ছবির নাম ‘গেম’। মুখ্য ভূমিকায় জিৎ-শুভশ্রী। সেই ছবি নিয়েই আড্ডা। লেক অ্যাভেনিউয়ে জিতের অফিসে। ঠিক হল আড্ডার আগে ছোট করে একটা গেম খেলতে হবে। খেলার নাম ‘ট্রুথ অর ডেয়ার’। অরিজিনাল খেলাটার থেকে একটু পাল্টে। দুই নায়ক-নায়িকা একে অপরকে দুটো করে প্রশ্ন করবেন। একটা প্রশ্ন যেখানে সত্যি উত্তর দিতে হবে। অর্থাৎ ‘ট্রুথ’ নিয়ে গেম। দ্বিতীয় প্রশ্ন কোনও একটা চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। অর্থাৎ ‘ডেয়ার’ নিয়ে খেলা।

শুভশ্রী: ‘গেম’ সাফল্য পেলে ধর্মতলার মোড়ে গিয়ে ‘বামচিকি চিকনি চিকি’ নাচতে হবে। পারবে?

যে জায়গাতে দাঁড়িয়ে নেতারা রাজনৈতিক মিটিং করেন, সেখানে জিৎকে নেচে দেখানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন, শুভশ্রী? এত জায়গা থাকতে ধর্মতলার মোড়?

শুভশ্রী: আমি রাজনৈতিক প্রসঙ্গ মনে রেখে কথাটা বলিনি। ওটা খুব ব্যস্ত জায়গা বলেই বলেছি।

জিৎ: শুধু ‘বামচিকি’ কেন? ফিল্মের সব ক’টা গানে মেডলি করে নেচে দেব।

শুভশ্রী: ভবিষ্যতে মিলিয়ে নেব তুমি সেটা করছ কি না। আমাদের দু’জনের সিগনেচার হাসি আছে। সেটা করে দেখাও।

জিৎ: ওটা কোনও ব্যাপার নয়। এই দ্যাখো। (দুটো দাঁতকে সামনে নিয়ে এসে ঠোঁটের মধ্যে চেপে অদ্ভুত ভাবে হাসলেন)।

শুভশ্রী: আরে জিৎদা সব সময় এই রকম করতে থাকে। আমি কী ভাবে হাই তুলি সেটাও ও কপি করে দেখাতে পারে।

জিৎ: আমি তো পারি। তুমি করে দেখাও। এই যে লোকের সামনে হাই উঠলে কী ভাবে সেটাকে কনট্রোল করো সেটা...

শুভশ্রী: আমার তো হাই পাচ্ছে না।

জিৎ: আরে অ্যাক্টিং করে দেখাও। ছবিতে হাই-য়ের অ্যাক্টিং করতে গেলে কি সত্যি সত্যি তোমাকে হাই তুলতে হয় নাকি? করে দেখাও।

(শুভশ্রী এই বার তিন রকম ভঙ্গিতে তাঁর ‘ইয়ান-অ্যাক্ট’টা করে দেখালেন।) এ বার ‘ট্রুথ’-য়ের প্রশ্ন।

শুভশ্রী: তুমি সব থেকে বেশি কাকে প্রেফার করো? আমাকে না সায়ন্তিকাকে? মানে... ফার্স্ট চয়েস কে?

জিৎ: শুধু সায়ন্তিকা কেন? আমি তো তোমাকে সবার থেকে বেশি প্রেফার করি (হাসি)। সিরিয়াস আনসার বলতে গেলে বলব দু’জনের মধ্যে অনেক পজিটিভ দিক আছে। দু’জনেই লম্বা। ভাল ডান্সার। দু’জনেরই ভাল কাজ করার ইচ্ছে আছে। এখন ‘গেম’ নিয়ে কথা হচ্ছে। তাই শুভশ্রী তো অনেক এগিয়ে আছে।

শুভশ্রী তো শুধু ‘গেম’ নিয়ে কথা বলছেন না। যদি ‘বস’ বা ‘গেম’-এর প্রসঙ্গ না থাকে, তা হলে কে প্রথম চয়েস হবেন?

