প্র: বক্স অফিস, চরিত্র, গল্প, টাকা...  কোনটা দেখে ছবি নির্বাচন করেন? 

উ: গল্প আর চরিত্র প্রথম বিবেচ্য। তার পরে বাকি সব কিছু। এই বছর যেমন দুটো নেগেটিভ চরিত্র করছি বলে ওই ধাঁচের অন্য ছবি আর করছি না। ইন্দ্রাশিস আচার্যের ‘পার্সেল’-এও ধূসর চরিত্র। তবে সবচেয়ে মজা পাই কমেডি চরিত্রে। সদ্য ‘থাই কারি’ করলাম। এখন কমেডি ছবি বড্ড কম হচ্ছে। সমাজের চার দিকে এত অস্থিরতা যে, মানুষ হাসতে ভুলে যাচ্ছে। আমি হাসিঠাট্টার মধ্যে থাকতে ভালবাসি। মজার চরিত্রে ক্লান্তি নেই। নেগেটিভ চরিত্র করলে মানসিক চাপ পড়ে। অয়ন চক্রবর্তীর ‘ষড়রিপু টু’তে চরিত্রটা ঠিক মতো করতে পারলে আমাকে দেখে দর্শকের রাগ হবে। 

প্র: এত বছর কাজ করার পরেও ‘ঠিক মতো’ কথাটা ব্যবহার করলেন!

উ: করলাম। কারণ কোনও চরিত্র করার আগে টেনশন হয়। মানুষের চাহিদা তো ক্রমশ বাড়ে। ‘এটা ঠিক আগের মতো হয়নি’— বলতে সময় লাগে না। বুঝতে পারি আগেরটা দেখে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। 

প্র: শেষ কোন ছবি করে স্যাটিসফায়েড হয়েছিলেন?

উ: একটি ছবি আমার অভিনেতা সত্তাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল, ‘চোলাই’। পাঁচটা চরিত্র করেছিলাম। তার মধ্যে চারটে চরিত্রকে মানুষ চেনেন। সেটা খুব কঠিন। ‘মেঘে ঢাকা তারা’ করে বুঝেছিলাম, চেনা মানুষকে ফুটিয়ে তোলা কঠিন। অচেনা ব্যক্তিত্ব নিজের মতো গড়ে নিতে পারব। 

প্র: অনেক ছবিই করছেন। তার মধ্যে বেশ কিছু ছবি রেকগনিশন পাচ্ছে না। খারাপ লাগে?

উ: আগে লাগত। এখন একটু অন্য ভাবে দেখি। অনেক শিল্পী সারা জীবন অভিনয় করেও স্বীকৃতি পান না। সে তুলনায় আমি তো অনেক বেশি পেয়েছি। তাই আক্ষেপ নেই। যখন থাকব না, তখন কতটা শূন্যতা তৈরি হচ্ছে সেটাই আসল। জীবিতকালে খুব কম আর্টিস্ট সেটা দেখে যেতে পেরেছেন। একটা চরিত্র ছিল, কিন্তু শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় ছাড়া আর কেউ পারবে না — এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়াটা অভিনেতার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওনা। কেউ কি পারল লালমোহনবাবুর চরিত্রে সন্তোষ দত্তকে রিপ্লেস করতে? বাবার খুব পছন্দের বই ছিল চ্যাপলিনের জীবনী। তাঁকে যদি ঠোক্কর খেতে হয়, তা হলে আমরা কোন ছার! 

প্র: মলাট চরিত্রের দাবি নেই? 

উ: প্রোটাগনিস্ট তো করেছি। ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘রংমিলান্তি’, ‘কেয়ার অব স্যার’... অনেক ছবিই আছে। আমার চেহারা তো হিরো মার্কা নয়। কাজেই এখনকার ট্রেন্ড অনুযায়ী খাপ খাওয়ানোটা সমস্যার। যেমন  চরিত্র আসে, তার মধ্য থেকে করি। 

প্র: এখনই তো বরং ট্রেন্ড বদলাচ্ছে। বলিউডের জোয়ার তো এখানেও...

উ: হ্যাঁ, এখন ধীরে ধীরে সেটা হচ্ছে বলেই আমার মতো অভিনেতারা সুযোগ পাচ্ছেন। যখন কম বয়স ছিল, তখন আমাদের সিনেমায় নেওয়া হতো না। বলা হতো, সিরিয়ালের অভিনেতাদের কেউ বড় পর্দায় দেখবে না। অথচ আজ দেখুন বড় পর্দায় নিয়মিত ভাবে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরা ছোট পর্দা থেকেই। তবে অনেকেই চান ছবিতে সুপারস্টারদের নিতে। কারণ তাঁরাও তো এখন অন্য ধরনের চরিত্র করছেন।

প্র: কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, অঞ্জন দত্তের ছবিতে আগে আপনি নিয়মিত ছিলেন। অনেক দিন ওঁদের সঙ্গে কাজ করেননি।

উ: অঞ্জনদার সঙ্গে শেষ ‘ব্যোমকেশ’ করেছি। কৌশিকদার সঙ্গেও করব কখনও। 

প্র: এসভিএফ-এর সঙ্গেও তো কাজ করছেন না।

উ: এর মধ্যে আর করা হল না। পরের ‘শবর’ কবে হবে জানি না। অন্য অনেক ছবিই আছে। ‘তারিখ’, ‘দ্বিখণ্ডিত’, ‘বসু পরিবার’ পরপর মুক্তি পাবে। ফ্লোরে আছে কিছু ছবি। হিন্দিতে মুকেশ ছাবরার ‘দিল বেচারা’ করলাম। ওয়েব সিরিজ়ের কথাও হচ্ছে... 

প্র: ‘কহানি’ হওয়ার পরে বলা হল আপনাকে টলিউড সে ভাবে ব্যবহার করেনি। তার পর শুরু হল, শাশ্বত অতিরিক্ত ছবি করছেন। এখনকার পরিস্থিতি কী?

উ: আমি জানি না। (একটু সময় নিয়ে) তোপসের চরিত্র করার পরে ওই বছরে দিন পনেরো কাজ করেছিলাম। গোটা বছরই বসে ছিলাম। এ সব না ভাবাই ভাল। 

প্র: সিগারেট ছেড়ে দিলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় এলেন। যাঁরা আপনাকে চেনেন, তাঁরা অবাক!

উ: সিগারেট ছেড়েছি বছর দেড়েক হল। ভেবেছিলাম পারব না। তার পর জেদ চেপে গেল। যিশু (সেনগুপ্ত) আমাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। যে-ই সিগারেট খেতে ইচ্ছে করত, যিশুর মুখ মনে পড়ত (হাসি)! আর সোশ্যাল মিডিয়ায় আসা তো আর একটা গল্প। আমার ফেক প্রোফাইল থেকে বিভিন্ন লোকের কাছে মেসেজ যাচ্ছিল। সাইবার ক্রাইম সেলে অভিযোগ করতে হল। তার পরে একটা অফিশিয়াল পেজ করা হল। আমি সেটা দেখিও না। ও সব বৌয়ের দায়িত্বে। সোশ্যাল মিডিয়ায় গিয়ে প্রোমোশন করা আমার দ্বারা হবে না। এখন দেখি ছবির প্রচারই বেশি হচ্ছে। ছবি তত দিন চলে না, যত দিন ধরে প্রচার হয়। আর এখন সবাই নিজের সময়মতো মোবাইলে ছবি দেখে নেয়। আমিই সময় পাই না হলে গিয়ে দেখার। অন্যকে দোষ দেব কী করে?