কয়েক দিন আগে আলিয়া ভট্ট এবং রণবীর কপূরের একটি ছবি অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। সেখানে আলিয়ার ক্ষুব্ধ মুখ এবং রণবীরের বিরক্ত অভিব্যক্তি, অথচ তাঁদের সঙ্গে থাকা বাকিরা বেশ হাসিমুখেই ছবি তুলছেন। তা থেকে ধারণা করা হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েই ঝামেলা হয় তাঁদের। কী নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল, সেটা অবশ্য বোঝা যায়নি। কারণ, তারকারা ব্যক্তিগত জীবনের চারপাশে সময় বুঝে দেওয়াল তুলতে জানেন। কিন্তু ইদানীং বহু তারকা জুটিকেই দেখা যাচ্ছে যে, ইমোশনাল বোঝাপড়াকে সামনে আনতে দ্বিধা করছেন না। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে তাঁদের প্রেমের উচ্ছ্বাস বা পিডিএ যেমন প্রকাশ্যে আসে, আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো প্রেমে বিরক্তি-রাগ-মনোমালিন্যকেও ঢেকে রাখছেন না।

মাস কয়েক আগে ডান্স ক্লাস থেকে বেরোনোর সময়ে রুষ্ট মুখে দেখা গিয়েছিল আলিয়া-রণবীরকে। পাপারাৎজ়ির ক্যামেরাতেই রয়েছে তার নজির। আলিয়া রাগী মুখে হেঁটে এগিয়ে যাচ্ছেন, রণবীর মুখ নিচু করে পিছনে... জল্পনা শুরু হয়ে যায় যে, দু’জনের সম্পর্কে আঁধার নেমেছে! তবে আলিয়া পরে বলেন, ‘‘দু’জনেই ক্লান্ত ছিলাম বলে ও রকম দেখতে লাগছিল।’’

তবে শুধু সমকালীন কেন, কয়েক বছর আগে থেকেই সব আবেগকে লোকসমক্ষে প্রকাশ করে ফেলা শুরু করেছিলেন অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন। তাঁদের সম্পর্কে বহু ওঠাপড়া এসেছে। বিয়ের পরেও ঐশ্বর্যা এনডর্সমেন্ট, ব্র্যান্ড প্রোমোশন চালিয়ে যাওয়া বড় তারকা। অথচ সেই সময়ে অভিষেকের কেরিয়ারে খরা। স্বাভাবিক ভাবেই মিডিয়ায় উপস্থিতি ঐশ্বর্যার অনেক বেশি। তাই দু’জনে জোড়ায় কোনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে মিডিয়া ঐশ্বর্যারই ছবি তুলতে চাইত। তাতে বহু বারই রেগে গিয়েছেন অভিষেক। আর ঐশ্বর্যা ছুটে গিয়েছেন স্বামীর মান ভাঙাতে!

অভিষেক-ঐশ্বর্যা

এক বছর আগে ‘পদ্মাবত’ মুক্তি পাওয়ার পরে এক সাংবাদিক বৈঠকে শাহিদ কপূর এবং মীরা রাজপুতের মধ্যে হালকা তর্কাতর্কি হয়। প্রেস কনফারেন্সে তখন শাহিদকেই ছবি নিয়ে প্রশ্ন করে চলেছেন সাংবাদিকরা। কিন্তু শাহিদ বারবার মীরাকে বলছিলেন, তাঁর পাশে এসে দাঁড়াতে। কিন্তু সাংবাদিকরা যেহেতু শাহিদকেই প্রশ্ন করে যাচ্ছিলেন, মীরা হয়তো স্বচ্ছন্দবোধ করছিলেন না সেখানে যেতে। শাহিদ তখন বেশ রাগত ভাবে মাইক্রোফোনের সামনেই মীরাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘‘মীরা, হোয়াই আর ইউ স্ট্যান্ডিং সো ফার?’’ বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে ভেবে মীরা অবশ্য তখন হাসিমুখেই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন। পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন শাহিদের।

প্রকাশ্যে রাগারাগি করার জন্য বিরাট কোহালি ও অনুষ্কা শর্মাও পাপারাৎজ়ির টার্গেটে থাকেন! বিয়ের পরে অবশ্য আর সে ভাবে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায় না তাঁদের। তবে বিয়ের আগে বেশ কয়েকটি ইভেন্টে তাঁদের টুকটাক মন কষাকষি দেখা গিয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে মনে রাখার মতো ‘সচিন: আ বিলিয়ন ড্রিমস’-এর স্ক্রিনিংয়ের ঘটনা। অনুষ্কা আর বিরাটের যুগলে ছবি তুলতে চাইছিলেন ফোটোগ্রাফাররা। তাই অনুষ্কা বিরাটের হাত ধরে এগোচ্ছিলেন। তখনই কিছু একটা ঝামেলা হয় তাঁদের মধ্যে। বিরাট অনুষ্কার হাত ছাড়িয়ে সোজা অন্য দিকে হাঁটা দেন! 

তবে এত রাগারাগির মধ্যেও প্রেমটা কিন্তু জমিয়েই করছেন এই সব জুটি। আসলে তারকারাও তো আমাদের মতোই মানুষ। 

তাই প্রেমের প্রকাশের মতো ক্ষোভের প্রকাশটাও তাঁদের পক্ষে স্বাভাবিক। অবশ্য আগে প্রকাশ্যে মনোমালিন্য এড়িয়েই চলতেন বেশির ভাগ তারকা। সেই দিন যে বদলে গিয়েছে, উপরের ঘটনাগুলো তারই উদাহরণ।