‘বাংলা ব্যান্ড’ তকমাটা প্রথম যারা ব্যবহার করেছিল, তারা কিন্তু ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’ নয়। নব্বইয়ের দশক কাঁপানো ব্যান্ড ‘অভিলাষা’। ‘অভিলাষা’ এই সে দিন অবধি টিকেছিল। একটা ব্যান্ডের কর্মক্ষম থাকা বলতে আমরা যা বুঝি, সে ভাবে নয় অবশ্য। অ্যাকটিভ ছিল কারণ এর প্রাণপুরুষ কুট্টি এই সে দিনও ‘অভিলাষা’কে ঘিরে সাঙ্গীতিক ভাবে ফিরে আসবার স্বপ্ন দেখত। সেই জন্যই এই প্ল্যাটফর্মটাকে টিকিয়ে রেখে বিভিন্ন তরুণ মিউজিশিয়ানের সঙ্গে সৃষ্টিশীল আদানপ্রদানের দরজা খোলা রেখেছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। বাংলা ব্যান্ডের প্রথম প্রজন্মের অন্যতম এই অগ্রসৈনিক আমাদের, অর্থাত্‌ বাকিদের, ভয় পাইয়ে দিয়ে হঠাত্‌ মারা গেল অক্টোবরের প্রথম দিন।

কে কবে চলে যাবে কোনও ঠিক নেই। এই অনিশ্চয়তা বোধ থেকেই শুরু করেছি বাংলা ব্যান্ডের প্রবীণ, ততটা আলোকিত নয়, এমন যোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলার কাজ। তাঁদের না-গাওয়া গান রেকর্ড করার কাজ। দীর্ঘ কথা বললাম, রেকর্ড করলাম বাংলা গানের প্রথম গিটার-সংরাইটার অরুণেন্দু দাসের জীবন বৃত্তান্ত। অরুণেন্দু গিটার বাজিয়ে গান লেখা শুরু করেন পঞ্চাশের দশকে, যাঁর বিভিন্ন গান এক সময়ে ‘মহীন’রা নিয়মিত গেয়েছেন, বাজিয়েছেন। কথা বললাম প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ওরফে বুলাদার সঙ্গে—যিনি গৌতমদার আপন ভাই। অসামান্য প্রতিভাধর মিউজিশিয়ানও বটে। ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’ যদি ব্যান্ডই হবে তা হলে দু’একজন ছাড়া বাকি সদস্যদের নাম আমরা জানি না কেন? কথা বলে বুঝলাম জানি না কারণ মিডিয়া জানায়নি। সাত জন (বদলি নিয়ে ন’জন) সদস্য রইল এই গানের দলে। নিজেদের ব্যান্ড না বললেও ফর্মেশনটা ব্যান্ডেরই। কে কী বাজাতেন? কোনও ঠিক ছিল না। যে গানে যেমন প্রয়োজন উল্টে পাল্টে নিতেন ভূমিকা। প্রয়োজনে বাইরে থেকেও জুড়ে নেওয়া  হত পেশাদার যন্ত্রশিল্পী।

