একুশ বছর টানা কাজের পর আপাতত সিরিয়ালের কাজ বন্ধ রাখছেন ‘প্রাক্তন’-এর মলি। জীবনের তৃতীয় ইনিংসে নিজেকে নিজের মতো গুছিয়ে নিচ্ছেন তিনি। হাতে প্রায় খানদশেক ছবি। মেগায় এখন সাত দিন, ২৫-২৬ দিনের লম্বা কাজ। ডেট নিয়ে কোথাও যাতে কোনও ভুল বোঝাবুঝি না হয়, তাই জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ছোট পরদার ‘পারী’। সদ্যই শেষ করেছেন অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের ‘প্রজাপতি বিস্কুট’-এর কাজ। বললেন,‘‘আমি হাওড়ার মেয়ে। অনিন্দ্যর ছবিতেও সে রকমই এক চরিত্র, যে অদ্ভুত ভাবে কথা বলে, হাসে। লোকে সিনেমা হলে এই চরিত্রটা দেখতে দেখতে হেসে পাগল হয়ে যাবে। আমি নিজের অভিনয় দেখে এতটাই হাসছিলাম যে ডাবিং করতে পারছিলাম না।’’  ‘প্রজাপতি বিস্কুট’ ছাড়াও পাভেলের ‘রসগোল্লা’ ছবিতেও এক দজ্জাল শাশুড়ির ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। যে সারাক্ষণ জামাইদের নানা অজুহাতে নাস্তানাবুদ করে চলে। তবে শুধু মজার বা অন্য রকম চরিত্রই নয়, রাজ চক্রবর্তীর প্রযোজনায় অভিমন্যুর ছবি ‘নূর জাহান’-এ নেতিবাচক চরিত্র নিয়েও তিনি বেশ উত্তেজিত। মনে করেন ‘প্রাক্তন’ তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ‘‘সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘সমান্তরাল’ ছবিতে অভিনয়, কমার্শিয়াল ছবি ‘নবাব’,‘ক্ষুদিরাম’ ছবিতে অপরূপা (ক্ষুদিরামের বোনের চরিত্র), ঋতব্রতর ‘পুজোর ডায়েরি’…’’ আঙুল গুনে গুনে বলে চলেছেন অপরাজিতা। সকালে উঠে অভিনয় না করতে পারলে পাগল পাগল লাগে তাঁর।

‘পেয়ারি বিন্দু’-র জন্য মুম্বই তাঁকে চিনেছে। কলকাতা তাঁর নিজের ঘর। ছবি, ওয়েব সিরিজ, বিজ্ঞাপনের কাজ পেছন ফিরে কি দেখেন তিনি? ‘‘ফেলে আসা সময় আমায় এগিয়ে দেয়। মেগাতে রোজ অভিনয়ের অভ্যেস আমায় অভিনেত্রী করেছে। আর আমি শিবু-নন্দিতাদি আর লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাবনার জন্য আজও অপেক্ষায় থাকি। ওঁরাই আমার অভিনেত্রী সত্তাকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে যেতে জানে,’’ সাফ জবাব অপরাজিতার। সত্যিই তাঁর সময় কম। সামনেই লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘মাটি’-র শ্যুট। ছোট রানে আর তৃপ্তি নেই। লক্ষ্য বড় রান!