ব্লক অফিস থেকে ফেরার পথে বুধবার আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। হামলার অভিযোগ উঠেছিল দলেরই একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার মৃত্যু হল ধনেখালির গোপীনাথপুর-২ পঞ্চায়েতের তৃণমূলের বিদায়ী উপপ্রধান মৃত্যুঞ্জয় বেরার (৪৫)। মৃত্যুর কথা জানাজানি হতে তেতে ওঠে এলাকা। অভিযুক্ত তৃণমূলের দুই পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়িতে ভাঙচুর এবং তিনটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ ও দমকল গিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনে।

মৃত্যুঞ্জয় এ বারেও তৃণমূলের টিকিটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতেন। তাঁর স্ত্রী শিপ্রা বৃহস্পতিবার পঞ্চায়েত সদস্য তথা তৃণমূল নেতা নিত্যানন্দ সাঁতরা, উজ্জ্বল পাত্র, নিত্যানন্দের দাদা চিত্তরঞ্জন সাঁতরা-সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন। মৃত্যুঞ্জয়ের হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। তাঁকে কোপানোও হয়। নিত্যানন্দও এ বার ভোটে জিতেছেন। তৃণমূলের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত্যুঞ্জয় ও নিত্যানন্দরা দুই গোষ্ঠীতে বিভক্ত ছিলেন। পঞ্চায়েতের নতুন বোর্ডে কাদের প্রাধান্য থাকবে, তা নিয়ে দু’পক্ষের দড়ি টানাটানি চলছিল। তার জেরে ওই হামলা বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতাদের একাংশ।

জেলা পুলিশের এক কর্তা জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হল। শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত চিত্তরঞ্জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিরা পলাতক। এ দিন ধনেখালির বিধায়ক তথা মন্ত্রী অসীমা পাত্র এলাকায় এলে বিক্ষোভ দেখান মৃত্যুঞ্জয় অনুগামীরা। মন্ত্রী বলেন, ‘‘যারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে, তারা দলের কেউ নন। পুলিশ-প্রশাসন দোষীদের গ্রেফতার করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।’’ অভিযুক্ত উজ্জ্বল ফোনে দাবি করেছেন, ‘‘ওই ঘটনায় যুক্ত নই। মিথ্যা অভিযোগে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হল।’’ বুধবার মৃত্যুঞ্জয় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তেতে ছিল এলাকা। বৃহস্পতিবার তাঁর অনুগামীরা চৌতারা বাজারে বন্‌ধ ডাকেন। শুক্রবার শ’দেড়েক লোক অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। নিত্যানন্দের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।