জিৎ: অ্যাজ অব টুডে, ডেফিনিটলি শুভশ্রী (হাসি)।

এ বার জিৎ, আপনার টার্ন।

জিৎ: আমি অ্যানসারটা জানি। কিন্তু পাঠকদের সামনে ও দেখি সেটা বলে কিনা। তুমি কি ইন্ডাস্ট্রির কাউকে বিয়ে করবে?

শুভশ্রী: করব না।

কেন?

শুভশ্রী: ছোটবেলার থেকেই বিদেশে সেটলড্ এমন কাউকে বিয়ে করার ইচ্ছে ছিল।

ইন্ডাস্ট্রির সবাইকে একদম ব্রাত্য করে দিচ্ছেন কেন? এটা কি অতীতের কোনও ঘটনার জন্য?

শুভশ্রী: ছোটবেলায় তো ফিল্মটা ছিল না। মাঝখানে ছিল।

শুভশ্রী: হ্যা।ঁ

জিৎ: কত বছর পর বিয়ে করতে চাও?

শুভশ্রী: এখনও টাইম আছে। এই যে লোকে আমার ব্যস্ততা নিয়ে কথা বলছে। এখন বিয়ে নিয়ে ভাবছি না।

এমনটা কি হতে পারে যে ইন্ডাস্ট্রির কাউকে ডেট করলেও বিয়ে-সংসার ইত্যাদির জন্য বিদেশে পাড়ি দেবেন?

শুভশ্রী: ডেট তো হয়ে গিয়েছে। ইন্ডাস্ট্রি দোষ করেনি। এটা আমার ইচ্ছে।

‘কুইন’-এ কঙ্গনার চরিত্রের ব্রেকআপ দেখিয়েছে। কিন্তু ছবিতে কোথাও তাকে ‘দুঃখী আত্মা’ হিসেবে প্রজেক্ট করা হয়নি। ছবিতে ওর চরিত্রটা ব্রেক আপের পর কেঁদে ভাসায়নি...

শুভশ্রী: আমিও না। আমি তো এখন কেঁদে ভাসাচ্ছি না। আমি ভীষণ এক্সট্রিমস-য়ে থাকি। যখন প্রেম করেছি, তখন শুধুই প্রেম করেছি। কাজ করিনি। এখন কাজ করছি তো আর অন্য কোনও দিকে আমার লক্ষ্য নেই। দু’টো জিনিস একসঙ্গে করতে পারি না। তাই ঠিক করেছি বিয়ের পর কাজ করব না!

এ রকম একটা পণ? এত ব্যস্ত শিডিউল থেকে ছুটি নিতে পারবেন?

শুভশ্রী: হ্যাঁ, পারব। শুধু বলার জন্য বলছি না। করে দেখাব।

কেন? কোয়েল কী সুন্দর কাজ করছেন বিয়ের পর...

শুভশ্রী: বিয়ের পর তো আমি বিদেশেই থাকতে চাই। ওখান থেকে শ্যুটিং করতে আসা মানে প্রযোজকদের কাছে সেটা বেশ খরচসাপেক্ষ হয়ে যাবে (হাসি)। এটাই আমার মেন্টাল মেক আপ। তবে আপাতত শুধু ভাল কাজ করব।

‘গেম’ টাইটেল নিয়ে কথা বলতে গেলেই স্পোর্টসম্যানশিপের প্রসঙ্গ আসে। মনে হয় কি এই ইন্ডাস্ট্রিতে সেটা আছে?

জিৎ: আওয়ার ইন্ডাস্ট্রি ইজ গ্রোয়িং। কিন্তু আরও অনেক বেশি ওপেন মাইন্ডেডনেস দরকার। দরাজ মনে অন্যের সাফল্য নিতে শিখতে হবে। বুঝতে হবে যে সবার জন্য জায়গা আছে। আমি চেষ্টা করি ফোকাসড্ থাকতে। শুধুমাত্র নিজের কাজ আরও কত ভাল করতে পারব, সেটা দেখি। অন্য কে কী করল তা দেখি না। আর একটা কথা, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকে আছে যারা যা বলা হয়, সেটাকে খুব ‘পার্সোনালি’ নিয়ে নেয়। তারা ভুলে যায় যে এটা পেশাদারি জায়গা। তাই পেশাদার হওয়া উচিত। ফোকাসটা থাকা উচিত শুধুমাত্র দর্শক কী চায় সেটা বোঝার জন্য। তার পর সেটাই করা উচিত। এটা নয় যে তোমার আমার কী ভাল লাগছে।

