প্র: পায়ে তো চোট পেয়েছিলেন। কেমন আছেন?

উ: এখন বেটার। কিন্তু লেগ গার্ড পরে থাকতে হচ্ছে। এমনিতেই সুইট টুথ বলে আমার বদনাম আছে। একটা পার্টিতে গিয়ে একা হাফ কেজি কেক খেয়ে ফেলেছিলাম! পরদিন ভাবলাম, ওয়র্কআউটে বার্ন করে নেব। কার্ডিয়ো করছিলাম, একদম লাস্ট সেটে পড়ে গিয়ে হাঁটুর কাছে তিনটে লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেল! ডাক্তার তো কমপ্লিট বেড রেস্ট বলেছিল। কিন্তু ‘ক্রিসক্রস’-এর প্রোমোশন, ‘ভিলেন’-এর শুটিং নিয়ে এত ব্যস্ততা— বিছানায় শুয়ে থাকাটা জাস্ট হতো না!

প্র: মিমি মানেই টমবয়িশ চরিত্র। এটা ভাঙতে চান না?

উ: আমার কাছে কমফর্ট খুব বড় ব্যাপার। স্ট্রং-ইন্ডিপেন্ডেন্ট চরিত্রগুলোয় আমি নিজে খুব কমফর্টেবল। আর দেখেছি, প্রযোজক বা পরিচালকরা আমাকে এমন চরিত্রে ভাবেন, যেখানে মেয়েটি বেশ টাফ। তবে সে রকম ব্যাপার নেই যে, কোনও দিন ভাঙব না। বাট ইট হ্যাজ় টু বি ওয়ার্থ ইট।

প্র: ‘গানের ওপারে টু’-তে নাকি পুরনো কাস্ট নিয়েই কাজ হচ্ছে?

উ: তাই? জানি না তো! মানে, ‘গানের ওপারে টু’ যে হচ্ছে, সেটা জানি। আমার সঙ্গে সৃজিতের (মুখোপাধ্যায়) কথাও হয়েছে। কিন্তু আমাকে কিছু অফার করা হয়নি এখনও। আর কেরিয়ারের এই পয়েন্টে এসে এখন সিরিয়াল করতেও চাই না। মাঝে কিছু মুম্বইয়ের প্রজেক্টও ছাড়লাম, ওগুলো টিভির কাজ বলে।

প্র: শোনা যাচ্ছিল, অল্ট বালাজির ওয়েব সিরিজ়ে কাজ করছেন... 

উ: না, সে রকম কিছুও করছি না। এখন আমার প্রায়রিটি সিনেমা।

প্র: ‘পোস্ত’ আর ‘ধনঞ্জয়’-এর ‌অত প্রশংসার পরে ‘টোটাল দাদাগিরি’ তত সফল হল না। ব্যর্থতা কী ভাবে নেন?

উ: ব্যর্থতাই তো সবচেয়ে বড় কিক দেয়। এমন অনেক ছবিতে সই করে দিই, যেগুলো আমি জানি ওয়র্ক করবে না। কোন সাইকোলজি থেকে এটা করি, জানি না। বাট আই ডু ইট। আবার এ রকম অনেক ছবিও ছেড়ে দিই, যেগুলো জানি ওয়র্ক করবে, কিন্তু আমার কোনও লাভ হবে না। আসলে কাজের মধ্যে থাকার প্রসেসটা আমি খুব ভালবাসি। 

‘ক্রিসক্রস’-এ মিমি

প্র: মাঝখানে তো দুটো বাংলা ছবির কাজও ছাড়লেন। দেবের একটা আর সৃজিতের যে ছবিটার শুট চলছে। কেন?

উ: দেবের ছবিটা তো করতে চেয়েছিলাম বলেই সই করেছিলাম। কিন্তু তার পরে চিত্রনাট্য, আমার চরিত্র এইগুলো সে ভাবে ওয়র্ক আউট করল না বলে বেরিয়ে এলাম। আর সৃজিতকে বলেছি, এমন কোনও ছবি আমাকে অফার করতে, যেখানে ফোকাসে আমি থাকব (হাসি)।

প্র: ‘ক্রিসক্রস’-এর ইরার মধ্যে যেমন কেরিয়ার আর প্রেম নিয়ে দ্বন্দ্ব, আপনারও কি সে রকম কিছু আছে?

উ: না, এই একটা ব্যাপারে আমি খুব সর্টেড। আমার কাছে কেরিয়ারই আগে। আমাকে যারা এত দিন ধরে দেখছে, তারাও বলবে সে কথা।

প্র: রাজ-শুভশ্রীর বিয়েতে আপনাকে নিমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়নি। এটা ঠিক?

উ: হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন।

প্র: কিন্তু কেন? দেব তো নিমন্ত্রিত ছিলেন!

উ: (হাসতে হাসতে) এটা ওরাই বলতে পারবে। 

প্র: আপনার মা তো এখন আপনার সঙ্গেই থাকেন। বিয়ের কথা  বলেন না?

উ: উফ কেন! আমার তো মোটে ২৮ বছর বয়স! এখনই কেন বিয়ে করে নিতে হবে? আর আমার বিয়ে দেওয়ার এত ইচ্ছে যখন, আপনাদের কাগজে একটা পাত্রপাত্রীর বিজ্ঞাপন দিন না বরং!

প্র: মিমি চক্রবর্তী বিয়ে করবেন পাত্রপাত্রীর বিজ্ঞাপন দেখে, এটা মানতে হবে?

উ: (হাসি) বিশ্বাস করুন, বিয়ে নিয়ে জাস্ট ভাবছি না। এখন কেরিয়ারের যে জায়গায় আছি, সেখানে আমার ক্রাফ্ট, আমার পারফরম্যান্স— এগুলো নিয়েই ভাবছি। কারণ লোকে আমাকে যেটুকু চেনে, যতটুকু ভালবাসে, সেটা আমার কাজের জন্য। এটা না থাকলে তো আই ওয়াজ় আ নোবডি!

প্র: আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে লোকের আগ্রহ বেশি...

উ: আমি কিন্তু কখনওই নিজের ব্যক্তিগত স্পেস নিয়ে কারও কাছে গল্প করতে যাই না। বেশির ভাগ সময়ে দেখেছি লেখা হয়, মিমি নাকি এ রকম করেছে, তা হলে কি ব্যাপারটা এই... এ সব। কোথাও আমার কোট পাবেন না কিন্তু। এবং আমার মন্তব্য থাকে না বলেই লোকে ধারণা করে নেয়, মিমি এখানে গিয়েছে, ওখানে পার্টি করছে... এর ফলে মুশকিলটা কী হয় জানেন, আমার বাড়ির লোক ভীষণ চিন্তায় পড়ে যায়। কারণ আমি এমন একটা পরিবার থেকে এসেছি, যেখানে রাত ১০টা বাজলেই মা ফোন করে আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমি কোথায় আছি, শুটিং শেষ হয়েছে কি না। ফলে উল্টোপাল্টা সাক্ষাৎকার বেরোলে দশটা ফোন আর কুড়িটা টেক্সট মেসেজের যে ট্রমা, সেটা সাংঘাতিক! আমার মতে, ইমোশনাল জায়গায় খোঁচানো বন্ধ করা উচিত।