অনিল কপূরকে দেখে বোঝা মুশকিল, তাঁর বয়স ষাট ছাড়িয়েছে! পরিবার, নতুন ছবি... সব কিছু নিয়ে আড্ডা দিলেন খোলা মনে।

প্র: প্রথম বার মেয়ে সোনমের সঙ্গে এক ছবিতে অভিনয় করলেন। কী রকম অভিজ্ঞতা হল? 

উ: যে কোনও পেশাতেই যখন মা-বাবা তাঁদের ছেলে বা মেয়ের সঙ্গে কাজ করেন, তখন একটা আলাদা অনুভূতি হয়। আর সন্তান যদি সফল হয়, তখন তো সেটা খুবই স্পেশ্যাল। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে বাবা-ছেলের একসঙ্গে কাজের উদাহরণ অনেক বেশি। সেই অনুপাতে বাবা আর মেয়ের জুটি কিন্তু বেশ কম। আমি আর সোনম দু’জনেই ‘এক লড়কি কো দেখা তো অ্যায়সা লগা’ ছবির বাবা-মেয়ে চরিত্র দুটোর জন্য প্রযোজক এবং পরিচালকের প্রথম পছন্দ ছিলাম। আমাদেরও চরিত্রগুলো খুব পছন্দ হয়ে যায়। সোনমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তো দারুণ।  

প্র: প্রথম কবে মেয়ের কারণে গর্ব অনুভব করেছিলেন?

উ: যখন সোনম প্রথম বার সঞ্জয় লীলা ভন্সালীকে ‘ব্ল্যাক’ ছবিতে অ্যাসিস্ট করেছিল। মিস্টার বচ্চন থেকে রানি (মুখোপাধ্যায়), সঞ্জয়... সবাই সোনমের খুব প্রশংসা করত। শুধুমাত্র ওর কাজের জন্য নয়, এক জন মানুষ হিসেবে সকলে খুব ভালবাসতেন এবং বাহবা দিতেন। সেটা এক জন বাবা হিসেবে আমার কাছে খুব গর্বের। 

প্র: সোনমের কেরিয়ারে অনেক ওঠা-পড়া আপনি দেখেছেন। সেই সময়ে কী ভাবে ওঁর মনোবল বাড়াতেন? 

উ: সোনমের প্রথম দুটো ছবি ‘সাঁওয়ারিয়া’ এবং ‘দিল্লি ৬’ একদম চলেনি। তবে ‘দিল্লি ৬’ এর ‘মসককলি...’ গানটা থেকেই সোনমকে সকলে জানতে পেরেছিল। ওর সম্পর্কে আলোচনা হতো। প্রথম তিন বছর সোনমকে ভালই স্ট্রাগল করতে হয়েছে। আর আমার মনে হয়, সেটা খুব জরুরিও ছিল। সকলের কাজেই 

এ রকম একটা সময় থাকে, যখন তাঁকে প্রত্যাখ্যান, ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয়। আর সেই সময়ে পরিবার এবং বন্ধুদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, জীবনের খারাপ সময়ে পরিবার অনেক কিছু সামলে দিতে পারে।  

প্র: আপনাকে সবাই পজ়িটিভিটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর বলে থাকে। আপনি নিজে যখন খুব হতাশ থাকেন, তখন কী করেন?

উ: আমরা সবাই মানুষ। তাই বোধহয় প্রত্যেকের জীবনেই এমন অনেক সময় আসে, যখন কোনও কিছু ভাল লাগে না। তবে জানেন তো, ইটস অল ইন দ্য মাইন্ড। সে সময়ে অবশ্যই পজ়িটিভ মানুষের কাছে থাকা উচিত। বেড়াতে যেতে পারেন। সেই সঙ্গে গান শোনা, বই পড়াও মন ভাল রাখে। চেষ্টা করা উচিত, মন যাতে কোনও ভাবেই বিক্ষিপ্ত না হয়। 

প্র: আপনার পরিবার তো মহিলাপ্রধান...

উ: হ্যাঁ (হেসে)। আমার জীবনে প্রথম মহিলা আমার মা। তার পরে সুনীতা, আমার স্ত্রী। আমরা একে অপরকে ৪৫ বছর ধরে চিনি, চাইল্ডহুড সুইটহার্ট! যখন আমরা বিয়ে করি, তখন কিন্তু সুযোগ থাকলেও অন্য কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিইনি। ভালবাসাকেই গ্রহণ করেছিলাম। নিজের বিয়ের কথা কোনও দিন কারও কাছে লুকোনোর চেষ্টা করিনি। কেরিয়ারের চেয়ে সব সময়েই ভালবাসাকে প্রাধান্য বেশি দিয়েছি।