• logo
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আমরা হলাম H2SO4

সালফিউরিক অ্যাসিডের ফর্মুলাই নাকি তাঁদের সবচেয়ে ভাল ব্যাখ্যা করতে পারে। আর হ্যাঁ, গোটা বছরে এই প্রথম আনন্দplus প্রচ্ছদ কাহিনির হেডলাইন দেওয়া হল বিভাগের বাইরে থেকে। দিলেন স্বয়ং শাহরুখ খান। প্রিয়তম জুড়ি কাজল সমেত ডিসেম্বরের রাত সাড়ে দশটার কলকাতায় তিনি গৌতম ভট্টাচার্য-এর সামনে। যথারীতি আনপ্লাগড...

srk-kajol
  • logo

ইন্টারভিউ শুরু হবে কী, তার আগেই খাওয়া নিয়ে দু’জনের খুনসুটি। নিজেকে ফুডি বলতে গর্ব বোধ করা কাজল প্লেট থেকে কয়েকটা কাবাব পরপর অদৃশ্য করে দিচ্ছেন দেখে শাহরুখের সতর্কবাণী, ‘‘কাজল হচ্ছেটা কী? এর পর ডিনারের ব্যবস্থা আছে তো! গৃহস্বামী ভাল বাঙালি খাবারের আয়োজন রেখেছেন। হয়তো বিরিয়ানিও আছে।’’

কাজল অবিচলিত। ‘‘তখন আবার খাব।’’ কাজল ভেবেই পাচ্ছেন না গোটা পাঁচেক কাকোরি কাবাব রাত সওয়া দশটায় নামানোর সঙ্গে ডিনারের কী সম্পর্ক? ‘‘শাহরুখটা একদম খায় না। এত কম খেলে হয়?’’ শাহরুখ আবার ভেবে পাচ্ছেন না, একটা মানুষ খাওয়া নিয়ে কী করে এত ইনভলভড থাকতে পারে। একদিনের কথা মনে পড়ছে তাঁর। সে দিন শ্যুটিংয়ে একটা র‌্যোমান্টিক দৃশ্যের টেক হচ্ছে দু’জনের। শটের মাঝে কয়েক সেকেন্ড ব্রেক। কাজল হঠাৎ তখন বললেন, আজ দারুণ বাটার চিকেন হয়েছে। শটটা নিয়েই খেতে যাব। শাহরুখ মনে করতে পারেন তাঁর অভিব্যক্তি, ‘‘আমি জাস্ট নির্বাক হয়ে যাই।’’

অন্তত খাওয়াদাওয়া যে ভারতীয় সিনেমার সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জুড়িকে মেলায়নি, সেটা প্রশ্নাতীত। একজন খাওয়ার জন্য বাঁচেন। অন্যজন বাঁচার জন্য খান।

টেমপারামেন্টেও দু’জনে দু’মেরুর। কাজল যা মুখে আসে তাই সোজাসুজি বলেন। কে কী ভাবল, কে কী মনে করল, তার কোনও রকম তোয়াক্কা না করে। শাহরুখ অনেক সাবধানী। ধৈর্যক্ষমতা তাঁর প্রিয়তম নায়িকার চেয়ে অনেক বেশি। শাহরুখ আবার সুপারস্টারও। এই মুহূর্তে প্ল্যান করেন, পরমুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলান। প্রথমে ঠিক করলেন, ইন্টারভিউ-ডিনারটিনার শেষ করে দক্ষিণ কলকাতার ওই বাড়ি থেকেই সোজা এয়ারপোর্ট। ভোর চারটেয় ফ্লাইট ধরবেন। গুগলে এই সময় যে কোনও কলকাতা-মুম্বই ইন্ডিগো, জেট বা এয়ার ইন্ডিয়া দেখাচ্ছে না তো কী! তিনি কি দেশের এয়ারলাইন্সের উপর নির্ভরশীল নাকি? চার্টার্ড ফ্লাইটে এসেছেন। যখন ইচ্ছে ফিরবেন। শোনা গেল সেটা বদলে দাঁড়িয়েছে বুধবার দুপুর বারোটা।

কাজল ইতিমধ্যে মৃদু শাসানি শুরু করেছেন শাহরুখ, বারোটা মানে কিন্তু বারোটা। আমি যেন তখন না শুনি যে, আবার টাইমিং বদলেছে। বা তুই বলছিস, বেবি, আর একটু ঘুমিয়ে নেব। আমি কিন্তু স্ট্রেট তোর ঘরে ঢুকে জল ঢেলে দেব। গোয়ায় কী করেছিলাম মনে আছে তো। শাহরুখের সন্ত্রস্ত মুখচোখ দেখে মনে হল, ভালই মনে আছে।