এ বছরই হইহই করে নিজেদের পঁচিশ বছর আর একুশ বছর পালন করল যথাক্রমে ‘চন্দ্রবিন্দু’ আর ‘ক্যাকটাস’। পঁচিশ বছর? মুখের কথা নয়। যদিও শুরুর অনেকটা সময়ই ব্যান্ড বলতে আমরা যেরকমটি ভাবি, তেমন ছিল না কর্মপদ্ধতি। কিন্তু তাতে কী? ইচ্ছে ছিল এবং ইচ্ছে আর চেষ্টা জুড়লে যা হয়, তাই ধীরে ধীরে একটা পূর্ণাঙ্গ ব্যান্ড হওয়ার দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল ‘চন্দ্রবিন্দু’কে। সেই রকম একটা ব্যান্ড, যারা নিজেদের গান পারফর্ম করার পাশাপাশি সে সব গান নিজেরাই রেকর্ডও করবে স্টুডিয়োতে। বাইরের প্রোগ্রামার লাগবে না। একুশ বছরের ‘ক্যাকটাস’ নিয়মিত সদস্য বদল করেছে। সদস্য বদলের জন্যই বারবার মোড় ঘুরে গিয়েছে তাদের তৈরি সঙ্গীতের। কিন্তু সেই বৈশিষ্ট্যকেই ইতিবাচক একটা দিক হিসেবে গ্রহণ করেছে তাঁরা। সব ক’টা চেহারাতেই ‘ক্যাকটাস’য়ে নিয়মিত হয়ে থেকেছে দুই পুরনো পাপী— বাজি এবং সিধু। দু’জনকেই আমার তরফ থেকে শুভেচ্ছা জানাই। এদের দু’জনের সঙ্গেই নিয়মিত অনেক কাজ করেছি আমি। বাজি তো প্রথম দিকের ‘ফসিল্স’-এর মেম্বারই ছিল। সিধুর সঙ্গে এক সময় টিভিতে এত কাজ করেছি যে, আমাদের দু’জনের জুড়ি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। বাজি আপাত ক্ষিপ্ত হয়ে অনুযোগ করত: ‘উফ্, খালি সিধু আর রূপম...ব্যান্ডের বাকিদের আর কেউ নিচ্ছে না মামা...খালি ভোকালিস্ট আর ভোকালিস্ট।’ পুরনো দিনের আরও মজার মজার গল্প আছে। ‘ফসিল্স’, ‘ক্যাকটাস’ দ্বৈরথ শুরু হওয়ার বহু দিন আগেই ‘ক্যাকটাস’-‘অভিলাষা’ দ্বন্দ্বযুদ্ধ ছিল চরমে। আমার বাড়িতে পার্টিতে আমন্ত্রিত হয়ে কুট্টি চড়াও হয়েছে সিধুর ওপর... একটার পর একটা কিল মেরে যাচ্ছে...তার পর আরও খানিক মাল গলাধঃকরণ করে রাতের শুনশান থিয়েটার রোডে হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়েছে সিধু। তার উপরে বসে রণং দেহি কুট্টি তার সহজাত রঙ্গরসিকতার ফোয়ারা ছুটিয়ে দিচ্ছে। এ সব ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ সহজে ভোলবার নয়। ২০১৪-র শেষে এসে যখনই মনে হচ্ছে, এতগুলো দিন বৃহত্‌ বাংলা রক পরিবার সম্মানের সঙ্গে পার করে এসেছে, পুরনো শ্রোতারা তো আছেই,  দিনকে দিন তৈরি হচ্ছে নতুন শ্রোতা। নস্টালজিক লাগছে। নতুন-পুরনো শ্রোতার প্রসঙ্গ যখন এলই তখন ‘ফসিল্স’য়ের ‘এনএইচ-সেভেন’ অভিযানের গল্প বলি। পুরনো নয়, এক্কেবারে টাটকা গল্প।

পুণে-দিল্লি-বেঙ্গালুরু এই সব হট অ্যান্ড হ্যাপেনিং শহরে গত পাঁচ বছর ধরে ঘটে চলেছে ‘এনএইচ-সেভেন’ নামের একটা ইন্টারন্যাশনাল মিউজিক ফেস্টিভ্যাল। পরিবেশটা অনেকটাই উডস্টক ফেস্টিভ্যালের মতোই। গত বছর থেকে শুরু হয়েছে এর কলকাতা এপিসোড। সেই জমিতেই এই বার পা রাখল ‘ফসিল্স’। আর ‘ফসিল্‌স’য়ের হাত ধরে বাংলা রক। বাংলা রকের এ হেন আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যালে প্রথম পারফরম্যান্স ঘিরে উত্তাল হল সবাই: সে বাংলা ভাষার বিন্দুবিসর্গ না-বোঝা উত্‌সব কর্তৃপক্ষই হোক, বা বাঙালি-অবাঙালি মিলেমিশে মঞ্চের সামনে উপস্থিত রেকর্ড সংখ্যক মানুষের ঢলই হোক। উপস্থিত ছিল নতুন-পুরনো বাংলা রকব্যান্ড অনেকেই। গাইতে গাইতে সামনে দেখছি ‘লক্ষ্মীছাড়া’র গাবু-ঋষভকে। ‘ক্যাকটাস’য়ের বাম্পি-রাতুল-বুটিকে। দেখতে পাচ্ছি পরের প্রজন্মের ‘পৃথিবী’র কৌশিককে, ‘তমাল অ্যান্ড ট্রিপ’য়ের তমালকে, অনুপম রায় ব্যান্ডের নবারুণকে। ‘সাসপেন্ডেড ফিফথ’য়ের ভাস্করকে। অন্য শ্রোতাদের তালে তালে দুলছে এরাও। এমন ঘটনা তো চট করে ঘটে না। সব ব্যাপারে সবাই একমত হয়ও না। তবুও মনে হল ২০১৪ একটা চমত্‌কার ঐক্যের সংকেত এঁকে দিচ্ছে তার বিদায়বেলায়।