শুভশ্রী: ইয়েস, দ্যাটস রিয়েলি ট্রু।

জিৎ: আই ডোন্ট ইনট্রুড অর ইন্টারাপ্ট

ইন এনিওয়ানস ওয়ার্ক। এখন সিনেমা করা মানে আমার কাছে শুধু ডায়ালগ মুখস্থ করে সেটে গিয়ে অভিনয় করে দেওয়া নয়। আই ওয়ার্ক উইথ আ ইয়াং টিম। সব্বাই আমার জুনিয়র। ওদের থেকে অনেক এনার্জি পাই। আমার যা এক্সাপার্টাইজ আছে, সেগুলো ব্যবহার করি। ভাল লাগে যে সবাই সেটা অ্যাপ্রিসিয়েট করে।

জীবন আপনাদের দু’জনকেই অনেক চড়াই উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে নিয়ে গিয়েছে। কত লোকে কত কথা বলেছে যাতে ফোকাস নষ্ট হয়ে যায়। এই মিলটা নিয়ে কী মনে হয়?

শুভশ্রী: হ্যাঁ, মিলটা আমিও লক্ষ করেছি। জিৎদা আমার ইন্সপিরেশন। দু’বছর কাজ করিনি। ‘চ্যালেঞ্জ’-এর ‘পরাণ যায়’-য়ের পর আমি ওই ফেজটা দেখেছি। কিন্তু দু’টো হিটের পরেও গোটা ইন্ডাস্ট্রি আমাকে ‘শুভশ্রী-শুভশ্রী’ করেনি। শিখেছি ওই কাজ ছাড়া যে সময়টা ছিল তখন নিজেকে কী ভাবে সংযত রাখতে হয়। কেরিয়ারে এই ফেজটা খুব তাড়াতাড়ি এসেছে বলে আমি নিজেকে লাকি বলি।

জিতের সঙ্গে কাজ করা নিয়েও তো আমাকে অনেকে বাঁকা মন্তব্য করেছেন...

শুভশ্রী: পাত্তা দিই না।

জিৎ: আরে, একটু গসিপ না হলে ভাল লাগে নাকি? আমিও করি। কিন্তু তার জন্য টাইমটা কমই থাকে।

আপনারা নিজেরাও তো জানতেন এ নিয়ে কথা হবে।

জিৎ ও শুভশ্রী: না, জানতাম না।

ইন্টারেস্টিং। মাঝখানে তো এটাও বলা হয়েছিল যে জিতের কেরিয়ারে শুভশ্রীর ফেজ শুরু আর শেষ হয়েছে ‘বস’ দিয়েই। জিৎ তখন ঐন্দ্রিতাকে নিয়েই ‘বচ্চন’ করছেন...

শুভশ্রী: এইগুলো কানে আসেনি।

জিৎ: আবার রিলায়্যান্স এন্টারটেনমেন্ট আর গ্রাসরুট এন্টারটেনমেন্টের প্রযোজনায় ‘গেম’ করলাম। আই গেস, গসিপ কিপস থিংস গোয়িং।

প্রথমে গসিপ ছিল দেব আর জিতের বনিবনার অভাব। তাই ব্রেকআপের পর শুভশ্রী জিতের ক্যাম্পে...

শুভশ্রী: আমার আর দেবের সম্পর্ক থাকাকালীন জিৎদার সঙ্গে কাজ করলেও লোকে কিছু বলত। এটাও শুনেছিলাম যে ‘খোকা ৪২০’র সময় যে ব্রেকআপটা নিয়ে কথা হয়েছিল, সেটা নাকি পাবলিসিটি স্টান্ট!

একটা সময় ছিল যখন শুভশ্রী পরপর ইন্টারভিউয়ে শুধু বলে যেতেন ‘আমি কতটা দেবকে মিস করি’। অনেকেই বলেছিলেন এটা করে আপনি দেবকে ইচ্ছে করে ডিসট্র্যাক্ট করতে চাইছিলেন। আর সমবেদনা পেতে চাইছিলেন নিজের প্রচার করতে...

