বইয়ের পাতা থেকে গোয়েন্দা কম পড়লে চিত্রনাট্যকাররা কলম ধরছেন গোয়েন্দা তৈরির জন্য। আসলে রহস্য রোমাঞ্চের কোনও মার নেই। যে কারণে গুপ্তধনের সন্ধান, রহস্য-রোমাঞ্চ ঘরানার ছবিও তৈরি হচ্ছে টলিউডে। সায়ন্তন ঘোষালের প্রথম ছবি ছিল ‘যকের ধন’। দ্বিতীয় ছবি ‘আলিনগরের গোলকধাঁধা’ও এই অ্যাডভেঞ্চার জঁরের। স্রেফ গুপ্তধন উদ্ধারের রহস্য নয়, বাংলার ইতিহাসের আনাচেকানাচে ঘুরে বেড়ায় গল্প। তার সঙ্গে আছে জটিল ধাঁধা। সব মিলিয়ে এ বারও হয়তো দর্শককে টানটান একটা ছবি উপহার দিতে চলেছেন টলিউডের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই পরিচালক!

হ্যাঁ, সায়ন্তনকে নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রথম সারির পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা সায়ন্তনের মধ্যে রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এসভিএফ তাদের অনলাইন বিনোদন মাধ্যম ‘হইচই’-এ সায়ন্তনকে ব্যোমকেশ বক্সী সিরিজের দায়িত্ব দিয়েছে। বড় পর্দার ব্যোমকেশকে মুঠোফোনের ব্যোমকেশ কিন্তু দিব্যি টক্কর দিচ্ছে।

রহস্য-রোমাঞ্চ জঁর সায়ন্তনের বেশ পছন্দের। প্রথম ছবি বাংলা সাহিত্যের ভাঁড়ার থেকে নিলেও দ্বিতীয় ছবির গল্প সৌগত বসুর লেখা। সায়ন্তনের কথায়, ‘‘কল্পনার উপাদান ‘যকের ধন’ ছবিতে রয়েছে অনেক বেশি। অন্য দিকে ‘আলিনগরের গোলকধাঁধা’য় ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। বাংলার ইতিহাসের পাতা ওলটানোর মধ্য দিয়ে জমজমাট রহস্যের সমাধান হবে।’’

গল্পে ঐতিহাসিক সম্পদ খুঁজে বের করার মধ্য দিয়ে একটা অন্য রকম সফর আছে। গল্পে আট জন ব্যক্তির কাছে আটটা চিঠি রয়েছে। ধাপে ধাপে সেই চিঠির ধাঁধার মীমাংসা করতে করতে কাহিনি এগোবে। আর শেষে দর্শকের জন্য একটা মোক্ষম চমক রয়েছে বলে জানালেন পরিচালক।

ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় দেখা যাবে অনির্বাণ ভট্টাচার্য, পার্নো মিত্র, কৌশিক সেনকে। অনির্বাণ জানালেন, চিত্রনাট্য দেখেই ছবি নির্বাচন করেছেন তিনি। পাশাপাশি ‘হইচই’-এ ‘ব্যোমকেশ’ করার সময় থেকেই সায়ন্তনের সঙ্গে অনির্বাণের একটা রসায়ন তৈরি হয়েছে। বললেন, ‘‘সায়ন্তনের সঙ্গে একটা আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে। আর সৌগত এত ভাল চিত্রনাট্য লিখেছে যে, না করার প্রশ্নই ওঠে না।’’ একই কথা বলছেন পার্নো মিত্র, ‘‘নতুন পরিচালকদের সব সময়েই উৎসাহ দেওয়া উচিত। সায়ন্তনের কাজ দেখলে আমার কথা বুঝতে পারবেন।’’

২৮ এপ্রিল স্পষ্ট হবে আলিনগরের ধাঁধায় দর্শক কতটা বিনোদন পেলেন!