প্র: চেহারা তো একেবারে বদলে ফেলেছেন!

উ: নিজের জন্যই করলাম। বয় নেক্সট ডোর ইমেজটা ভাঙতে চাইছিলাম। আসলে এই ইমেজটা আমি কোনও দিন চাইনি। বাণিজ্যিক ছবির হিরো বলতে যে লার্জার দ্যান লাইফ ব্যাপারটা মাথায় আসে, সেটা আমার দরকার ছিল। ‘বলো দুগ্গা মাইকী’র সময়ে রাজদা (চক্রবর্তী) সব অ্যাঙ্গল থেকে আমার ছবি নিতে পারেনি। কারণ আমাকে মোটা লাগছিল। এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে! অ্যাকশন ফিল্মের হিরোদের মতো চেহারা তো আমার ছিল না। বড় পর্দায় নিজেকে দেখে নিজেরই ভাল লাগছিল না। তাই ঠিক করেছিলাম, কাজ থেকে বিরতি নিয়ে মুম্বইয়ে গিয়ে নিজেকে গ্রুম করব।

প্র: মুম্বইয়ের গ্রুমিং পর্বের গল্পটা একটু বলুন।

 উ: সব কিছু এখানে থেকেও করতে পারতাম। কিন্তু নিজের কমফর্ট জ়োন থেকে বেরোনোটা দরকার ছিল। বন্ধুবান্ধব, পরিবারের থেকে আলাদা ছিলাম। ওখানে জিম করতাম, কিক বক্সিং, সুইমিং, জিমন্যাস্টিক্স করতাম। নাচ শিখেছি। আমার জীবনের একটা স্বপ্ন পূর্ণ হল বলতে পারেন।

প্র: মুম্বইয়ে কাজের চেষ্টা করলেন না কেন?

উ: ওখানে কিন্তু আমি বলিউডের লোকজনের মধ্যেই ছিলাম। দেশের সবচেয়ে নামী ট্রেনার আমাকে ট্রেনিং দিয়েছেন। যাঁর কাছ থেকে কিক বক্সিং শিখেছি, তিনি টাইগার শ্রফ আর দিশা পটানিকে শিখিয়েছেন। খুব ফোকাসড ছিলাম। এখানে অনেক কমিটমেন্ট ছেড়ে ওখানে গিয়েছিলাম। তাই ফিরে আসতামই।  আর শ্রীকান্তদা (মোহতা) আমাকে প্রমিস করেছিলেন, যদি নিজেকে বদলাতে পারি তা হলে এমন ছবি দেবেন যেখানে নিজেকে তুলে ধরতে পারব। কথাটা উনি রেখেছেন।

প্র: এক বছর যে বিরতি নিলেন, তাতে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়লেন না?

উ: নতুন কেউ তো এলও না (হাসি)! যারা আছে তারা আগেও ছিল। অ্যাভারেজ লুকিং হিরো হয়ে থাকার চেয়ে বিরতি নিয়ে নিজেকে তৈরি করে ফেরত আসাটা অনেক ভাল। ছবি ব্যর্থ হলে হিরোদের সেই দায় নেওয়া উচিত। জোর গলায় বলতে পারি, আমি এমন কিছু করিনি যে দর্শক আমাকে দেখতে হলে যাবেন। ইন্ডাস্ট্রিতে সে রকম নতুন কোনও হিরো আসেনি বলে হয়তো টিকে গিয়েছি। গল্প যেমনই হোক, বাণিজ্যিক ছবিতে হিরো একাই টেনে দিতে পারবে, এটাই  হওয়া উচিত। সেই কারণেই নিজের মেকওভার করলাম।

‘ভিলেন’-এ অঙ্কুশ

প্র: মাঝে শোনা গিয়েছিল, এসভিএফ-এর সঙ্গে আপনার সমস্যা হচ্ছে...

উ: আমি যা হয়েছি ওদের জন্যই। এসকে মুভিজ় থেকে শুরু করেছিলাম। কিন্তু হিরো হতে গেলে যে লাইফস্টাইল দরকার সেটা এসভিএফ আমাকে দিয়েছে। আগামী বছর ওদের সঙ্গে আমি তিনটে ছবি করছি। 

প্র: টলিউডে বাণিজ্যিক ছবির ভবিষ্যৎ কেমন বুঝছেন?

উ: দেখুন, বাণিজ্যিক ছবি আর অন্য ধারার ছবির সফল হওয়ার মাপকাঠি আলাদা। বাণিজ্যিক ছবি ঠিক মতো বানাতে পারলে সেটা আজও ব্যবসা দেবে। এখানে আমরা খুব হাফ হার্টেডলি ছবি তৈরি করেছি। এর মধ্যে আমার ছবিও আছে। সিটি-হাততালি দেওয়ার মতো ছবি তৈরিই হচ্ছে না। কমার্শিয়াল বানাতে গিয়ে অনেকে আবার মধ্যপন্থা নিয়ে নিচ্ছে। আর অন্ধের মতো রিমেক করা যাবে না। কিছু চ্যানেলে ডাব করে দক্ষিণী ছবি চালায়। যেগুলোর দারুণ টিআরপি। তা হলে দর্শক ওই ছবিগুলো হলে গিয়ে দেখবেন কেন? একটা সময়ে ওই রিমেকগুলোই হইহই করে চলেছে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। সময়ের সঙ্গে চলতে হবে। 

প্র: ‘ভিলেন’-এ নতুন কী আছে? 

উ: ফ্রেশ গল্প। রমণ মুম্বইয়ে স্ক্রিপ্টরাইটার। আব্বাস মস্তানকে অ্যাসিস্ট করত। ওর কাছে অনেক রকম বিষয় আছে। তার থেকে ‘ভিলেন’ বাছাই করা হল। এর পর আমি যেগুলো করব, সেগুলো রিমেক ছবি হবে না। 

প্র: প্রযোজনায় আসার ইচ্ছে আছে?

উ: যে সময়ে শুটিং করছি না, সেই সময়টা নিজেকে গ্রুম করতে চাই। নিজের শখ, আহ্লাদ পূরণ করতে চাই। একটা নতুন গাড়ি বুক করেছি, ফ্ল্যাট বুক করেছি। একটু আরাম করে থাকতে চাই এখন। চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশে গিয়ে প্রযোজনার কথা ভাবব। প্রযো়জক হলে যথেষ্ট টাকা নিয়ে নামতে হবে। কাজ করতে গিয়ে কিপটেমি করতে পারব না।

প্র: প্রযোজক হলে প্রেমিকা ঐন্দ্রিলাকে কাস্ট করবেন না? 

উ: আমি প্রযোজক হলে নিশ্চয়ই ওকে নিয়ে ছবি করব। তবে যে ছবিতে ঐন্দ্রিলাকে প্রয়োজন, সেখানেই। ঐন্দ্রিলাও সিনেমা করতে চায়। তবে এই মুহূর্তে সিরিয়াল নিয়ে খুব খুশি আছে। 

প্র: বিয়ে করছেন কবে?

উ: এক বছরের মধ্যেই হয়তো করব। সাত বছরের বেশি হয়ে গিয়েছে আমরা সম্পর্কে আছি। এ বার সেটল করার সময় এসেছে।