শুভশ্রী: কত কী যে বলা হয়েছে! লোকের মুখ তো আটকানো যাবে না। আমি থ্যাঙ্কফুল যে ব্রেকআপের সঙ্গে সঙ্গে ‘বস’-টা পেয়েছিলাম। সত্যিই কখনও কখনও খুব ডাউন থাকতাম।

জিৎ, শ্যুটিং করতে গিয়ে কি আপনি বুঝতে পারতেন শুভশ্রী ডাউন থাকতেন?

জিৎ: প্রথমে শুধু কাজ নিয়েই কথা বলতাম। তবে একদম যে বোঝা যেত না, তা নয়।

শুভশ্রী: আমি স্ট্রং ছিলাম। ডেফিনিটলি প্রবলেম হয়েছে। কিন্তু কেউ বলতে পারবে না আমার কাজের তাতে কোনও ক্ষতি হয়েছে।

তবে প্রশ্ন তো কম করা হয়নি...

শুভশ্রী: আমি প্রশ্ন অ্যাভয়েড করতাম।

এক সময় ফ্লাড গেটস ওপেনড...

শুভশ্রী: হ্যা।ঁ অনেক ক্ষেত্রে পার্সোনাল রিলেশনশিপের খাতিরে কিছু বলেছি। আর ওগুলো লিখে দেওয়া হয়েছে। তবে আমি এগুলো লার্নিং এক্সপিরিয়েন্স হিসেবেই নিয়েছি।

জিৎ, নিজের লাইফে তো অনেক কিছুর মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু আপনি কোনও দিন নিজের দুঃখ নিয়ে মিডিয়ার সামনে কথা বলেননি। আজকাল ব্রেক আপ হলে বলিউড তারকারা আর সেটাকে নিয়ে মিডিয়া স্পেক্ট্যাকল করেন না। আপনি কি শুভশ্রীকে বলেছেন যে ‘এত ব্যক্তিগত কথা না বললেই পারতে...’?

শুভশ্রী: ডেফিনিটলি বলেছে। বহু বার বলেছে। আমাকে বুঝিয়েছে। এমন ভাবেই বুঝিয়েছে যে আমি আর পরবর্তী কালে সেটা করব না।

জিৎ: শুধু শুভশ্রী নয়। আমি অন্যদের ক্ষেত্রেও প্রবলেম হলে সব সময় পজিটিভ অ্যাডভাইস দিয়েছি। ছিদ্রান্বেষীরা তো এমনটাও বলেছে যে এ সব জিৎ আপনাকে দিয়ে করাচ্ছে যাতে দেবের ফোকাসটা হারিয়ে যায়। তখন দেব বোধহয় ‘চাঁদের পাহাড়’-এর শ্যুটিং করছিলেন আর প্রায়ই আপনার ওই সব লেখা বেরোত...

শুভশ্রী: এই সব ক্রিটিকদের উত্তর দিতে চাই না।

কখনও কি মনে হয়েছে যে জিতের সঙ্গে আপনি আগে আরও ঘনিষ্ঠ হলে হয়তো এ ভাবে কথাগুলো ওপেনলি বলতেন না?

শুভশ্রী: হ্যাঁ, মনে হয়েছে।

জিৎ: খুব বেশি পার্সোনাল প্রশ্ন করা হচ্ছে। ‘বস’-এ যা এফর্ট শুভশ্রী দিয়েছে, তা ভাবা যায় না। ঠান্ডা জলে কেউ হাত দিতে চাইত না। আর ও সেখানে জলে শুয়ে শ্যুটিং করেছে। খুব খেটেছে। আর তার ফল? লোকে আমাদের কেমিস্ট্রি নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছে।

হয়তো সেটা তৈরি করার জন্য জিতের বড় কন্ট্রিবিউশন ছিল। সব সময় বলা যে, মন খারাপ করে মিডিয়া বাইটস দিয়ে নিজের ফোকাস হারিও না...

শুভশ্রী: হু।ঁ

জিৎ: আমারও শুভশ্রীর মতো একজনকে প্রয়োজন ছিল। ইয়াং এনাজির্। সেটা আমাকেও হেল্প করেছে।

এখন আর শুভশ্রীকে ‘ক্রাইবেবি’ কেউ বলে না। এখন ওঁর কাজ নিয়েই কথা হয়। শুভশ্রীর ইমেজ চেঞ্জের জন্য জিৎ আপনি কতটা দায়ী?