হিন্দিতে ওঁদের মধ্যে কথা হতে শুনিনি। পরস্পরকে সম্বোধনটা তখন তাই বুঝতে পারিনি। ইংরেজি ‘ইউ’ মানে তুমি হতে পারে, তুই-ও হতে পারে। পরে জেনে এতটুকু আশ্চর্য হইনি যে, সম্পর্কটা তুইতোকারির। শুধু অবাক লেগেছিল, এ রকম দুই ইয়ার-দোস্ত কী করে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সফলতম রোম্যান্টিক জুটি হতে পারে? রোম্যান্স কোথায় এঁদের মধ্যে? সারাক্ষণ তো চুলোচুলি। ক্রমাগত একজন আরেকজনের পিছনে লাগছেন। প্রতি মাইক্রো সেকেন্ডে লড়াই শুরু করে দিচ্ছেন।

 

ছবি: কৌশিক সরকার।

ইন্টারভিউ পড়তে নীচের ২-এ ক্লিক করুন:

 

শাহরুখ: আরে কাজল, অনেকক্ষণ ধরে তোকে বলছি না যে আর না খেতে! এর পর ডিনারের জন্য খিদে থাকবে না।

কাজল: হোয়াট আ স্টুপিড কমেন্ট। খিদের সঙ্গে খাবারের কী সম্পর্ক রে? আমার থিয়োরি হল, ভাল খাবার পেলেই খাব। কোনও লাগাম রাখব না। কিন্তু আমি কাকে বলছি। ফুড নিয়ে শাহরুখের সঙ্গে কোনও রকম কথাবার্তা মানে শিয়ার ওয়েস্টেজ। কিছুই বোঝে না।

শাহরুখ: ওরে বাবা।

শাহরুখ: ইয়েস, ইয়েস, আমরা হলাম রোম্যান্সের পি সি সরকার।
কাজল: উফ, তুই পারিসও।
ছবি: সুব্রত কুমার মণ্ডল।

এ বার ইন্টারভিউ শুরু করি।

দু’জনেই: হো হো হো ইয়েস।

 

হতে হতে গেঁজে যাওয়া প্রশ্নটাই করছি। আপনাদের জুড়ির এমন আশ্চর্য সফল হওয়ার রসায়নটা কী? কাইন্ডলি অন্য রকম উত্তর দেবেন। কারণ এই প্রশ্নটা নিশ্চয়ই এক লক্ষ বার করা হয়েছে।

শাহরুখ: আলাদা উত্তর না, সত্যি কথাটাই বলছি। আমরা কখনও ভাবিনি নিজেরা স্পেশাল বলে। একটা জিনিস বুঝতে হবে যে, অন্যদের তুলনায় আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি অনেক কম বয়সে। ও যদিও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির লোক। আমি বাইরের। তবু ব্যাপারটাই আমরা ভাল মতো বুঝতাম না। আমরা জাস্ট দু’টো কমবয়সি ছেলেমেয়ের মতো সেটে মজা করেছি। কোনও কিছুকেই সিরিয়াসলি নিইনি। প্রথম যখন একসঙ্গে কাজ করি, আমার বয়স আঠাশ। ও বোধ হয় উনিশ। আমরা পরিস্থিতির গুরুত্বটাই তখন বুঝিনি। হবি তো হ, ‘বাজিগর’ একটা কাল্ট ছবি হয়ে গেল। বিনয় কমিয়েও বলছি, ‘বাজিগর’ বিশাল হিট ছিল! আমরা তখনও মোশনের মধ্য দিয়ে চলেছি। পরের ছবি একসঙ্গে ‘কর্ণ অর্জুন’। তখনও আমরা সিরিয়াসলি নিচ্ছি না। ওটা একটা অ্যাকশন ফিল্ম, যার মাথামুন্ডু আমি বুঝিনি। কিন্তু সেটাও কাল্ট ফিল্ম হয়ে গেল। আমি যে দিন প্রথম বসে ‘কর্ণ অর্জুন’ দেখলাম, কিছু বুঝতেই পারিনি। অথচ সুপারহিট।