বছরের হিসেবে ‘ফসিল্স’য়ের পথ চলার ১৫ বছর পূর্ণ হল ২০১৪তে। আমি যত দূর জানি ‘ভূমি’রও তাই। ‘ভূমি’ ১৯৯৯য়ের আবির্ভাবেই গোটা বাংলাকে দুলিয়ে ছিল তাদের ব্যান্ডের ফোকরক করে, যে জিনিস আরও কিছু দিন আগেই আর একটু অন্য রকম ভাবে শুরু করেছিল ‘পরশ পাথর’। আর ২০০২য়ে আমাদের প্রকাশিত প্রথম অ্যালবামে প্রথম বার গানের গোত্র হিসেবে লেখা হয়েছিল ‘বাংলা রক’ এই কথাটি। ‘ফসিল্স’য়ের প্রথম অ্যালবাম প্রায় এক বছর বিক্রি হয়নি। তার পর এটা একটা ল্যান্ডমার্ক হয়ে দাঁড়ায়। গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে যে রকের তরঙ্গ উঠল, তরুণ প্রজন্ম যে হঠাত্‌ ঠিক করল মিউজিক করতে হলে বাংলা রকই করতে হবে, অন্য কিছু নয়, সে ব্যাপারটা কিন্তু আমাদের দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ফসিল্স টু’ প্রকাশিত হওয়ার পর, সেটা ২০০৪ সাল। ‘বিষাক্ত মানুষ’য়ের পর ‘অ্যাসিড ছোড়ো মুখে’ হয়ে উঠল বাংলা হার্ড রকের তথা ক্রুদ্ধ নতুন প্রজন্মের জাতীয় সঙ্গীত। এর মধ্যেই লুকিয়েছিল বাংলা মেটালের আবির্ভাব ইঙ্গিত। আমরা যারা প্রথম প্রজন্মের বাংলা ব্যান্ড তাঁরা সবাই এই সন্ধিক্ষণগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছি। সিস্টেমের মধ্যে থেকেই লক্ষ করেছি, প্রয়োজনীয় পাঠ নিয়েছি বলা চলে। পর্বের পর পর্ব এসেছে। বদল হয়েছে মিউজিক্যাল টেস্ট। একটা জিনিস কিন্তু কনস্ট্যান্ট থেকে গিয়েছে। বাংলা রকের অপ্রতিদ্বন্দ্বী, অবিশ্বাস্য, এবং ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা। যাঁরা বিশ্বাস করতে পারেন বা ঈর্ষাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চান, তাঁরা নিয়মিত বিষোদগার করেন। সেই সব বাজে লোকেদের ইনসিকিওরিটির প্রসঙ্গ এখন থাক। দু’টো কাজের কথাই হোক।


মঞ্চে একসময়কার ‘ক্যাকটাস’

