কুড়ি বছর ধরে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন স্মিতা বনসল। ‘বালিকাবধূ’ ধারাবাহিকে জগদীশের মায়ের চরিত্রে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। নতুন ধারাবাহিক ‘নজ়র’-এ তাঁকে‌ দেখা যাবে দিব্যার ভূমিকায়। ‘‘সুপারন্যাচারাল ড্রামায় আগে কাজ করিনি। শোয়ে অশুভ শক্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমার চরিত্রের মতো শুভ শক্তিও রয়েছে,’’ বললেন অভিনেত্রী। ‘বালিকাবধূ’র মতো প্রগতিশীল ধারাবাহিকের পরে এমন ফ্যান্টাসি ড্রামায় কাজ করলে মনে হয় না শিল্পী হিসেবে এক কদম পিছিয়ে গেলেন? স্মিতার জবাব, ‘‘ফ্যান্টাসি কল্পনাপ্রসূত। বাস্তব পৃথিবীর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। এই ধরনের ধারাবাহিকে শুধুই বিনোদন থাকে। কোনও বার্তা দেওয়া হয় না। অভিনেত্রী হিসেবে তো চাইব, নতুন জঁর এক্সপ্লোর করতে।’’

দুই মেয়ের মা স্মিতার চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁর মেয়েদের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। ‘‘বড় জনের বয়স ১৪ বছর। ছোট পাঁচ বছরের। আমি চাই না, আমার অভিনীত কোনও চরিত্রের জন্য স্কুলে মেয়েদের কথা শুনতে হোক। ওরা তেমন টিভি দেখে না। তবে অন্য বাচ্চারা তো দেখে। নেতিবাচক প্রভাব থেকে মেয়েদের দূরে রাখতে চাই।’’ কিন্তু এর জন্য কাজের সঙ্গে আপস করতে হয় না? ‘‘এখনও অবধি করতে হয়নি,’’ সাবধানী স্মিতা।

টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে কী কী পরিবর্তন দেখলেন? স্মিতার কথায়, ‘‘টেলিভিশন এমন একটা মাধ্যম যার প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। আমি বলব, এখন টিভির তৃতীয় প্রজন্ম চলছে। আমি যখন কাজ শুরু করেছি, তখন সাপ্তাহিক ধারাবাহিক হতো। তার পরে বছরের পর বছর ধরে চলেছে সিরিয়াল। এখন আবার সিরিজ় চলছে। বিষয়বস্তুও সব সময় বদলাচ্ছে।’’

মা হিসেবে বাচ্চাদের ভাল-মন্দ নিয়ে সব সময়ে ব্যস্ত থাকেন স্মিতা। তবে সেটে অপেশাদার আচরণ তিনি বরদাস্ত করেন না। সিডনি শেল্ডনের গল্প পড়তে ভীষণ ভালবাসেন। ‘‘সব ধরনের ফিকশন পছন্দ। তবে নন-ফিকশন পড়ি না,’’ বললেন তিনি। বরাবরই ভাল চরিত্রে অভিনয় করার সুবাদে স্মিতার সুপ্ত ইচ্ছে, ‘‘বাস্তবে কোনও দিন প্রতিশোধ নিতে পারব না। তাই পর্দায় তেমন কোনও চরিত্র পেলে খুব খুশি হব,’’ হাসতে হাসতে বললেন তিনি।