কাজল: আরে, আমি তো সিনেমাটা দেখিইনি।

শাহরুখ: বলছিস কী রে! ‘কর্ণ অর্জুন’ দেখিসনি।

কাজল: সচ, ম্যায়নে দেখি হি নেহি ওহ পিকচার (হো হো হাসি)।

শাহরুখ: খাওয়াতে সময় কম দিয়ে একটু নিজের সিনেমাগুলো দেখলে পারিস তো।

কাজল: চুপ কর।

শাহরুখ: যাই হোক, তার পর চলে এল আর একটা মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ছবি। ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’। ডিডিএলজে যে ভারতের সর্বকালের সবচেয়ে বক্স অফিস পেতে যাচ্ছে, কে জানত! আমি বুঝিনি। পরিচালক আগে বোঝেনি। কেউ বুঝেছে বলে আমার মনে হয় না। আসছি-যাচ্ছি-আড্ডা মারছি-কাজ হচ্ছে। লভ স্টোরি তো ঠিক আছে। কে জানত, মাত্র ৫৫/৬০ দিনে শেষ করা ফিল্মটা একদিন অমরত্ব পেয়ে যাবে! ইট জাস্ট হ্যাপেনড। কিছুই আগাম বুঝিনি।

কাজল: এটা বললে আমি শুনব না। আমার কিন্তু মনে হয়েছিল। ডিডিএলজে-র স্ক্রিপ্টটা পড়েই ভেতরে একটা ধাক্কা দিয়েছিল। তুই কী করে বুঝবি! তুই তখন অলরেডি একটা তারকা-সুলভ সুউচ্চ বায়ুমণ্ডলে বসে পড়েছিস।

শাহরুখ: চুপ কর। আমি যেটা বলতে চেয়েছিলাম তা হল গল্পের মধ্যে এমন কোনও ইন্টেলেকচুয়াল অ্যাপিল পাইনি যে দারুণ আকর্ষণ করে। গল্পটা ছিল খুব সিম্পল। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ আরেকটা ছবি। দুর্দান্ত হিট হয়ে গেল। মনে আছে আমার বাড়িতে কর্ণ জোহর যখন ন্যারেশন করছে, হাউ হাউ করে সবাই কাঁদতে শুরু করে দিল। আমি বললাম হচ্ছেটা কী? সবাই কাঁদছ কেন?

কাজল: হ্যাঁ, আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। অস্বীকার করব না, গল্পটা শুনেই কান্না পেয়ে যায়।

শাহরুখ: আরে কর্ণ তো ন্যারেশন করতে করতেই কাঁদছিল। আমি বললাম, আরে কান্না তো থামা। এটা তো খুব এমব্যারেসিং ব্যাপার করে ফেলছিস। বলছি তো আমি ছবিটা করব।

 

তাই?

শাহরুখ: ঠিক এই ভাবে ঘটেছিল। আমি যেটা বলতে চেয়েছিলাম তা হল কোনও কিছুই ডিজাইন করে, আঁটঘাট বেঁধে হয়নি। আমরা জাস্ট নর্ম্যাল থেকেছি। কোনও কিছুই বুঝে করিনি যে এটা একটা ব্লকবাস্টার ছবি করতে নামব। ডিরেক্টর রোহিত শেট্টি হোন কী আদি চোপড়া— আমরা জাস্ট নর্ম্যাল বিহেভ করেছি। আজ মনে হয় এই সিম্পল, জেনুইন, অনেস্ট থাকাটাই হয়তো দর্শককে আকর্ষণ করেছে। আমরা গুরুত্বটাই অর্ধেক সময় বুঝিনি। জাস্ট মনে হয়েছে, আরে দারুণ ভাল স্ক্রিপ্ট রে। চল, ফাটিয়ে দিই। সব সময় স্বাভাবিক থাকতে পারাটাই আমার মনে হয় জুটিটাকে স্পেশাল করেছে।

 

কাজল, আপনার বন্ধুর মধ্যে একটা স্পোর্টসম্যান সুলভ ব্যাপার রয়েছে। কিছুতেই হারতে না চাওয়া। বলিউডে সবাই সেই স্পিরিটের কথা বলে। কেকেআর-এও আমরা কাছ থেকে দেখেছি। আপনি কি শাহরুখের মতোই যে, সব সময় আপনাকে জিততে হবে?

