায় সহজ জয় পাবে তৃণমূল? দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে কি উঠে আসবে বিজেপি? এ প্রশ্নগুলির থেকে বড় হয়ে উঠে এসেছে অন্য প্রশ্ন। এই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী দুলাল দাস কি সহজেই শোভন-কাঁটা উপড়ে ফেলতে পারবেন? দুলালবাবুর মেয়ে রত্নাদেবীর সঙ্গে তাঁর জামাই তথা কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক তরজার প্রভাব কি নির্বাচনী ফলাফলে আঁচ ফেলবে? এমন সব প্রশ্নই উঠেছিল ভোটের আগে। তবে এ দিন গণনার এক একটি রাউন্ডের ফলাফল ঘোষণা হতে না হতেই সে সব প্রশ্ন অমূলক হয়ে গিয়েছে। গোড়া থেকেই পাল্লা ঝুঁকতে থাকে দুলালবাবুর দিকে। শেষমেশ বিপুল মার্জিনে জয় পেলেন দুলাল দাস। বাবার এই জয়ে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি রত্নাদেবী। এ দিন তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন এবং দুলাল দাসের স্বচ্ছ রাজনীতি এই জয়ের অন্যতম কারণ।”

দুলালবাবু নিজেও তৃপ্ত। প্রথম বার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বলেন, “মহেশতলা পুরসভায় আমরা ভাল কাজ করেছি। তারই ফল মিলেছে।” এই জয়ে খুশি তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, “গত বার ১২,৪৫২ ভোট পেয়েছিলাম। অর্থাৎ ৪৮ শতাংশ। এখনও ফলাফল পুরোটা জানতে পারিনি। তবে যেটুকু খবর পেয়েছি তাতে জেনেছি, এ বারে প্রায় ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছে তৃণমূল। এটা একটা সর্বকালীন রেকর্ড। মহেশতলার এই বিপুল জয় দিয়ে মহালয়া শুরু হল। দশমীটা আমরা দিল্লির বুকে দেখিয়ে দেব।”

আরও পড়ুন
‘পুঁতেছিলাম ঘাস, হয়ে গেছে বাঁশ’, শাসকের বিরুদ্ধে এটাই কি স্লোগান জঙ্গলমহলের?

মহেশতলায় তৃণমূল সমর্থকদের উল্লাস। —নিজস্ব চিত্র।

৬২,৩২৪ ভোটে মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী দুলাল দাস।

অষ্টাদশ রাউন্ডের শেষে তৃণমূলের প্রার্থী দুলাল দাসের প্রাপ্ত ভোট ৯৯,১৩৪।

বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে। দলীয় প্রার্থী পেয়েছেন  ৩৮,৫০২ ভোট।

সিপিএম পেয়েছে ২৮,৫০২।

• তৃণমূলের দুলাল দাস তাঁর নিকটতম প্রার্থীর থেকে ৬০,৫০৬ ভোটের এগিয়ে।

• অষ্টাদশ রাউন্ডের গণনা শেষ।

তৃণমূলের দুলাল দাস এগিয়ে রয়েছেন ৫৫৫৮১ ভোটে।

ষোড়শ রাউন্ডের শেষে তৃণমূল পেয়েছে ৮৯,৩১৮।

বিজেপি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ৩৩,৭৩৭।

সিপিএম প্রার্থী পেয়েছেন ২৫,২৬২ ভোট।

ষোড়শ রাউন্ডের গণনা শেষ।

• একাদশ রাউন্ডের শেষে তৃণমূলের দুলাল দাস পেয়েছেন ৫৯,২০৪ ভোট।

মহেশতলায় বিপুল ভোটে জয়ের দিকে তৃণমূলের দুলাল দাস। রাস্তায় নেমে উৎসবে মাতলেন কর্মী-সমর্থকরা। —নিজস্ব চিত্র।

• দ্বিতীয় স্থানে বিজেপি প্রার্থীর ভোট ২২,৬০৫।

• সিপিএম পেয়েছে ১৬,৫৮৭ ভোট।

একাদশ রাউন্ডের গণনা শেষ।

• নবম রাউন্ডের শেষে তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছেন ৪৭,২৯৩ ভোট।

• বিজেপি প্রার্থী প্রাপ্ত ভোট ১৯৮৪০।

• সিপিএম প্রার্থীর ভোট ১৩,৯৬৪।

• নবম রাউন্ডের গণনা শেষ।

• অষ্টম রাউন্ডের শেষে তৃণমূল পেয়েছে ৪১,০০১ ভোট।

• মহেশতলায় অষ্টম রাউন্ডের গণনা শেষ।

• মহেশতলায় ২০,২২৩ ভোটে এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দুলাল দাস।

• মহেশতলায় সপ্তম রাউন্ডের গণনা শেষ।

• মহেশতলায় ষষ্ঠ রাউন্ডের গণনা শেষে তৃণমূল পেয়েছে ৩০,৩৯২ ভোট। বিজেপিকে পিছনে ফেলে ১০,৭০৯ ভোট নিয়ে ফের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাম।

• মহেশতলায় পঞ্চম রাউন্ডের গণনা শেষে তৃণমূল এগিয়ে ২৬,৭১২ ভোটে। ৮৫৪৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিজেপি। 

• মহেশতলায় চতুর্থ রাউন্ডের শেষে বামেদের পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল বিজেপি। ১৬,৫১০ ভোটে এগিয়ে তৃণমূল।

• তৃতীয় রাউন্ডের গণনা শেষে মহেশতলায় ১৪,৩৯৪ ভোটে এগিয়ে তৃণমূল প্রার্থী দুলাল দাস। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাম ও তৃতীয়ে বিজেপি।

• সকাল ৮টায় শুরু হল ভোটগণনা।