সিঙ্গল স্ক্রিন থিয়েটার ও বাংলা সিনেমাকে বাঁচানোর জন্য যখন গোটা ইন্ডাস্ট্রি একজোট হচ্ছে, তখন কয়েক জন হল মালিকের রেষারেষি কি পুরো উদ্যোগকে পিছনে ঠেলে দিচ্ছে?

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায় পরিচালিত ‘হামি’ মুক্তি পাচ্ছে কাল। গোটা বাংলায় ৯০টি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি পাবে। কিন্তু সেই তালিকা থেকে বাদ কলকাতার সাতটি হল— প্রিয়া, বসুশ্রী, প্রাচী, মেনকা, অজন্তা, অশোকা, মালঞ্চ। পরিচালক শিবপ্রসাদের অভিযোগ, ‘‘নবীনায় ‘হামি’ চালানো হলে এই সাতটি হলে ‘হামি’ দেখানো হবে না বলা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের পিছনে মুখ্য উদ্যোক্তা হলেন প্রিয়া হলের কর্ণধার অরিজিৎ দত্ত। অথচ নবীনা ও প্রিয়া দুটোতেই ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ চলছে। দু’টিতেই ‘রাজ়ি’ও মুক্তি পাবে। ইংরেজি-হিন্দি ছবির ক্ষেত্রে সমস্যা নেই। যত সমস্যা বাংলার ক্ষেত্রে। আজ ‘হামি’র সঙ্গে হচ্ছে। কাল অন্য ছবির সঙ্গে। এ ভাবে চলতে পারে না।’’

অন্য দিকে, অরিজিৎ দত্তকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন, ‘‘আপনাদের ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে। আমার হলে ‘দৃষ্টিকোণ’ খুব ভাল চলছে। ছবিটা নামাতে পারব না। ‘অ্যাভেঞ্জার্স..’-এর সঙ্গে আমি চুক্তিবদ্ধ। আর ‘রাজ়ি’র ডিস্ট্রিবিউটার্সের সঙ্গে অনেক দিনের সম্পর্ক। শিবুর ছবিকে নাইট শো দিতে পারি। ওরা সেটা নেবে না। তাই সেখানেও ‘রাজ়ি’ চালাচ্ছি।’’

অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের চাপানউতোর চলছেই। অরিজিতের কথা শুনে শিবপ্রসাদ বলেছেন, ‘‘নাইট শো দেওয়ার ব্যাপারে আমাকে কিছু বলা হয়নি। সাফ বলা হয়েছে, শো দেওয়া হবে না। আমার কাছে লিখিত প্রমাণ আছে। সিনেপলিসে রাত দশটার শো আছে। তা হলে প্রিয়ার নাইট শো আমি কেন নেব না?’’ ‘হামি’র প্রযোজক অতনু রায়চৌধুরীর কথায়, ‘‘এই সিদ্ধান্ত বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে আরও পিছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইংরেজি ও হিন্দির সঙ্গে আপস না করে বাংলাকে কোণঠাসা করা হচ্ছে। নবীনাকে শো দেব বলে কথা দিয়েছি। সেখান থেকে ফিরতে পারি না। দাবিটাও অন্যায্য।’’

মেনকার কর্ণধার প্রণব রায় বলছেন, ‘‘আমার হলে হিন্দি ছবির দর্শকই বেশি। বাংলা সে ভাবে চালাই না। ‘দৃষ্টিকোণ’ খুব ভাল চলছে, তাই নামানোর প্রশ্ন নেই। তবে নবীনার সঙ্গে রেষারেষির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’’ বাকি হল মালিকেরাও অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন। 

প্রিয়া এবং নবীনার মধ্যে প্রতিযোগিতার কথা ইন্ডাস্ট্রির সকলেরই জানা। তবে ওই সাতটি হলের মালিকরা কাগজে-কলমে কখনও বলেননি, নবীনাকে সিনেমা দেওয়ার জন্য তাঁরা ‘হামি’ চালাবেন না। ‘‘এ সব কথা তো কেউ লিখিত ভাবে বলে না। ইন্ডাস্ট্রির সকলেই জানেন, আমি মিথ্যে অভিযোগ করব না,’’ বলছেন শিবপ্রসাদ।

কিন্তু যে প্রেক্ষাগৃহ নিয়ে এত কাণ্ড, তার মালিক কী বলছেন? নবীন চৌখানির কথায়, ‘‘বিষয়টা শিবপ্রসাদের কাছ থেকে শুনলাম। শুনেছিলাম, ‘দৃষ্টিকোণ’-এর সময়ও একই ঘটনা ঘটে। আমি ‘দৃষ্টিকোণ’ চালাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ছবিটা আমাকে দেওয়া হল না। তবে সমস্যাটা কী, তা ওই সাত হল মালিকই বলতে পারবেন।’’

এ প্রসঙ্গে চাপানউতোর বেশি দিন চললে বাংলা সিনেমারই ক্ষতি, তা মানছেন সকলেই।