ফক্সলাইফ নামক একটি আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেল এ বছর বেছে নিয়েছিল দেশের সেরা কিছু ব্যান্ড ও অল্টারনেটিভ আর্টিস্টকে। তাদের মধ্যে বাংলার প্রতিনিধি হিসেবে ছিলাম আমরা, মানে ‘ফসিল্স’। আমাদের বলা হয়েছিল পুরনো এমন একটা গান নিয়ে কাজ করতে, যার সুর হিন্দি ফিল্মেও ব্যবহার হয়েছে। আমরা ‘যে জন প্রেমের ভাব জানে না’ গানটি নতুন করে তৈরি করলাম। আমাদের এই কাজে যোগ দিলেন কিংবদন্তি পূর্ণদাস বাউল। আমাদের এই কাজ আন্তর্জাতিক অনেক মিউজিক প্রোডিউসরকেই আকৃষ্ট করেছে বলে খবর পেয়েছি। ‘এনএইচ-সেভেন’ উত্‌সবে একযোগে অনুষ্ঠান চলে তিনটি মঞ্চে। সেখানে অন্য সব অনুষ্ঠান, যা চট করে দেখবার সুযোগ পাবেন না দর্শকেরা, সেগুলো ফেলে সবাই হামলে এলেন ‘ফসিল্স’-এর অনুষ্ঠান দেখতে। এটা জাতীয় সঙ্গীতমহলে একটা জোরালো বার্তা দিল। ‘এনএইচ-সেভেন’-এর ডিরেক্টর বিজয় নায়ার দু’দিন আগেই মিডিয়াকে বলেছিলেন, “শুনেছি বাংলা রকের যেমন তেমন অনুষ্ঠান নাকি ১৫-২০ হাজার লোক দেখতে আসেন হেসেখেলে। এ কথা শুনলে দিল্লি-মুম্বইয়ের রককর্মীরা বিশ্বাসই করতে চাইবেন না। আমি এ জিনিস, এ জনপ্রিয়তা নিজের চোখে দেখব বলেই ফসিল্সকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।” তো ‘ফসিল্স’ পারফর্ম করতে শুরু করবার পর কী ঘটেছে উনি নিজের চোখেই দেখেছেন। শুনেছি সাউন্ড কনসোলে উপস্থিত হয়ে লোকজনদের বলছেন, ‘বাংলা রক ভাই মাননাহি পড়েগা।’ একই সময়ে তখন দিল্লির নামজাদা ব্যান্ড ‘দেম ক্লোনস’ অনুষ্ঠান করছিল অন্য মঞ্চে। তাদের মঞ্চের সামনে উপস্থিত অল্প কিছু দর্শককে তারা ধন্যবাদ জানিয়েছে। ‘ফসিল্স’ পারফর্ম করেছে এমন সময়ও তাদের অনুষ্ঠান দেখার জন্য। বুঝুন কাণ্ড! কে ভেবেছিল এমন হবে! আমরা ভেবেছিলাম? মাথা খারাপ?

এই সাফল্যের রেশ টেনে এল আরও বড় খবর। ‘এনএইচ সেভেন’য়ের দিল্লি সংস্করণেও আমন্ত্রিত হল ‘ফসিল্স’। কিছু দিনের মধ্যেই বাঙালি শ্রোতা-দর্শকের বেড়া টপকে আমরা পারফর্ম করব জাতীয় অডিয়েন্সের সামনে। বাংলা ভাষা মোটেই আর কোনও প্রাদেশিকতায় আমাদের আটকাতে পারছে না। 