জিৎ: আমি মনে রাখি কেউ পজিটিভ কিছু করতে গেলে সারাক্ষণ নেগেটিভ এনার্জির সঙ্গে থাকলে চলে না। সেটা যে কোনও পেশাতেই হোক না কেন। নেগেটিভ থটসকে ফিল্টার করতে হয়।

শুভশ্রী: এই ফিল্টারিংটা জিৎদা আমাকে শিখিয়েছে।

জিৎ, ‘বস’ আর ‘গেম’ দু’টো ছবিতে শুভশ্রীর সঙ্গে কাজ করে ওঁর কোন কোন কোয়ালিটি চোখে পড়েছে?

জিৎ: সেটে চারটে করে হাই তোলে (হাসি)। শি হ্যাজ দ্য ফায়ার টু সাকসিড। ও জানে প্রত্যেকটা ফিল্মে ওকে আগের থেকে ইমপ্রুভ করতে হবে। পজিটিভলি রিঅ্যাক্ট করে ও। ন্যাচারালি কথা বললেও ও হাসে।

ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন থেকে শুভশ্রী সব হিরোইনই তো সারাক্ষণ হাসতে থাকেন...

জিৎ: সায়ন্তিকা তো করে না (অট্টহাসি) আজকের শুভশ্রীর গ্রুমিংয়ে জিতের কতটা কন্ট্রিবিউশন রয়েছে?

শুভশ্রী: জিৎদা তো স্টাইল আইকন। জিৎদা যে ভাবে কথা বলে, আমি কোনও দিন সে ভাবে বলতে পারব না।

জিৎ: আর প্রশংসা শুনতে পারছি না।

শুভশ্রী: প্রথম যখন ‘ইচ্ছে যত’ গানটা শ্যুট করতে গিয়েছিলাম, বেশ ভয় পেয়েছিলাম। যদি একটু লেগে যায় বা কিছু ভুল হয়ে যায়! কিন্তু জিৎদা আমাকে এত কমফর্টেবল ফিল করিয়েছিল যে বলার নয়। আস্তে আস্তে আমাদের একটা কেমিস্ট্রি তৈরি হয়েছে। প্রথমে ছিল জিৎ-শুভশ্রী জুটি ওয়ার্ক করবে কি না। এখন হল আরও কত ভাল লাগবে ওদের।

জিৎ: ‘বস’-য়ের আগে আমার সায়ন্তিকার সঙ্গে ‘আওয়ারা’ ছিল... (হাসি)

শুভশ্রী: ও তো শুধুমাত্র একটা

ছবি করেছে জিৎদার সঙ্গে। আমার ফেভারিট জুটি হল জিৎদা-কোয়েল। জিৎদা-শ্রাবন্তীও অনেকগুলো ছবি করেছে। দেবের সঙ্গে আমার অনেকগুলো ছবি হয়ে গিয়েছিল ‘বস’ করার আগেই। তাই বারবার ভাবছিলাম দর্শক যেন জিৎদা আর আমার জুটিটা পছন্দ করে।

জিৎ: এর আগে একটা ফোটোশ্যুট করেছিলাম একসঙ্গে।

শুভশ্রী: সেটার খুব ভাল রেসপন্স ছিল।

তখনও শুভশ্রী-দেবের সম্পর্কটা ছিল?

শুভশ্রী: হ্যাঁ, ছিল। জিৎদার সঙ্গে আমার গানগুলো রিলিজ করার পরে বুঝলাম লোকের সেটা ভাল লেগেছে।

দ্বিতীয় ছবিতে কেমিস্ট্রিটা কি আরও গাঢ় হয়েছে?

