হাসি হাসি মুখ, অনর্গল কথা আর গল্পের ঝুলি... এই সব কিছু মিলিয়েই শ্রীনন্দাশঙ্কর। কলকাতায় জন্ম হলেও উনিশ বছর তিনি শহরের বাইরে। মুম্বইয়ে স্বামীর সঙ্গে সুখের সংসার। কর্মসূত্রে মাঝেমধ্যেই আসেন কলকাতার বাড়িতে। মা তনুশ্রীশঙ্করও আছেন যে এখানে! তবে অভিনয়ই মূল কারণ।

কিন্তু এত দেরিতে অভিনয়ে এলেন কেন? ‘‘জানতামই না যে, আমি অভিনয় করতে চাই। নাচ, মেকওভার নিয়ে থাকতাম। কিন্তু এখন অভিনয়ে আগ্রহী। সিদ্ধান্তটা নিতে সময় লেগেছে। সত্যি কথা বলতে আমি কলকাতা থেকে পালিয়ে গিয়েছিলাম। আমার বিখ্যাত পরিবারের জন্য ছোটবেলা থেকে প্রাইভেসি বলতে কিছুই ছিল না। তাঁদের কোলে বসে তাঁদের পরিচয়ে পরিচিত হতে চাইনি। তনুশ্রীশঙ্করের মেয়ে শ্রীনন্দা কী করল? এই প্রশ্নের চাপটা নিতে চাইনি। এখন অভিনয় করার জন্য মানসিক ভাবে তৈরি। বয়সও ম্যাটার করে না। আর যাঁদের কাছে ম্যাটার করে, তাঁরা আমার দর্শক নন।’’ 

‘বসু পরিবার’ ছবিতে যিশু সেনগুপ্তর স্ত্রী রোশনির চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে শ্রীনন্দাকে। চরিত্রটি বেশ আধুনিক। আমেরিকাতে চাকুরিরত। স্বামীকে খুবই ভালবাসে। শ্বশুর-শাশুড়ির পঞ্চাশতম বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথম বার তার দেশে আসা। এমন এক স্টারস্টাডেড ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে বেশ অবাকই হয়েছিলেন শ্রীনন্দা।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

‘‘সুমন (ঘোষ) প্রথম যে দিন স্ক্রিপ্ট রিডিংয়ে ডেকেছিল, সে দিন তো আমি চুপ। এমনিতে আমি খুবই কথা বলি। কিন্তু ওখানে গিয়ে আমি বোবা। এক ঘরে তো ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পাওয়া পাঁচ জন অভিনেতা। তাঁদের মাঝে আমি? সুমন বলেছিল যে, আভিজাত্য প্রয়োজন ছিল চেহারায়, তাই আমায় নিয়েছে। কিন্তু আমি যে অভিনয় করতে পারব, সেটা ও কী করে বুঝেছিল আমি জানি না। তবে এখন অভিনয় নিয়ে প্যাশনেট। অডিশন দিই,’’ বেশ আত্মবিশ্বাসী শোনাল অভিনেত্রীর কণ্ঠস্বর। 

ছবির শুটিং হয়েছে ভাওয়াল ও মহিষাদল রাজবাড়িতে। ফলে শুটিংয়ের জন্য আউটডোরে থাকতে হয়েছে। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতাও বেশ উপভোগ করেছেন শ্রীনন্দা, ‘‘শুটিংয়ে প্রথম দিকে খুব চুপচাপ থাকতাম। পরে ওদের সঙ্গে মিশে যাই। এক দিন আমার খুব সমস্যা হচ্ছিল শট দিতে। সে দিন আবার অপুদার (শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়) অফ। নিজের ডে-অফেও শুধু আমার জন্যই সেটে ছিলেন অপুদা। চাইলে তো বিশ্রাম নিতে পারতেন। কিন্তু সেটে থেকে আমায় সাহায্য করলেন। এটাই প্রাপ্তি। আর এক প্রাপ্তিও হয়েছে। রোজ বিকেলে রিনাদি চেয়ারে বসে মুড়ি মাখতেন। আমরা বাটি, চামচ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম।’’ 
বিখ্যাত শঙ্কর পরিবারের মেয়ে শ্রীনন্দা। সেই পরিবারের আভিজাত্যের ছোঁয়া তো আছেই। রিফ্লেক্টেড গ্লোরি কি আছে? ‘‘পরিবার বিখ্যাত ভেবে তো বড় হইনি। ওরা তো আমার দাদু, ঠাম্মা, মা, বাবা। ছোটবেলায় ঠাম্মার বাড়িতে গিয়ে থাকতাম। অমলাশঙ্কর চিঁড়ে, আম মেখে আমাদের খাওয়াতেন। নানা গল্প বলতেন, আর পাঁচটা বাড়িতে যেমন হয় আর কী! অনেক শিখেছি তাঁদের সান্নিধ্যে। শঙ্কর পরিবারের মেয়ে বলে হয়তো সকলে আমায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে ফেলেন। কিন্তু এখনও কিছুই হইনি। আরও প্রতিষ্ঠিত হতে চাই।’’

অভিনয়ের পাশে নাচ তো আছেই। আর সংসারে রান্নাবান্না করেন? ‘‘বাঙালি মুরগির ঝোলটা খুব ভাল পারি। আমার স্বামী পার্সি। ওদের বাড়ির রান্নাও খুব প্রিয়।’’ তাঁর মুম্বই ও কলকাতার বাড়িতে আছে দু’তিনটে পোষ্য। তাদেরই সন্তানস্নেহে আগলে রাখেন। সাক্ষাৎকার শেষেও গল্প জমে উঠল তাদের কীর্তিকলাপ নিয়ে। কেমন করে অভিনেত্রীর গায়ে হেলান দিয়ে শুয়ে থাকে, কী ভাবে তাঁর খাবারে ভাগ বসায়, তাদের ভিডিয়ো দেখে চলতে থাকল আড্ডা...