কাজল: আমি কারও সঙ্গে কখনও লড়াই করিনি যে আমায় জিততে হবে। আমি নিজের সামনে কখনও কাল্পনিক প্রতিপক্ষ জড়ো করিনি যে অমুককে না হারালেই নয়। ইন্ডাস্ট্রির কথা যদি বলেন, প্রত্যেকের নিজের জায়গা আছে। আমারও আছে।

শাহরুখ: কাজল সত্যিই এ রকম। ও এমন একজন মেয়ে যে কখনও ইঁদুর দৌড়ে থাকেনি। যা কাজ করেছে নিজের ইচ্ছায় করেছে। এই একটা ফিল্ম করল। আবার হয়তো পাঁচ বছর পর করবে। ও দেশের অন্যতম সেরা স্টার। অথচ জীবনের প্রথম দিন থেকে ওকে আমি সেটে দেখছি। আর তাই জানি, সত্যি আজ পর্যন্ত কোনও দিন কারও সঙ্গে কম্পিট করেনি।

 

যাকে বলে কুল।

শাহরুখ: ইয়েস কুল। এমন নয় যে, নিজেকে ও বাকিদের চেয়ে সুপিরিয়র ভেবেছে। বা নিজেকে খাটো করে রেখেছে। কাজল জাস্ট ওটা ভাবেইনি।

 

একটা কথা বলুন। ভারতীয় সিনেমার যত বড় বড় জুটি, ধরুন রাজ-নার্গিস। দিলীপকুমার-মধুবালা। রাজেশ-শর্মিলা। অমিতাভ-রেখা — সবেতেই একটা নিষিদ্ধ সম্পর্কের ছোঁয়া ছিল। এঁদের নিয়ে ভরপুর গসিপ হয়েছে। আপনারা সে দিক থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। আপনারা হলেন ইয়ার-দোস্ত। অথচ লাইট-সাউন্ড-ক্যামেরা-অ্যাকশন বলার সঙ্গেই আপনারা হয়ে যান লাভার। এর গভীর রহস্যটা কী?

শাহরুখ: রহস্যটা হল (গম্ভীর মুখ করে) আমরা যমজ।

কাজল: কী বললি, একদম বলবি না। ডোন্ট সে ইট , ডোন্ট সে ইট (দমফাটা হাসি)

 

শাহরুখ: না, না, আজ বলেই দিই। আজ কলকাতা বসে বলার সময় হয়েছে কাজল যে, আমরা যমজ ভাই-বোন।

কাজল: শাটআপ।


সবিস্তার জানতে ক্লিক করুন।

হোয়াট ননসেন্স? একটু আগে তো আপনি বললেন বয়সে কাজলের চেয়ে আট-ন’বছরের বড়। যমজ কী করে হতে পারে?

শাহরুখ: নো নো। আমার বয়স কমে গিয়েছে। এখন আমরা সমবয়সি। সাংঘাতিক সত্যিটা হল এই যা আপনাদের কাগজে প্রথম বলতে চাই।

কাজল: জাস্ট স্টপ ইট।

শাহরুখ: সত্যিটা বলতেই হবে আমায় যে আমরা যমজ। কুম্ভ মেলায় আলাদা হয়ে যাই। হাম দোনো বিছর গয়ে। কোনও দিন বলিনি যে, তনুজা মাম্মি আসলে আমার... আসলে আমার।

 

না, না, সিরিয়াসলি উত্তর দিন তো। কাজল আপনি বলুন, কেমিস্ট্রির রহস্যটা।

কাজল: আমার মনে হয় আসল কারণ হল, একে অন্যের ওপর শতকরা একশো ভাগ ভরসা করতে পারা। আমাদের মধ্যে অসম্ভব পারস্পরিক বিশ্বাস আছে। কর্পোরেটে সেই ওয়ার্কশপ হয় না। নানা ট্রাস্ট এক্সারসাইজ হয় না যেখানে আপনি পড়ে গেলেও পিছনে ধরার মতো লোক থাকে। ওর ওপর সেই বিশ্বাসটা আছে যে কোথাও গিয়ে আমি যদি পড়ে যাই, শাহরুখ আমায় পড়তে দেবে না। ঠিক ধরে ফেলবে। এই বিশ্বাসটাই বোধহয় পর্দায় গিয়ে ধাক্কা দেয়। দর্শককে অ্যাট্রাক্ট করে।