এ সব লিখতে গিয়ে মনে পড়ছে পুরনো নানা কথা। সালটা সম্ভবত ’৯৮। এসআরএফটিআই-য়ের ওপেন এয়ার থিয়েটারে পারফর্ম করতে দেখেছিলাম ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন, তাঁদের। পূণির্মা রাত ছিল। আকাশে রুপোলি চাঁদ। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে ঘাড় উঁচিয়ে চাঁদ দেখছি। আর গলা নামিয়ে মঞ্চ। আগে শুনেছিলাম মঞ্চে নাকি ছবি আঁকা হত মহীনরা অনুষ্ঠান করলে। সেদিন যে ব্যাপার দেখতে পেলাম গান হচ্ছে, পিছনে চলছে ভারা বেঁধে ছবি আঁকা। গান গাইতে গাইতে কী না করছেন গৌতম চট্টোপাধ্যায়— লম্ফঝম্প, ডিগবাজি সবই চলছে খেপামির মোহিনী নিয়মে। আর আজ? প্রযুক্তি এগিয়েছে অনেক যোজন। লাইভ পারফর্ম্যান্সের মঞ্চ এখন অন্য রকম। ঘড়ির কাঁটায় বাঁধা টানটান অনুষ্ঠান। তবুও খ্যাপামির অবসর আছে বইকী। এখন রকের মঞ্চে ছবি আঁকা হয়তো হচ্ছে না। কিন্তু গানের সঙ্গে সঙ্গে নাচছে আন্তর্জাতিক মানের আলো। তার জন্য রয়েছে আলাদা পরিকল্পনা, পিছনের এলইডি স্ক্রিনে গানের সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যাচ্ছে প্রত্যেকটা গানের জন্য আলাদা করে বানানো ভিডিয়ো। মঞ্চে রকস্টার তো গাইছেনই। অন্য সব কিছুর সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছেন খ্যাপামিও। মাইক স্ট্যান্ড নিয়ে লোফালুফি করছেন, হেড ব্যাঙ্গিং করছেন। এ সবই স্বাধীন মন ও শরীরের প্রতীকী উপস্থাপনা। হাতছানি বেড়া ভেঙে ফেলার। যাঁরা বোঝবার, বুঝবেন। অবশেষে আন্তর্জাতিক অনুষঙ্গ বাংলা গানেও ঢুকে এল দেখে আহ্লাদিত হবেন। বাকিরা ফুটে যাবেন। কিন্তু জনপ্রিয়তা থাকবে।

সন্ধ্যায় ‘ফসিল্স’ পারফর্ম করবে। আর সকাল থেকেই শুভেচ্ছা বার্তার পাহাড়। সাধারণ শ্রোতাদের পাশাপাশি শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন অন্যান্য ব্যান্ডের প্রথিতযশারা। তাঁদের বক্তব্য, ‘আজ ‘ফসিল্‌স’ নয়, পারফর্ম করবে বাংলা রক।’ এই ঘোষণা প্রমাণ করতে তাঁদের সশরীরে উপস্থিত হওয়া কোথাও গিয়ে আমাকে বাংলা রকের জনপ্রতিনিধিত্বের একটা সুযোগ দিচ্ছে। তাই সবার হয়ে আমি দাবি জানাচ্ছি বাংলা রকের একটা জাতীয় মঞ্চের।

 এত দিন ধরে অনেক অবহেলা সহ্য করেছে বাংলা ভাষা। জাতীয় স্তরের সঙ্গীত ম্যাগাজিন বলুন, বা সঙ্গীতের ন্যাশনাল টেলিভিশন, কে নেই যারা বঞ্চনা করেনি? বাংলা মানেই আঞ্চলিক, আর তামিল-মালয়ালম-পঞ্জাবি মিউজিক পাবলিসিটির চুড়োয়। আমাদের সঙ্গীত কোম্পানিগুলোর কার্পণ্যও সীমাহীন। একটা আন্তর্জাতিক মানের ভিডিয়ো আমরা বানাতে পারিনি। তাদের কুড়ি হাজার টাকার বেশি  বাজেট ছিল না বলে। শহরের সঙ্গীত চ্যানেলও ফিল্ম মিউজিক নিয়ে বাণিজ্যমুখী হয়ে বাংলা ব্যান্ডকে ঠেলে দিয়েছে রাত দুটোর স্লটে— যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। মনে করি ২০১৫ থেকে সময়টা অন্য রকম হবে। আমরা সব ক’টা বাংলা ব্যান্ড জাতীয় মঞ্চে এক সঙ্গে বাজিয়ে প্রমাণ করব জনপ্রিয়তা কাকে বলে। আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যালে বাংলা রকের একটা মঞ্চ হোক। সব শিল্পীর পক্ষে দাঁড়িয়ে সোজা বাংলায় এটা আমার দাবি।

 প্রথম দাবি।