ক্যাটরিনা কাইফের মতো দীর্ঘাঙ্গী নন। চেহারায় নেই দীপিকা পাড়ুকোনের মতো আভিজাত্য। তবু কেরিয়ারের হাইওয়েতে যে স্টুডেন্ট একটার পর একটা ছকভাঙা চরিত্র করতে রাজি, তাঁকে শুধু জ়িন্দেগি কেন, দর্শকও ডিয়ার করে নিতে বাধ্য। কর্ণ জোহরের শ্রেষ্ঠ ছাত্রী আলিয়া ভট্ট নিঃসন্দে‌হে জেন ওয়াইয়ের সেরা অভিনেত্রী। এই মুহূর্তে তাঁর দুর্নিবার গতি অপ্রতিরোধ্য।

এই মাসেই মুক্তি পাচ্ছে অভিষেক বর্মণের ‘কলঙ্ক’। বছরের শেষে অয়ন মুখোপাধ্যায়ের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’, যেখানে প্রথম বার রণবীর কপূরের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন নায়িকা। হাতে আছে কর্ণ জোহর পরিচালিত ‘তখ্ত’। বাহুবলীখ্যাত এস এস রাজামৌলীর ‘ট্রিপল আর’ দিয়ে দক্ষিণী ছবিতে ডেবিউ করবেন। প্রথম বার জুটি বেঁধেছেন সঞ্জয় লীলা ভন্সালী ও সলমন খানের সঙ্গেও। শোনা যাচ্ছে, পরিচালক নীরজ ঘেওয়ানের পরবর্তী ছবির প্রথম পছন্দ আলিয়া। তালিকা থেকেই স্পষ্ট, যে কোনও জঁরের পরিচালকের প্রথম পছন্দ তিনি।

বক্স অফিসে ফার্স্ট ক্লাস

ভাল অভিনয়ের সঙ্গে বক্স অফিসে সাফল্য পাওয়া, সব নায়িকার ভাগ্যে জোটে না। আলিয়ার বিপরীত মেরুতে রয়েছেন রাধিকা আপ্টে ও তাপসী পান্নু, যাঁদের অভিনয় প্রতিভা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু সব শ্রেণির দর্শকের কাছে আলিয়ার মতো গ্রহণযোগ্যতা বাকি দু’জনের নেই। বক্স অফিস সাফল্যের নিরিখেও আলিয়া অনেকটাই এগিয়ে। অপেক্ষাকৃত নতুন পরিচালক শশাঙ্ক খৈতানের ‘হাম্পটি শর্মা কী দুলহনিয়া’, ‘বদ্রীনাথ কী দুলহনিয়া’ বা মহিলা পরিচালকের নির্দেশনায় তাঁর একার ছবি (গৌরী শিণ্ডের ‘ডিয়ার জ়িন্দেগি’, মেঘনা গুলজারের ‘রাজ়ি’)... বক্স অফিসে বাজিমাত আলিয়ার।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

পাশের বাড়ির মেয়ে

ব্যক্তিত্বে ক্যারিশ্মা না থাকলেও আলিয়ার ‘গার্ল নেক্সট ডোর’ ইমেজই কিন্তু তাঁকে দীপিকা পাড়ুকোন বা অনুষ্কা শর্মার চেয়ে স্বতন্ত্র বানিয়েছে। বলিউডে নায়িকাদের চিরাচরিত যে শরীরী জৌলুস দেখতে দর্শক অভ্যস্ত, আলিয়া সেখানেও ব্যতিক্রম। হলিউডের অনেক নায়িকার মতো তিনি প্রায় ফ্ল্যাট চেস্টেড। উপরন্তু যে ভাবে আর পাঁচ জন মিলেনিয়ালের মতো ইনস্টাগ্রামে দিনভর পুঙ্খানুপুঙ্খ স্টোরি শেয়ার করেন, তাতেও আলিয়া সেলেব্রিটি কম, পাশের বাড়ির মেয়ে বেশি। আলিয়ার জনপ্রিয়তার আরও একটি উপাদান, তাঁর গার্ল গ্যাং। জন্মদিন থেকে শুরু করে বান্ধবীদের বিয়েতে যে ভাবে নায়িকা চুটিয়ে উপভোগ করেন, তা দেখে অষ্টাদশী কোনও কলেজপড়ুয়া অবশ্যই বলবেন, ‘‘ও তো আমাদেরই এক জন।’’

প্রতিদ্বন্দ্বী নেই

রণবীর কপূর ও রণবীর সিংহের পরে ইন্ডাস্ট্রিতে বরুণ ধওয়নের আসনও পাকা। গত কয়েক বছরে প্রথম সারির কাছাকাছি চলে এসেছেন ভিকি কৌশল, আয়ুষ্মান খুরানা, রাজকুমার রাও। কিন্তু নায়িকাদের দৌড়ে নতুন প্রজন্মের কেউই আলিয়ার ধারেকাছে নেই। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বলতে দীপিকা পাড়ুকোন ও অনুষ্কা শর্মা। অনুষ্কার শেষ দু’টি ছবি চলেনি। এখনও অবধি ঘোষণা নেই তাঁর পরবর্তী ছবির। মেঘনা গুলজ়ারের ‘ছপক’-এর শুটিং করছেন দীপিকা। এক অর্থে এখন ময়দানে অবিসংবাদী মহেশ ভট্টের কন্যা।

বিতর্কে গা ভাসান না

সম্প্রতি আলিয়া ভট্টকে উদ্দেশ করে অনেক ভাল-মন্দ কথা শুনিয়েছেন কঙ্গনা রানাউত। কখনও তাঁর রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা নিয়ে, কখনও বা কঙ্গনার পাশে না দাঁড়ানো নিয়ে। তবে সংবাদমাধ্যমের সামনে এক বারের জন্যও কঙ্গনাকে প্রত্যুত্তর দেননি আলিয়া। বরং সৌজন্যবোধ বজায় রেখে বলেছেন, ‘‘কঙ্গনা সম্পর্কে আমার পর্যবেক্ষণ আছে। কিন্তু তা সকলের সামনে বলব না।’’

পরীক্ষা এখনও বাকি

এখনও অবধি আলিয়ার ব্যর্থ ছবি একটি, বিকাশ বহেলের ‘শানদার’। গ্ল্যামারাস, ডিগ্ল্যাম, বাস্তবের কাছাকাছি সব ধরনের চরিত্রে আলিয়া সাবলীল। তবে নজরকাড়া চেহারা না থাকায় কস্টিউম ড্রামায় তিনি কতটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন, সেই পরীক্ষা এখনও বাকি। ‘কলঙ্ক’ দিয়েই তার প্রমাণ হয়ে যাবে। টিজ়ার ও গানে তাঁকে দেখতে ভালই লাগছে। তবে ‘ঘর মোরে পরদেশিয়া’তে তাঁর নাচ দীপিকার ‘ঘুমর’ বা ‘মস্তানি হো গয়ি’র কাছে পৌঁছতে পারেনি।

আলিয়ার খামতি বলতে এটুকুই। তবে তাঁর গুণরাজি সেটুকু ঢেকে দিতে পারবে বলেই আশায় বুক বেঁধেছেন অস‌ংখ্য অনুরাগী।