হলিউডে ভারতীয় অভিনেতাদের তালিকা বানাতে বসলে প্রথম দিকেই থাকবে ‘লিগ অফ একস্ট্রাঅর্ডিনারি জেন্টলমেন’-এ নাসিরউদ্দিন শাহ, ‘ইন্ডিয়ানা জোনস অ্যান্ড দ্য টেম্পল অব ডুম’-এ অমরীশ পুরী এবং ‘ইস্ট ইজ় ইস্ট’ অথবা ‘হান্ড্রেড ফুট জার্নি’তে ওম পুরীর নাম। কিন্তু তার মর্যাদা আসলে কতটা? নাসির, অমরীশ বা ওমকে কি একক নায়কের জায়গাটা কখনও ছে়ড়ে দিয়েছে হলিউড? প্রিয়ঙ্কা চোপড়া বা দীপিকা পাড়ুকোনরা যখন হলিউডে যান এবং কোনও ছবি করেন, দেশে তখন তাঁদের অভিনেত্রী হিসেবে পাশ্চাত্যে স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টা বড় হয়ে দাঁড়ায় ঠিকই, কিন্তু আন্তর্জাতিক স্তরে ঠিক কতটা অহংকারযোগ্য তাঁদের এই প্রাপ্তি?

হলিউড কিন্তু বরাবরই নজর রেখেছে ভারতীয় প্রতিভাদের উপর। নাসিরউদ্দিন বা ওম পুরীর পর সেই জায়গাটা ধরেছিলেন ইরফান খান। ভারতীয় পরিচালক মীরা নায়ারের ‘নেমসেক’-এ শুরু করেছিলেন, সেখান থেকে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে ‘আ মাইটি হার্ট’, তার পর ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’, ‘দি অ্যামেজ়িং স্পাইডার ম্যান’, ‘জুরাসিক ওয়র্ল্ড’ এবং ‘লাইফ অব পাই’ জু়ড়ে ইরফানের হলিউড কেরিয়ার। এবং দু’-একটা ছাড়া এক পলকে হারিয়ে ফেলার মতো চরিত্র নয় কোনওটাই। ‘মিশন ইমপসিবল: ঘোস্ট প্রোটোকল’-এ অনিল কপূরের যেমনটা ছিল!

ইরফান খান

কিন্তু টিভি সিরিজ় ‘কোয়ান্টিকো’ এবং ছবি ‘বেওয়াচ’-এর পর হলিউডে তেমন কোনও নামকরা প্রযোজনায় তো দেখা যাচ্ছে না প্রিয়ঙ্কাকে? অথচ তাঁকে ঘিরে এত প্রচার, স্পটলাইটের এত রমরমা! হয়তো সেই কারণেই মিডিয়ার সামনে উপস্থিতি বজায় রাখতে যে কোনও প্রচারে প্রিয়ঙ্কাকে থাকতেই হয়। র‌্যালফ লরেনের পোশাক পরে মেট গালায় সকলের নজর টানা বা মেগান মার্কেল এবং প্রিন্স হ্যারির রাজকীয় বিয়েতে নিমন্ত্রণ পেয়ে উপস্থিত থাকা বা নিক জোনাসের সঙ্গে ডেট করতে এখানে-ওখানে যাওয়া দেখে প্রশ্ন জাগে, প্রিয়ঙ্কার সোশ্যাল লাইফ বিদেশে যতটা মাইলেজ পাচ্ছে, তাঁর কেরিয়ারও ততটাই মসৃণ হচ্ছে তো? মাঝে ‘আ কিড লাইক জেক’-এ একটি পার্শ্বচরিত্র করেছিলেন প্রিয়ঙ্কা। কিন্তু সে ছবির ডিস্ট্রিবিউশন জোরালো নয় বলে বেশি লোক দেখেননি। যদিও সানডান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবির ওয়র্ল্ড প্রিমিয়ারে প্রশংসিত হয়েছিল প্রিয়ঙ্কার অভিনয়। 

প্রিয়ঙ্কা চোপড়া

 ও দেশেই বেশির ভাগ সময়টা প্রিয়ঙ্কাকে থাকতে হয়— কারণ প্রোমোশনাল ইভেন্ট, ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট এবং শুটিং শেডিউলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দুই মহাদেশে ডেলি প্যাসেঞ্জারিটা কার্যত অসম্ভব। ফলে বলিউডেও খুব বেশি উপস্থিতি নেই প্রিয়ঙ্কার। ভারতে তাঁর শেষ ছবি মুক্তি পেয়েছিল ‘জয় গঙ্গাজল’। তবে ‘বাজিরাও মস্তানি’তে দীপিকার ফার্স্ট লিডের পাশে প্রিয়ঙ্কা সেকেন্ড লিড করার পর ‘জয় গঙ্গাজল’ও বক্স অফিসে তেমন কল্কে পায়নি। এখন বলিউডের কেরিয়ারে স্রোত ফেরাতে অন্তত দু’-তিনটে পরপর হিট প্রয়োজন অভিনেত্রীর। বোধহয় সেই কারণেই সলমন খানের বিপরীতে ‘ভারত’-এ সই করেছেন প্রিয়ঙ্কা। অন্য দিকে ফারহান আখতারের সঙ্গে সোনালি বসুর ‘দ্য স্কাই ইজ় পিঙ্ক’-এর মতো একটি চ্যালেঞ্জিং ছবিতেও থাকছেন তিনি। আবার পোড় খাওয়া ব্যবসায়িকের মতো নিজের প্রযোজনা সংস্থার কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন চুটিয়ে। কিন্তু হলিউডে ‘ইজ়ন্‌ট ইট রোম্যান্টিক’ বলে যে ছবিতে তিনি লিয়াম হেমসওয়ার্থের সঙ্গে থাকবেন, সেই ছবিও মাল্টিস্টারার। ফলে সেখানেও তিনি কতটা ঔজ্জ্বল্য দেখাতে পারবেন, প্রশ্ন থাকছেই।

অন্য দিকে দীপিকা কিন্তু ‘ট্রিপল এক্স: জ়্যান্ডার কেজ’ করার পর নিজের ভারতীয় কেরিয়ারেই মন দিয়েছিলেন। একটি সুপারহিরোর চরিত্রে তাঁর থাকার কথা। কিন্তু সেই ছবি সম্পর্কে এই মুহূর্তে কিছু শোনা যাচ্ছে না। বিশাল ভরদ্বাজের সঙ্গে পরের ছবির ভবিষ্যৎও আশঙ্কাজনক, ছবির আর এক অভিনেতা ইরফান অসুস্থ বলে। ভারতীয় অভিনেত্রীদের কেরিয়ার ঠিক দিকে বয়ে যাক, এটাই কাম্য।