কবীর সুমনের দু’টি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে চর্চা-বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। পোস্টে তিনি পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায় এবং প্রযোজক দেবকে নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। প্রসঙ্গত, অনিকেতের ‘শঙ্কর মুদি’ এবং ‘হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রী’ ছবিতে সুরকার হিসেবে কাজ করেছেন সুমন। দ্বিতীয় ছবির প্রযোজক দেব। সুমনের অভিযোগ, ‘হবুচন্দ্র রাজার...’ সাংবাদিক সম্মেলনে অনিকেত ও দেব বলেন, ‘কবীর সুমনকে হ্যান্ডল করা কঠিন।’ শিল্পীর আপত্তি ‘হ্যান্ডল’ শব্দটি।

সুমন প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি দায়িত্ব সহকারে ছবির গান রেকর্ড করে দিয়েছেন। তার পরেও তাঁকে কেন অপমান করা হল? অনিকেতের বক্তব্য, ‘‘নেতিবাচক অর্থে ‘হ্যান্ডল’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। কবীর সুমন বড় মাপের শিল্পী। তাঁকে কতটা মর্যাদা দিতে পারব, সে প্রসঙ্গে ওই শব্দটি ব্যবহার করা হয়।’’ 

সুমন সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখার আগে একটি অনুষ্ঠানে এবং সংবাদমাধ্যমেও আপত্তি প্রকাশ করেন। তা দেখে অনিকেত হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষমাও চেয়ে নেন। তাতে বরফ গলেনি। সুমন ‘হবুচন্দ্র...’ থেকে তাঁর পাওনার কথা উল্লেখ করেন। এ ব্যাপারে অনিকেতের যুক্তি, ‘‘কবীরদা টাকার কথা বলতেই আমি অফিসে ওঁর পাওনা মেটানোর কথা বলেছিলাম। কিন্তু ওঁর সঙ্গে আমাদের কোনও কনট্র্যাক্ট হয়নি। সেটা ছাড়া কারও পাওনা দেওয়া সম্ভব নয়। কিছু নিয়ম মানতে হয় প্রযোজককে। আমি বা দেব কেউই চাইব না, কোনও শিল্পী তাঁর প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হন। কিন্তু চুক্তির কাজ এগোনোর আগেই উনি ফেসবুকে লিখে দিলেন!’’ 

সুমন বলেছেন, পর্দায় খেয়াল গাওয়ার জন্য তাঁকে প্রয়োজন ছিল। সেখান থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে অনিকেত জানালেন, ওই অংশটির শুটিং এখনও বাকি।  

সুমনের পোস্ট ঘিরে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই মনে করছেন, অনিকেত বা দেবের ‘ক্ষমা চেয়ে’ বিতর্ক মিটিয়ে নেওয়া উচিত। সুমনও দাবি করেছেন, প্রকাশ্যে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। তাই ক্ষমাও প্রকাশ্যেই চাইতে হবে। অনিকেতের কথায়, ‘‘আমি তো ওঁর কাছে আগেই ক্ষমা চেয়েছি। সবটাই ভুল বোঝাবুঝি। ওঁর মতো শিল্পীকে খাটো করা কারও উদ্দেশ্য হতে পারে না।’’