প্র: আপনিও কি অন্য নায়িকাদের মতো বয়স বলতে চান না?

উ: অন্যদের মতো কি না বলতে পারব না, ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে গিয়ে অনেক জিনিসেই আমরা অভ্যস্ত হয়ে যাই। এখানে কিছু লুকোনোরও নেই, ঘোষণারও নেই। যদিও আমাদের ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছুই থাকে না। আর সিনেমা করতে গিয়ে চরিত্রের বয়সটাই আমাদের বয়স হয়ে যায়। সেখানে চরিত্রটাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সেই বয়সের খোলসটার মধ্যে ঢুকে পড়তে হয়।

প্র: বেশ কায়দা করে প্রসঙ্গটা এড়িয়ে গেলেন!

উ: (হাসি)

প্র: ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু থাকে না বললেন। সেটা কি কোথাও খারাপ লাগা তৈরি করে?

উ: এটা গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের নিয়ম বলতে পারেন। আমি যদি বড় ডাক্তার হতাম কিংবা পাইলট, তা হলে কিন্তু আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কারও আগ্রহ থাকত না। এখানে ভাল লাগা, খারাপ লাগায় কিছু এসে যায় না। যে পেশার যে নিয়ম। ছোটবেলায় আমারও পরীক্ষা দিতে বা পড়াশোনা করতে ভাল লাগত না। কিন্তু করতে হতো। এখনও তাই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বাকিদের কৌতূহল সহ্য করতে হয়। নিজেকে এর জন্য তৈরিও করেছি।

প্র: জন্মদিন কতটা স্পেশ্যাল অনুভূতি নিয়ে আসে?

উ: আসলে কী জানেন তো, জন্মদিনটাও বিয়ের মতো। যার বিয়ে বা জন্মদিন, সে বাদ দিয়ে বাকি সকলে মজা করে। তাই আমার জন্মদিনের সব পরিকল্পনা বন্ধুরাই করে। পার্টি, খাওয়াদাওয়া বাকিদের মর্জি মতোই হয় আর কী (হাসি)! আমি অবশ্য কী গিফট আনছে, জিজ্ঞেস করে নিই। আগে বাইরে বেড়াতে যেতাম, ফোনও বন্ধ রাখতাম। এখন আর তা পারি না। কিছু মানুষ আছেন যাঁরা জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাবেনই। তাঁদের কথা ভেবেই আর ছেলেমানুষিগুলো করি না। এগুলো অবশ্য বছর চারেক আগের কথা।

প্র: অভিনয় জীবন তা হলে ছেলেমানুষি কমিয়ে দিয়েছে?

উ: বেশ ভাবনাচিন্তা করেই কমিয়েছি। জীবনে একটা ধাক্কা খেলে অনেক বদল আসে। মানুষ পরিণত হয়।

প্র: এটা কবেকার কথা বলছেন?

উ: ২০১৩ সাল। বিষয়টা ঠিক বলার মতো নয়। এটা একটা নিজস্ব অনুভূতি বলতে পারেন। সেই থেকেই অনেক ব্যাপারে নিজেকে সংযত করেছি। যদিও বন্ধুরা এখনও আমাকে ইমম্যাচিওর্ড বলে থাকে।

প্র: আপনার বেশ একটা বোল্ড ইমেজ রয়েছে। প্রেমজীবন নিয়ে অকপট, স্পষ্টবক্তা...এটাই কি আসল সোহিনী?

উ: (একটু থেমে) কেউ কারও হারিয়ে যাওয়া জিনিস ফেরত দিলে আমরা অবাক হই। কেন? ফেরত দেওয়ার স্বাভাবিক ব্যাপারটাই আমাদের চোখে লাগে। আমি বোল্ড বা স্পষ্টবক্তা হলে তো কারও কোনও ক্ষতি হবে না। এতে সমস্যা কোথায়? আর একটা সাক্ষাৎকারের গোটা দশেক প্রশ্নে কাউকে কতটা বোঝা যায়? কারও ব্যক্তিত্ব অল্প কয়েকটা প্রশ্নোত্তরে ধরা পড়তে পারে না। কত মানুষ আছেন, কী সুন্দর ডিপ্লোম্যাটিক উত্তর দেন। এ দিকে হয়তো পরিবারের কাছে তিনি পাক্কা ভিলেন।

প্র: স্পষ্টবক্তা সোহিনী কি নিজেকে সিঙ্গল বলবেন?

উ: আমার সাক্ষাৎকারে প্রেম সংক্রান্ত প্রশ্ন আসবেই (হাসি)। এই মুহূর্তে সিঙ্গল। পাঁচ দিন পর সিঙ্গল না-ও থাকতে পারি।

প্র: আপনার আগের সম্পর্কটা এখনও আছে বলে শোনা যায়...

উ: সম্পর্ক তো ও ভাবে ভাঙে না। মানুষ সম্পর্কগুলো থেকে সরে আসে। কিন্তু একটা রেশ থেকে যায়। ফোন নম্বরটা সেভ করা থাকে। আলাদা করে মান-অভিমান জমিয়ে রাখার মতো সময় কারও নেই।

প্র: সম্পর্ক ভাঙলে তা থেকে বেরিয়ে আসার পর্বও তো আছে...

উ: এখন বোধহয় সব কিছুই বেশ সহজ হয়ে গিয়েছে। ব্যস্ততা আর সময় মানুষকে অনেক কিছু ভুলতে সাহায্য করে। কাজের ফাঁকে হয়তো কিছু জিনিস মনে আসে, কিন্তু পরক্ষণেই কাজের চাপে সেটা আর স্থায়ী হয় না।

প্র: প্রেমজীবন নিয়ে তো আপনি মুখ খুললেন না। কাজের জায়গায় পায়ের তলার মাটি কেমন বুঝছেন?

উ: খারাপ নয়। ‘বিবাহ ডায়েরিজ’ হিট করেছে। ‘দুর্গা সহায়’ লোকের ভাল লেগেছে। কয়েকটা ছবির কথাবার্তা চলছে। এ ভাবেই অল্প কিন্তু ভাল কাজ করতে চাই।

প্র: অল্প কাজ করলে এক নম্বর জায়গাটা দখলে আসবে কী ভাবে?

উ: বেশি কাজ করলেই কি এক নম্বর হওয়া যায়?

প্র: টলিউডে প্রায় কারও ছবিই চলে না। তাই যে নায়িকার হাতে বেশি ছবি, তিনিই এক নম্বর।

উ: তা হলে আমি বলব প্রিয়ঙ্কাদি (সরকার) এখন এক নম্বর। ওই সবচেয়ে বেশি ছবি করছে। আসলে কীসের ভিত্তিতে এক নম্বর-দু’নম্বর হচ্ছে, সেটাই বোধগম্য হয় না! মুম্বইয়ের সঙ্গে বাংলার তুলনা করে কোনও লাভ নেই। এখানে আমরা অনেক কম টাকায় কাজ করি। লোকজনকে হাতেপায়ে ধরে সিনেমা হলে আনতে হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে নম্বর বিচার করে লাভ নেই।

 

ছবি: সুদীপ্ত চন্দ

মেকআপ: মৈনাক দাস

পোশাক ও স্টাইলিং: 

অঙ্কিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

লোকেশন: অ্যাস্টর