সদ্য শেষ হওয়া অর্থবর্ষে কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অব ইন্ডিয়া (সিএজি) দেশের সব রাজ্য ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের হিসেব নিরীক্ষণ করে ১১৯টি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। ২০১৮-১৯ সালে তৈরি ওই সব রিপোর্টের মধ্যে ১০৮টি ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রক। কিন্তু ১১টি রিপোর্ট এখনও প্রকাশ করেনি তিনটি রাজ্য। তার মধ্যে ছ’টি পশ্চিমবঙ্গের। সিএজি পেশ করার পরেও জম্মু-কাশ্মীর তিনটি এবং নাগাল্যান্ড দু’টি রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। এ খবর সিএজি সূত্রের।

নিয়ম অনুযায়ী সিএজি প্রতিটি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর, স্বশাসিত সংস্থা, আর্থিক পরিস্থিতি ইত্যাদি নিয়ে হিসেব পরীক্ষা করে। নাগরিকদের করের টাকা যে-সব ক্ষেত্রে খরচ হয়, তার সবই পড়ে সিএজি-র নিরীক্ষণের আওতায়। এ ছাড়াও প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট কোনও বিষয় বেছে নিয়েও নিরীক্ষণের ক্ষমতা তাদের দিয়েছে সংবিধান। সেই জন্যই বিভিন্ন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিরীক্ষণ করতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু নবান্ন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। 

হিসেব পরীক্ষার পরে রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই রিপোর্ট তৈরি করে সিএজি। সেই জন্য কোনও একটি আর্থিক বছরের নিরীক্ষণের কাজ শেষ হতে দু’তিন বছর লেগে যায়। যেমন, ২০১৮-১৯ সালে সিএজি যে-রিপোর্ট পেশ করেছে, তা আসলে ২০১৬-১৭ আর্থিক বছরের ভিত্তিতে। নিয়ম অনুযায়ী সিএজি-র রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে জমা পড়লে সরকার তা বিধানসভায় পেশ করে। কেন্দ্রীয় সরকার তা পেশ করে লোকসভায়। বিধানসভা বা লোকসভায় হিসেব পরীক্ষার রিপোর্ট পেশ হলেই বছরে এক বার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিএজি-কর্তারা তাঁদের রিপোর্টগুলি ব্যাখ্যা করে থাকেন।

সিএজি সূত্রের খবর, দেশে গত বছর ১১৯টি রিপোর্ট পেশ হলেও শুধু তিনটি রাজ্য তাদের প্রাসঙ্গিক রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করেনি। নবান্নে রিপোর্টগুলি পাঠানো হয়েছে ২০১৮-এর মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে। তার পরে বিধানসভার অন্তত দু’টি অধিবেশন হয়েছে। কিন্তু সরকার তা প্রকাশ্যে আনেনি। ফলে সিএজি-ও নিরীক্ষার কথা জানাতে পারেনি। 

নবান্ন জানাচ্ছে, সরকার সিএজি-র রিপোর্টগুলি খতিয়ে দেখছে। সময় হলেই তা বিধানসভায় পেশ করা হবে। লোকসভার ভোট মিটে গেলে বিধানসভার অধিবেশনে সিএজি-র রিপোর্ট পেশ করা হতে পারে বলে জানান নবান্নের এক কর্তা।

রাজ্য সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসেবও চূড়ান্ত করে সিএজি। বিধানসভায় সেটাও পেশ করতে হয়। ২০১১ সালে সরকার বদলের পরে প্রায় তিন বছর সরকার সিএজি-র চূড়ান্ত করা আয়-ব্যয়ের হিসেব প্রকাশ করেনি। শেষ পর্যন্ত সিএজি এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নেওয়ায় রাজকোষের অডিট করা হিসেব পেশ করে রাজ্য। যদিও সেই প্রক্রিয়াতেও এখনও আরও অনেক তৎপরতা প্রয়োজন বলে মনে করেন সিএজি-কর্তারা। অর্থ দফতরের এক শীর্ষ কর্তা অবশ্য বলেন, ‘‘সিএজি-র সঙ্গে অর্থ দফতরের নিরন্তর আলাপ-আলোচনা চলে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো রিপোর্ট প্রকাশে দেরি হতে পারে। ইচ্ছাকৃত ভাবে কিছু করা হয় না।’’