ছবি হিট করানোর ফর্মুলা যদি এক বার হিন্দি ছবির ইন্ডাস্ট্রির হাতে চলে আসে, বক্স অফিসে ধাক্কা না খাওয়া অবধি সেই ঘোড়া ছুটতেই থাকে। তার মানে এটা নয়, শুধু বক্স অফিসের ভরসায় বায়োপিক চলছে। গত কয়েক বছর ধরেই বলিউডে বায়োপিকের রমরমা। আগামী বছরেও তাতে ভাটা পড়বে বলে মনে হচ্ছে না।

সেলেব হোক বা না হোক, ব্যক্তিজীবন নিয়ে জানার কৌতূহল অদম্য। দর্শকের এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে ঘুঁটি করে সেলুলয়েডে আসছে একের পর এক রোমাঞ্চকর বায়োপিক। খেলোয়াড় থেকে অভিনেতা, উদ্ভাবক থেকে ভারতীয় সেনা... বাদ পড়ছেন না কেউই।

 

অচেনা হল চেনা

বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, যখন এমন মানুষকে নিয়ে বায়োপিক করা হয়, যাঁর বিশেষ প্রচার নেই। সেই চরিত্রে যদি কোনও তারকা থাকেন, তবে অন্য কথা। যেমন ‘প্যাডম্যান’। অরুণাচলম মুরুগানন্থামকে নিয়ে বহু লেখালিখি সত্ত্বেও অক্ষয়কুমারের দৌলতেই কিন্তু আপামর দেশবাসীর ঘরে ঘরে পৌঁছে গেলেন ভারতের প্যাডম্যান। দশরথ মাঝির কথা ক’জন জানতেন? নওয়াজ়উদ্দিন সিদ্দিকি অভিনীত ‘মাঞ্ঝি: দ্য মাউন্টেন ম্যান’-এর হাত ধরে দশরথ মাঝি লোকনজরে এলেন। আবার আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকামী শিক্ষক রামচন্দ্র সাইরাস, যাঁকে ঘিরে হনসল মেটা বানালেন ‘আলিগড়’। বিকাশ বহেলের ‘সুপার থার্টি’তে শিক্ষক আনন্দ কুমারের ভূমিকায় একেবারে সাদামাঠা হৃতিক রোশন।

 ‘সঞ্জু’তে রণবীর

বায়োপিকে মেয়েরা
 

এই ময়দানে মহিলাদের চেয়ে এগিয়ে পুরুষেরা। তবে বিদ্যা বালনের ‘দ্য ডার্টি পিকচার’, সোনম কপূরের ‘নীরজা’ বা প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার ‘মেরি কম’— তিনটি ছবিই নায়িকাদের কেরিয়ারে যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই পোক্ত জায়গা করেছিল দর্শকমনেও।

 

চেনা তবু অচেনা

নজরে রয়েছেন এমন ব্যক্তিত্বকে নিয়ে বায়োপিক হলে দর্শকের মধ্যে সাড়া পড়তে বাধ্য। যেমন ‘সঞ্জু’। এক জন অভিনেতার জীবনের না জানা অধ্যায়গুলি কতটা বিশ্বাসযোগ্য ভাবে আর এক অভিনেতা পর্দায় ফুটিয়ে তুলবেন, তার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আগ্রহ রয়েছে নন্দিতা দাসের ‘মান্টো’কে নিয়ে। জনপ্রিয় খেলোয়াড় মহেন্দ্র সিংহ ধোনির বায়োপিক ‘এম এস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ বক্স অফিসে সোনা ফলিয়েছিল। ধোনির চরিত্রে অভাবনীয় অভিনয় করেছিলেন সুশান্ত সিংহ রাজপুত। ‘ভাগ মিলখা ভাগ’-এ নজর কেড়েছিলেন ফারহান আখতার। চেনা মুখের সুবাদে এই ছবিগুলিতে প্রযোজকরা এক কদম এগিয়েই থাকেন।

‘সুপার থার্টি’তে হৃতিক

শীর্ষে খেলোয়াড়

সংখ্যাতত্ত্বের নিরিখে খেলোয়াড়দের বায়োপিকই বলিউডে এগিয়ে। এর পর কপিল দেবের বায়োপিকে মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে রণবীর সিংহকে। সানিয়া নেহওয়ালের চরিত্রে শ্রদ্ধা কপূর। হকি খেলোয়াড় সন্দীপ সিংহের ভূমিকায় দেখা যাবে দিলজিৎ দোসাঞ্জকে।

‘গোল্ড’-এ অক্ষয়

অক্ষয়ের সোনা

বলিউডে নায়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বায়োপিক করেছেন অক্ষয়কুমার। সব ক্ষেত্রে পুরোপুরি বায়োপিক বলা না গেলেও ছবিগুলির মূল চরিত্র ও ঘটনার বাস্তব অস্তিত্ব ছিল। যেমন ‘এয়ারলিফ্ট’, ‘রুস্তম’। ‘গোল্ড’-এ তিনি হকি খেলোয়াড় বলবীর সিংহের চরিত্রে, যাঁর দৌলতে স্বাধীনতার পরে অলিম্পিকে প্রথম সোনা জিতেছিল ভারত।

 

আখড়ায় রাজনীতিক

এখনও পর্যন্ত রাজনীতিকদের বায়োপিক বলিউডে সে ভাবে হয়নি। তবে মনমোহন সিংহের ভূমিকায় অনুপম খেরের ফার্স্ট লুক সোশ্যাল মিডিয়ায় সাড়া ফেলেছিল। ইন্দিরা গাঁধীর ভূমিকায় দেখা যাবে বিদ্যা বালনকে। বাল ঠাকরের ভূমিকায় নওয়াজ়উদ্দিন সিদ্দিকির কাজ করার কথা।

‘ভাগ মিলখা ভাগ’-এ ফারহান

অন্ধকার দুনিয়ার চমক

গ্যাংস্টারদের জীবন নিয়েও কৌতূহল কম নয়। শ্রদ্ধা কপূরের ‘হাসিনা পার্কার’, অর্জুন রামপালের ‘ড্যাডি’ বাণিজ্যিক ভাবে সফল না হলেও ট্রেন্ডটা নিয়ে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। আর এক ধাপ এগিয়ে সন্ত্রাসবাদীর বায়োপিক ভাবলে রাজকুমার রাওয়ের ‘ওমের্তা’।

বিখ্যাত হোক বা অখ্যাত, নানা পেশার মানুষের জীবনে গল্পের রসদ কম থাকে না। সোশ্যাল মিডিয়া ও মুঠোবন্দি বিনোদনের যুগে বাস্তব জীবনের সাদা-কালো গল্পকেই রঙিন পর্দায় তুলে ধরতে চাইছেন পরিচালকেরা। তবে পর্দায় ততটুকুই দেখানো হয়, যতটা দেখালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সব কূল রক্ষা হয়!