প্র:  ২০১৮ সালটা আপনার জীবনে নিশ্চয়ই খুব গুরুত্বপূর্ণ? 

উ: গোটা বছরটাই আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বছরের শুরুতে ‘পদ্মাবত’-এর ৩০০ কোটি টাকা উপার্জন নিঃসন্দেহে আমার কেরিয়ারের মস্ত বড় টার্নিং পয়েন্ট। আলাউদ্দিন খিলজির মতো নেগেটিভ চরিত্র করে আমি বিরাট ঝুঁকি নিয়েছিলাম। এ বছর ‘গাল্লি বয়’-এর শুটিং করেও দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। মুম্বইয়ের মিউজ়িক্যাল দিকটা ছবিতে খুব সুন্দর ভাবে দেখানো হয়েছে। হিপহপ, র‌্যাপ মিউজ়িকের আমি বরাবরই বিশাল ভক্ত। তার উপর আলিয়ার (ভট্ট) সঙ্গে আমার প্রথম ছবি, জ়োয়ার সঙ্গে দ্বিতীয়... কেরিয়ারে এ রকম উড়ানের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনেও অনেক টার্নিং পয়েন্ট এসেছে। আমার নানিকে হারিয়েছি। পরিবারের গুরুত্বও নতুন ভাবে উপলব্ধি করেছি। 

প্র:  বিয়ের কথা বললেন না? প্রায় এক মাস ধরে অনুষ্ঠান চলল, তার রেশ কি আদৌ কেটেছে? 

উ: সকলে বলছে, আমি নাকি গ্লো করছি (লজ্জা পেয়ে)! গত তিন মাস ধরে শুধু তিন ঘণ্টা করে ঘুমিয়েছি। দীপিকা আমার খুব খেয়াল রাখছে... আর কী বলি! যে ভাবে আমাদের বিয়ের প্রতিটা কাজ ও নিজের হাতে করেছে, সেটা অভাবনীয়! আমি স্বপ্নেও কোনও দিন ভাবতে পারিনি যে, এ রকম কিছু একটা ঘটতে পারে! সব একদম পারফেক্ট ছিল। আমি দীপিকাকে জিজ্ঞেস করতাম, এ রকম একটা বড় প্ল্যান এত নিখুঁত ভাবে ও কী করে সফল করে তুলল! এটা আমার আর দীপিকার জীবনের স্বর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। আর হ্যাঁ, একটা খুব মিষ্টি চেঞ্জ এসেছে... আমি কাজে বেরোলে ও ফোন করে জিজ্ঞেস করে, কখন বাড়ি ফিরছি। সেটা শুনলে মনটা আনন্দে ভরে ওঠে! বিবাহিত জীবনের প্রত্যেকটা মুহূর্ত আমি উপভোগ করছি। তরুণ প্রজন্মকে আমি বলব অবশ্যই বিয়ে করতে! 

প্র:  বিয়ের পরে অনেকেই একসঙ্গে ছবি করা ছেড়ে দিয়েছেন। বা করলেও সেই ছবি চলেনি। আপনি আর দীপিকা একসঙ্গে আর ছবি করবেন? 

উ: আই লাভ হার অ্যাজ় মাই কো-স্টার। অগুনতি ভক্তও আছেন, যাঁরা আমাদের একসঙ্গে দেখতে চান। অতীতে কে কী করেছেন, তাই নিয়ে চিন্তাভাবনা করব না। আমরা দু’জনেই ইন্ডিভিজুয়াল অ্যাক্টর। আমাদের মাথায় রেখে ভাল গল্পের প্রস্তাব এলে নিশ্চয়ই করব। আমি আর দীপিকা একসঙ্গে খুব দামি! 

প্র:  হনিমুনের কী প্ল্যান? 

উ: এই মুহূর্তে ‘সিম্বা’র প্রচার করছি বলে হাতে একদম সময় নেই। তবে প্রত্যেক বছর দীপিকার জন্মদিনে (৫ জানুয়ারি) আমি ব্রেক নিই। এ বারও নেব...

প্র:  ২০১৯ সালটা কেমন যাবে বলে মনে হচ্ছে? 

উ: ক’দিন আগেই ‘গাল্লি বয়’-এর টিজ়ার দেখলাম আর অভিনেতা হিসেবে মনে হল, আমার জায়গায় ছবিতে অন্য কাউকে দেখলে আমি জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে যেতাম! ‘গাল্লি বয়’ বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ছবিটা রিলিজ়ও করছে। আবার ‘এইট্টি থ্রি’-এর মতো ছবিতে কাজ করছি, যেটা ভারতের খেলার ইতিহাসের একটা মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অধ্যায় নিয়ে। হরিয়ানার এক ২৪ বছরের যুবক ক্রিকেটে দেশকে সর্বোচ্চ সম্মান এনে দিয়েছিলেন... এ রকম গল্প বলার সুযোগ যে আমি আর কবীর (খান) স্যর পেয়েছি, সেটাই আমাদের কাছে বিশাল ব্যাপার! ছবিতে আমরা সকলের প্রকৃত নাম এবং অনেক বাস্তব ঘটনার বিবরণ দেব। তাই সকলের অনুমতি নেওয়াটা খুব জরুরি ছিল। নাউ উই আর রেডি টু রোল।

প্র: এখন আপনার দায়িত্বটা কি অনেক বেশি? 

উ: টাকার দিক থেকে এবং ইমোশনালি আমার দায়িত্ব আগের চেয়ে বেড়েছে ঠিকই। আগে এ সব ব্যাপারে আমি খুব একটা মাথা ঘামাতাম না। এখন আমি আমার ভক্তদের সঙ্গে অনেক বেশি ইন্টার‌্যাক্ট করি। ওঁরা আমার জন্য অনেক সময় দেন, আমার ছবি দেখেন এবং নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানান। কিছু ভক্তকে তো আমি ব্যক্তিগত ভাবেও চিনি। আমার মা-বাবাও খুব সাধারণ মানুষ এবং ওঁরা আমার জন্য গর্ববোধ করেন। এখন চাই, আমার স্ত্রীও আমাকে নিয়ে গর্ববোধ করুক। আমার শ্বশুর-শাশুড়িও যেন আমার জন্য গর্ববোধ করেন। আর আমার টিম তো আমার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি কাজ করে। তাদের গর্বিত করাও আমার দায়িত্ব। 

প্র:  আপনার চরিত্র নির্বাচনে এখন থেকে কি দীপিকাও অংশ নেবেন? 

উ: এখন থেকে আমার প্রতিটা স্ক্রিপ্ট সেশনে দীপিকাকে নিয়ে বসব বলে ঠিক করেছি। দীপিকার স্ক্রিপ্ট সেন্স অসাধারণ! ও আমার জন্য খুব ভাল ক্রিয়েটিভ বাউন্সিং বোর্ড। আগের চেয়ে আমার স্ক্রিপ্ট নির্বাচনের ক্ষমতা এখন অনেকটাই পরিণত। চরিত্র নির্বাচনের প্ৰথম মাপকাঠি আমার কাছে গল্প। আগে তো এত আইডিয়াও ছিল না। তাই কাউকে ‘না’ বলতে পারতাম না। ‘এইট্টি থ্রি’ বা ‘তখত’ নিজেই বেছে নিয়েছি, সম্পূর্ণ নিজের সিদ্ধান্তে।