দূষণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার লজ্জায় পড়তে হচ্ছে ভারতকে। এই অবস্থায় পরিবেশ বাঁচাতে এ বার নাগরিকদের তৎপর হতে বলছে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক।

বুধবার কলকাতায় ভারতীয় জাদুঘরের চারটি গ্যালারির নব কলেবরের উদ্বোধনে এসে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন বললেন, ‘‘পরিবেশ বাঁচানো নাগরিকদেরও কর্তব্য। আমরা মাথা খাটিয়ে ৫০০টি ছোট ছোট কাজ বার করেছি। সেগুলি নিয়মিত করতে পারলে পরিবেশের উন্নতি সম্ভব।’’ হর্ষ জানান, নিজের নামে তিনি একটি অ্যাপ চালু করেছেন। তাতে বাজি পোড়ানো বন্ধ করা, শব্দদূষণ ও গাড়ির দূষণ কমানো, নদী বাঁচানোর মতো পাঁচশো কাজের কথা বলা হয়েছে।

২০১৪ সালে মোদী ক্ষমতায় আসার পরেই বন ও পরিবেশ মন্ত্রকের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন দফতর চালু করা হয়। গত চার বছরে পরিবেশ ও জলবায়ু বদলের মোকাবিলায় কেন্দ্র কতটা সফল হয়েছে, প্রশ্ন তুলছেন পরিবেশকর্মীরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র সর্বশেষ রিপোর্ট বলছে, বায়ুদূষণে বিশ্বের ২০টি শহরের মধ্যে ১৪টিই ভারতের!

হর্ষ সে-সব প্রসঙ্গের ধারকাছ দিয়ে যাননি। তাঁর মন্তব্য, ‘‘আন্তর্জাতিক মঞ্চে এ-সব নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু তার পরে সকলেই ভুলে যায়।’’ পরিবেশকর্মীদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মঞ্চে যে-সব সিদ্ধান্ত হয়, সেগুলো রূপায়ণের দায়িত্ব তো সরকারের। তা কতটা করা হয়, সেই ব্যাপারে মন্ত্রীর মুখ খোলা উচিত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এ দিন কার্যত পুরোটাই নাগরিকদের উপরে ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা যে-পাঁচশো কাজের কথা বলছি, সেগুলোকে বলা হচ্ছে ‘গ্রিন গুড ডিডস’। এটা দেশবাসীর গ্রিন সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি।’’