শাহরুখ: আপনাদের পাঠকদের বিশ্বাস হবে কি না জানি না। কিন্তু সবচেয়ে রোম্যান্টিক সিন টেক হওয়ার আগের মুহূর্তেই হয়তো আমরা হো হো করে হাসছি। ক্যামেরা রোল হল, আমার হয়তো ডায়ালগ হল — পনরা সাল বাদ। ব্যস, কাজল হয়তো কাঁদতে শুরু করে দিল। এ বার ওর দেখাদেখি আমিও। একটা কথা বলি। হয়তো বলা উচিত নয়। অনেক অভিনেতাই হয়তো করে থাকে। তাও বলছি। আমি আর কাজল আজ অবধি কান্নার দৃশ্যে গ্লিসারিন ব্যবহার করিনি। কোনও বাহ্যিক সাহায্য নিইনি চোখে জল আনার জন্য। আমরা হয়তো দু’মিনিট আগেই হাসছিলাম। হ্যা হ্যা হি হি করছিলাম। কিন্তু ওই যে কাজল কেঁদে ফেলল, ব্যস, দু’জনের চোখে জল। এমন অনেক সময় হয়েছে যে, ক্যামেরা ক্লোজ আপ নিচ্ছে না। লং শটে আছে। তখনও কাজল কেঁদেই চলছে। আমরা কখনও ভাবিনি, এই সিনটা পেয়েছি, একে মেরে বেরিয়ে যাব। নেভার।

 

‘দিলওয়ালে’‌তেও বাণিজ্যিক ছবির নানান অবাস্তব মুহূর্ত। কিন্তু আপনি আর কাজল যখনই একসঙ্গে। হলের চেহারাটা বদলে যাচ্ছে। সবাই ভাবছে একটা কিছু ঘটবে।

শাহরুখ: এটা হল সেই ম্যাজিক গিলি গিলি গো। কী যেন নাম বিখ্যাত সেই বাঙালি ম্যাজিশিয়ানের?

 

পি সি সরকার।

শাহরুখ: ইয়েস, ইয়েস, আমরা হলাম রোম্যান্সের পি সি সরকার।

কাজল: উফ, তুই পারিসও।

 

আপনি তো অন্য নায়িকাদের সঙ্গেও অনেক হিট দিয়েছেন। কিন্তু কাজলের মধ্যে কী আছে যা অন্যদের মধ্যে নেই?

শাহরুখ: এই আলোচনাটা অন্যায়। কাউকে কারও সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়। স্ক্রিপ্ট-গল্প-পরিচালক — সব আলাদা আলাদা।

 

কিন্তু আপনাদের কম্বিনেশনে তো ফ্লপ নেই। যেন ফেডেরার-নাদালকে নিয়ে একটা ডাবলস টিম।

কাজল: ওয়াও। দারুণ। থ্যাঙ্ক ইউ। (হো হো হাসি)

শাহরুখ: না, আমি চাইব কোনর্স আর ম্যাকেনরো। ওটাই আমার ফেভারিট টিম। আমার কাছে বেশি ইন্টারেস্টিং।

কাজল: কেন?

শাহরুখ: কারণ, আমি কোনর্স আর তুই হলি ম্যাকেনরো। কথায় কথায় মাথা গরম করিস, অসভ্য।

 

সো কাজলকে আমরা বলতে পারি, ম্যাকেনরো অব বলিউড।

শাহরুখ: শি ইজ দ্য ম্যাকেনরো অব বলিউড।

কাজল: হচ্ছেটা কী।

 

মনে করুন, প্রযোজক হিসেবে ‘সিলসিলা’ রিমেক করছেন। রেখার রোলে কাজল। এ বার জয়ার রোলে কাকে নেবেন?

শাহরুখ: প্রোডিউসর হিসেবে আমি কোনও দিন রিমেক করব না। ‘সিলসিলা’ও না। যশ চোপড়ার প্রতি যাবতীয় শ্রদ্ধা রেখে বলছি, আমি কখনও রিমেক বানাব না। অরিজিনাল ছাড়া কিছুতেই করব না। বরঞ্চ সামান্য উদ্ধত হয়ে বলতে চাই, ইনসাল্লা, কাজল আর আমি একসঙ্গে যে ক’টা ছবি করেছি সবক’টার রিমেক হওয়া উচিত। লোকে হয়তো বলবে, শাহরুখ দেখেছ কী অ্যারোগেন্ট। সে বলুক। ‘বাজিগর’, ‘ডিডিএলজে’, ‘মাই নেম ইজ খান’ — এগুলোর রিমেক হবে না? হতে পারে!