জিৎ: (সেই অদ্ভুত ভাবে হাসলেন) এটা তো আগে করতাম না।

শুভশ্রী: (সেই একই হাসি) আগে লোকে ‘ঝিঙ্কুনাকুর ঝিঙ্কুনাকুর’ করত। এ বার থেকে ‘বামচিকি’ করবে।

জিৎ: আমি বলব সব ছবিতে নতুন চ্যালেঞ্জ থাকে। ইন দিস ফিল্ম, আই অ্যাম প্লেয়িং অ্যান আর্মি গাই। নিজের শরীর নিয়ে কসরত করেছি। মেনস্ট্রিম ছবি এটা। কমেডি, থ্রিলার তো আছেই। তার সঙ্গে ইন্টেলিজেন্সও রয়েছে।

এই ইন্টেলিজেন্স ফ্যাক্টরটা আলাদা করে বলে হাইলাইট কেন করছেন? এটা কি অনেকটা ‘নো রিফিউজাল’ ট্যাক্সির মতো হয়ে যাচ্ছে না? যেখানে ওই ট্যাগটা না থাকা মানে সেই ট্যাক্সির রিফিউজ করার অধিকার থাকে...

জিৎ: না, আমি বলছি যে, এটা অন্য পটবয়লারের মতো নয়। অফিশিয়াল রিমেক করছি। অরিজিনাল গল্পটা মুম্বইয়ের ব্যাকড্রপে করা হয়েছিল। এটা কলকাতার রিয়েল লোকেশনে শ্যুটিং হয়েছে। একটা দৃশ্যে দেখিয়েছি যে একসঙ্গে ১২টা জায়গার টেররিস্ট অ্যাটাক কী ভাবে বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে।

শুভশ্রী: আমাকে বেরোতে হবে। ডাবিং আছে... আজ শরীরটাও ভাল নেই। জিৎ: হ্যাঁ, এ বার এগোও...


চারিদিকে তো নির্বাচন নিয়ে কথা চলছে। ভোট দেবেন?

শুভশ্রী: আমি আজ অবধি ভোট দিইনি। ভোটার আইডি আছে। এ বার দেখি...

জিৎ: হ্যাঁ, আমি ভোট দিয়েছি।

সব সেলিব্রিটিই এ বার হয় কনটেস্ট করছেন, নয় প্রচার করছেন। আপনার কাছে সে সব অফার আসেনি?

জিৎ: না, কোনও দিন ওই চাপটা আসেনি।

কেন বলুন তো? সেলিব্রিটিরা তো এই নিরপেক্ষ জায়গা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। আপনি পারছেন কী করে?

জিৎ: হয়তো আমার ব্যবহারেই তা প্রকাশ পায়। আমি কোনও এক্সট্রা এফর্ট দিই-ও না। আগ বাড়িয়ে আমি এটা কমিউনিকেটও করতে চাই না যে, আমি অ্যাপলিটিকাল বা অন্য কিছু। এই নিয়ে কোনও কথাতেই আমি যাই না। আর যাঁরা আমাকে সেই স্পেসটা দেন, আমি তাঁদের খুব শ্রদ্ধা করি। আই হ্যাভ হাই রিগার্ডস্ ফর দেম। তবে বলব যে, আমি আমার রেসপনসিবিলিটিগুলো বুঝি। যখন দরকার হবে, সেগুলো আমি ডিসচার্জ করব।

দেবকে কিছু বলতে চান?

জিৎ: দেব আমার কলিগ। আই উইশ হিম দ্য বেস্ট। মে দ্য বেস্ট ম্যান উইন...

শুভশ্রী, কেউ যদি আপনাকে বলে প্রচার করতে যেতে?

শুভশ্রী: দু’টো ছবির রিলিজ সামনে। বেশ চাপ থাকবে। প্রোমোশন ইত্যাদি...

তার মানে সময় থাকলে, না বলবেন না। তাই তো? যদি ধরুন মুনমুন সেনের প্রচারে যাওয়ার কথা বলা হয়?

শুভশ্রী: কার প্রচারে জানি না। মমতাদি-র সঙ্গে আমার খুব ভাল সম্পর্ক। উনি বললে আমি না করতে পারব না।

দেবের প্রচারে কেউ যদি যেতে বলে?

শুভশ্রী: ভেবে দেখব। আমার মনে হয় না দিদি আমাকে বলবে ঘাটালে যাওয়ার কথা।

নিজে থেকে যাওয়ার উদ্যোগ নেবেন?

শুভশ্রী: দেব নিজেই এত বড় স্টার। আমার মনে হয় না ওর প্রচারের জন্য কাউকে দরকার পড়বে।