কাজল: ‘ডিডিএলজে’ তো ইতিমধ্যে কতবার চেষ্টা হয়ে গেল।

 

শাহরুখ আপনি মনে করুন আনন্দplus-এর চিফ সাব এডিটর। এই ইন্টারভিউয়ের একটা হেডিং করতে হবে। কী দেবেন?

কাজল: কী দেওয়া যায়?

 

কুছ কুছ হোতা হ্যায়?

শাহরুখ: না, না, আমি বলছি। অ্যা-ই ইন্দ্রনীল (সামনে বসা ইন্দ্রনীল রায়ের দিকে তাকিয়ে) একটু গুগল করো তো: সালফিউরিক অ্যাসিডের ফর্মুলা কী?

কাজল: কেন সেটা দিয়ে কী হবে?

শাহরুখ: তুই বুঝবি না। আমি সায়েন্স স্টুডেন্ট ছিলাম তো। আমি জানি কী বলছি। কেন বলছি।

(শাহরুখ এ বার ঝুঁকে পড়লেন গুগল দেখতে)

কাজল: ও যতক্ষণ এ সবে ব্যস্ত থাকছে, আমি আপনার শাহরুখ খান। প্রশ্ন করে যান।

 

শাহরুখ নয়, কাজলকেই জিজ্ঞেস করছি। বাংলা বলতে পারেন?

কাজল: না, একটু একটু বুঝতে পারি। পুজো প্যান্ডেলে বলে ও মাসিমা। ওটা বুঝতে পারি। বলতেও পারি। ওইটুকুই। বাড়িতে বাংলা বলা হয় না।

 

আপনার বাংলা জ্ঞানের একটা টেস্ট নেব?

কাজল: ডান।

 

‘দিলওয়ালে’ কলকাতায় ভাল চলছে — মানে কী?

কাজল: এটা তো সোজা। ‘দিলওয়ালে’ ইজ ডুইং গুড বিজনেস ইন ক্যালকাটা।

শাহরুখ: (মোবাইল থেকে মুখ তুলে) বাংলাটা ঠিক করে বল। মনে রাখবি কিন্তু এটা আমার টেরিটরি। এখানে আমি যা খুশি তাই করতে পারি। আমি হচ্ছি এখানকার খানদাদা। তুই আমার নামটা শুনে ইস্টবেঙ্গল মাঠে এত খিল্লি করলি তো। তোর কোনও আইডিয়া নেই রে।

কাজল: খানদাদা তো বুঝলাম। (হাসি) তোকে আবার কে বলল ডক্টর খানদাদা। উফ জাস্ট পারা যাচ্ছে না।

 

আচ্ছা কাজল, ‘দিলওয়ালে’ ফ্লপ করলে কতটা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়তেন? এই যে শুরুর দিকে নেগেটিভ লেখালিখি হচ্ছিল।

কাজল: খুব হতাম না। আমি অন্য কারও ওপিনিয়নের উপর নির্ভর করে জীবন চালাই না। আমি নিজে জানি ফিল্মটা কী রকম। আমি তাতে কেমন করছি। আমরা প্রত্যেকে যে শতকরা তিনশো পঞ্চাশ ভাগ এর পিছনে ঢেলে দিয়েছি। এর পর এটুকুই খারাপ লাগে, আমি যে ম্যাজিকটা দেখতে পেলাম, সেটা এরা পেল না। এর বেশি কিছু নয়। নিজের ভাল কাজ নিয়ে আমি গর্বিত থাকি। আর অন্যের নেগেটিভ অ্যাসেসমেন্টে সেটা ধুয়ে যেতে দিই না।

 

শাহরুখ আপনি?

শাহরুখ: আমি এটুকু বুঝে গিয়েছি যে, সবাইকে খুশি করে চলা যায় না। কারণ, সবাইকে একই সঙ্গে খুশি করা সম্ভব নয়। আমি যখন ‘দিলওয়ালে’ করি, তখন ওরা বলে ‘চক দে’ কেন হল না! যখন ‘চক দে’ করি তখন বলে, আমরা কিন্তু ‘বাজিগর’ এক্সপেক্ট করেছিলাম। যখন ‘ওম শান্তি ওম’ বানাই, তখন বলে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ কেন হল না? আমি এ লাইনে আর ভাবিই না।

 

হেডলাইনটা?

শাহরুখ: হেডলাইনটা: আমি আর কাজল হলাম গিয়ে সালফিউরিক অ্যাসিডের ফর্মুলা — H2SO4। এ বার নেটে দেখে নিন কী কী মিলে সালফিউরিক অ্যাসিড হয়।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন